বিএনপি ভাবছে চাপে পড়বে সরকার

  হাসান শিপলু

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:৫১ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘ, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং সেখানকার থিঙ্কট্যাঙ্কের সঙ্গে বৈঠকের পর দলে ‘আত্মবিশ্বাস’ বেড়েছে বল মনে করছে বিএনপি। সেখানকার বৈঠকের সূত্র ধরে দলটি মনে করছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সরকার আরও চাপে পড়বে।

বিএনপির আন্তর্জাতিক উইংয়ের সদস্য এবং নিউইয়র্ক সফররত নেতাদের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, জাতীয় নির্বাচন ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি এ সফরে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল বোঝাতে সক্ষম হয়েছে, সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভ‚মিকা রাখা উচিত। নইলে এ অঞ্চলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে তা উল্লেখ করে বিএনপি।

দলের নেতাদের বিশ্লেষণ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিচারবহিভর্‚ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ, কোটা আন্দোলন, শ্রমিকের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের ওপর চাপ আসতে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর সরকারের ওপর এসব বিষয়ে চাপ তৈরি হলে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিরা শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু আমাদের সময়কে বলেন, সরকার গণতান্ত্রিক ও প্রতিনিধিত্বশীল নয়। এটা যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ জানে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের সংকটে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ ভ‚মিকা রাখে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও

সেই সম্ভাবনা আছে। তিনি বলেন, মালদ্বীপে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র জোরালো প্রচেষ্টা শুরু করেছে। কম্বোডিয়ার জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় সেই সরকারের সিনিয়র কয়েকজন মন্ত্রী ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিশ্চয়, বাংলাদেশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সেই রকম কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে, যেন দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হবে।

অবশ্য, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা কোনো চাপের কাছে মাথানত করবে না। গতকালও এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ক্ষমতায় আসার জন্য দেশের জনগণের আস্থা হারিয়ে বিএনপি এখন জাতিসংঘে গিয়ে কান্নাকাটি করছে। শনিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটউশনে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপ-কমিটির ওয়েবসাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি কত দেউলিয়া দল, কথায় কথায় নালিশ করে বিদেশে।

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় লন্ডন পৌঁছেন। সেখানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু অবহিত করে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাতেই তাদের লন্ডন ছাড়ার কথা রয়েছে। আজ বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

জাতিসংঘের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি বলেছে, ২০১৪ সালের বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘ কাজ করেছে। এবার তাদের করণীয় আছে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীলরসহ প্রতিনিধি দল। তারা নির্বাচনের পরিবেশের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলেছে, সরকার নির্বাচনের পরিবেশ ব্যাহত করছে, লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা এবং গুম, খুন চালাচ্ছে। জাতিসংঘও আগামী নির্বাচন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে সব পক্ষকে আহŸান জানিয়েছে।

জাতিসংঘের রাজনৈতিকবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক নেতা বলেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। জাতিসংঘ অনেক কিছু জানতে চেয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন।

শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে হুমায়ুন কবির ও তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, বৈঠকে বিএনপি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। জবাবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে, বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযেগ্যা নির্বাচন চায় তারা।

গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্টের দপ্তরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সঙ্গে মতবিনিময় করেন ফখরুল। এতে অন্তত ৫০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে বিএনপি নেতারা নির্বাচনের পরিবেশ এবং নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে ব্রিফ করেন। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপির মতামত জানতে চান স্টেট ডিপার্টমেন্ট। বিএনপি তাদের মতামত দিয়ে বলেন, এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অতীতের মতো সক্রিয় ভ‚মিকা রাখা উচিত। এ সময় স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে সেখানকার রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যই তাদের বক্তব্য।

বৈঠকে উপস্থিত দলের এক নেতা জানিয়েছেন, খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। আগামী মাসে বিএনপি স্টেট ডিপার্টমেন্টে আবার ফলোআপ বৈঠক করতে পারেন। বৈঠকে খালেদা জিয়ার মামলা, সাজা ভোগ এবং জামিনের বিষয়ে কথা বলেন। তারা অভিযোগ করেন, মিথ্যা অভিযোগে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিএনপি নেতারা মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তি।

থিঙ্কট্যাঙ্কদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন, কোটা পদ্ধতি ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় থিঙ্কট্যাঙ্করা জানতে চান, ক্ষমতায় এলে তারা কী ধরনের পরিবর্তন আনবেন। এ ব্যাপারে বিএনপি নেতারা ভিশন ২০৩০-এর আলোকে কথা বলেন।

ওসমান ফারুক জনসমক্ষে : মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির অপর দুই নেতা সকালে ওয়াশিংটনে একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। সেখানে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকও ছিলেন। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পরই বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার দীর্ঘদিন পর তাকে দলীয় কোনো নেতার সঙ্গে দেখা গেল। অনুষ্ঠানে বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকারী এক মার্কিন রাষ্ট্রদূতও ছিলেন বলে জানা যায়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে