sara

জাতিসংঘকে নির্বাচনে নজর দিতে অনুরোধ বিএনপির

জাতিসংঘ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পর এবার ইইউ ও যুক্তরাজ্য মিশন

  হাসান শিপলু

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:০৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর এখনই নজর দিতে জাতিসংঘের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি। সংস্থাটির সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর ‘উদ্যোগের’ কথা স্মরণ করিয়ে দলের নেতারা বলেছেন, ওই উদ্যোগের সফল সমাপ্তি হওয়া উচিত।

সম্প্রতি জাতিসংঘ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বৈঠকের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলের শীর্ষ পর্যায়ের নজরে আনার কাজ শুরু করেছে বিএনপি। গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোসøাভ জেনকার সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্কট্যাংকদের সঙ্গেও বৈঠক করে বিএনপি।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সদর দপ্তর ব্রাসেলস এবং যুক্তরাজ্য যাবে দলটির একটি প্রতিনিধি দল। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় পশ্চিমা রাষ্ট্র ও দাতা সংস্থাগুলোকে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার অনুরোধ জানাতে এ সফরগুলো হচ্ছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু আমাদের সময়কে বলেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী দল থাকাকালে কূটনীতিকদের কাছে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ব্রিফ করত। বিএনপিও সে কাজটি করছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েই জাতিসংঘ বিএনপিকে

আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সেখানে তারানকোর উদ্যোগের কথা মনে করিয়ে বিএনপি বলেছে, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বাধা কোথায়? তিনি বলেন, এর আগে কমনওয়েলথ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় হয়তো ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নেও যেতে পারে।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুনের বিশেষ দূত হিসেবে তিন দফা ঢাকায় আসেন তারানকো। প্রথমবার ২০১২ সালের ডিসেম্বরে, তার পর ২০১৪ সালের মে মাসে এবং সর্বশেষ ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর পাঁচ দিনের সফরে ঢাকা আসেন তিনি।

জানা গেছে, জাতিসংঘে বৈঠকের এক পর্যায়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর জাতিসংঘের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। জবাবে জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনের তো এখনো দেরি আছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর জবাবে বিএনপি বলেছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। সরকার নির্বাচন প্রচার শুরু করছে। কিন্তু বিএনপিকে সেই সুযোগ দিচ্ছে না। বরং বিভিন্ন ‘গায়েবি’ মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের হেনস্থা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পর দলের এক নেতার সঙ্গে সফরের নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। তার ভাষায়, এতদিন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। এবার সেই বৈঠকগুলো আরও উচ্চপর্যায়ে করছেন। এ জন্য জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর হয়েছে।

ওই নেতা বলেন, তারা নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নির্বাচনের পরিবেশের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ পরিবেশ তৈরি না হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।

গতকাল রাতে যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে। এতে মহাসচিব কমিটির সদস্যদের সফরের বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করেন। এ নিয়ে পরবর্তী করণীয় কী হতে পারে সে আলোচনায়ও করেন তারা।

কয়েকদিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দলের একটি প্রতিনিধি দলের ভারত সফরের কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তবুও নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে এ সফর হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

জানা গেছে, আগামী মাসে ব্রাসেলস ও যুক্তরাজ্য সফর ছাড়াও জাতিসংঘ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ফলোআপ বৈঠকে যাবেন বিএনপি নেতারা। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এভাবে দলের আন্তর্জাতিক উইংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বৈঠক করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছেন।

দলের নেতারা বলছেন, জাতিসংঘের আগের অধিবেশনে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটির আলোচ্য সূচিতে রোহিঙ্গা ইস্যু ছিল। এবারও রোহিঙ্গা ইস্যু থাকবে বলে মনে হচ্ছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি থাকতে পারে। যদি জাতিসংঘ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারে গোচরে এনে অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচনের চাপ সৃষ্টি করে, তা হলে সফর সার্থক হয়েছে বলে মনে করবেন তারা।

বিএনপির আন্তর্জাতিক উইংয়ের সদস্য এবং নিউইয়র্ক সফররত নেতাদের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, জাতীয় নির্বাচন ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি এ সফরে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। প্রতিনিধি দল বোঝাতে সক্ষম হয়েছে, সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রাখা উচিত। নইলে এই অঞ্চলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে তা উল্লেখ করে বিএনপি।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক উইংয়ের এক নেতা বলেন, বিএনপি এখনো নির্বাচনে যাবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তাই নির্বাচনের পরিবেশের ওপর তারা গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ এখনই নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এমনিতে নির্বাচনী মাঠ অসমতল। এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গটিও আলোচনায় আনেন তারা। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াকিবহাল। বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টাও করছেন। এ জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশ নির্বাচনের পর বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার বক্তব্যই যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে