কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

  রহমান জাহিদ

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:৩২ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলায় বর্তমানে ৪৯ আসামির বিরুদ্ধে বিচার চলছে। এর মধ্যে হত্যা মামলার আসামি ৪৯ এবং বিস্ফোরক আইনের মামলার আসামি ৩৮ জন। তাদের মধ্যে পলাতক বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩৮ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের অভিযোগ এনেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আর সাবেক ১১ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আসামিদের মধ্যে তারেক রহমানসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১২০-বি, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের

৩, ৪ ও ৬ ধারায় চার্জ গঠন হয়। দণ্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারায় মানুষ হত্যার অভিযোগে এবং ১২০-বি ধারায় হত্যার অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগের উভয় ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অপর ধারাগুলো আঘাত, গুরুতর আঘাত ও হত্যাচেষ্টার। অন্যদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ধারায় বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রাণহানির অভিযোগে এবং ৬ ধারায় অর্থ, পরামর্শ ও বিস্ফোরক দিয়ে সহায়তার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডের বিধান রয়েছে।

তারেক রহমানসহ ৩৮ আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি আইনের ৩০২ ও ১২০-বি ধারায় এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ও ৬ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড ও সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় হতে পারে।

অন্যদিকে আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরীসহ ৬ সরকারি কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ৭ বছর এবং সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদাসহ ৫ জনের সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ডের ধারার অভিযোগে বিচার হচ্ছে। দণ্ডবিধির ১২০-বি, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩, ৪ ও ৬ ধারায় বিচার চলা ৩৮ জন হলেন-তারেক রহমান, বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমালের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, তৎকালীন বিএনপিদলীয় এমপি কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ, বিএনপিদলীয় ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. হানিফ, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক আবদুর রহিম ও রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, হরকাতুল জিহাদ নেতা আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মাদ ওরফে জিএম, শেখ আব্দুস সালাম, কাশ্মীরি নাগরিক আব্দুল মাজেদ ভাট, আব্দুল হান্নান ওরফে সাব্বির, মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা শাওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, বাবু ওরফে বাতুল বাবু, মুফতি হান্নানের ভাই মুহিবুল্লাহ মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাইদ ওরফে ডাক্তার জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলুবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, শাহাদত উল্যাহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহমেদ তামিম, মইনুদ্দিন শেখ ওরফে আবু জান্দাল, আরিফ হাসান সুমন, মো রফিকুল ইসলাম সবুজ, মো. উজ্জল ওরফে রতন, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুনছালিন, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার ও মাওলানা লিটন।

সর্বোচ্চ ৭ ও ৫ বছর কারাদণ্ডের ধারায় বিচার চলা ১১ আসামি হলেন-সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হক, পুলিশের সাবেক ডিসি (পূর্ব) মো. ওবায়দুর রহমান, সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) খান সাইদ হাসান, লে. কমান্ডার (অব) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লে. কর্নেল (অব) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার, মেজর (অব) এটিএম আমিন, তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপি পরবর্তীতে আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ৩ তদন্তকারী কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ। উপরি-উক্ত ১১ সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে আসামি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক, ডিউক, সাইফুল ইসলাম ও এটিএম আমিনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১২ ও ২১৭ ধারায় চার্জ গঠন হয়।

দণ্ডবিধির ২১২ ধারায় মুত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অভিযুক্ত আসামিদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে সর্বোচ্চ দণ্ড ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

অন্যদিকে দণ্ডবিধির ২১৭ ধারায় কোনও ব্যাক্তিকে শাস্তি থেকে বাঁচানোর জন্য সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আইনের বিধান পালন না করার অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। উভয় ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তির কথা বলা থাকলেও সর্বনিম্ন শাস্তি উল্লেখ নেই। আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতার ওপর তা নির্ভর করে।

আসামি ওবায়দুর রহমান ও খান সাইদ হাসানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয় দণ্ডবিধির ২০১, ২১২ ও ২১৭ ধারায়। দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অপরাধীকে বাঁচানোর জন্য সাক্ষ্য-প্রমাণ অদৃশ্য করে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করার অভিযোগে অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ বছর এবং যাবজ্জীবন অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই ধারায়ও সর্বনিম্ন শাস্তির কথা উল্লেখ নেই।

আসামি খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমিন, মুন্সি আতিক, আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয় দ-বিধির ২১৮ ও ৩৩০ ধারায়। দণ্ডবিধির ২১৮ ধারায় কোনো অপরাধীকে শাস্তি থেকে বাঁচানোর উদ্দেশে ভুল রেকর্ড বা দলিল প্রস্তুত করার অভিযোগে সর্বোচ্চ ৩ বছর এবং ৩৩০ ধারায় ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো নিরাপরাধীকে স্বীকারোক্তি আদায়ে বাধ্য করতে মারধর করার অভিযোগে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। উভয় ধারায় সর্বনিম্ন দণ্ডের কথা বলা নেই।

এদিকে ট্রাইব্যুনাল সূত্র বলছে, তারেক রহমানসহ বিএনপির অভিযুক্ত ৭ নেতার এবং সাবেক দুই গোয়েন্দা প্রধানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০-বি, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩, ৪ ও ৬ ধারায় চার্জ গঠন হলেও তারা মূলত দণ্ডবিধির ১২০-বি এবং বিস্ফোরক আইনের ৬ ধারায় অভিযুক্ত। কারণ তাদের বিরুদ্ধে অপরাধীদের সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। দণ্ডবিধির ১২০-বি ধারায় উল্লেখ রয়েছে, কোনো ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা ২ বছর বা ততোধিক মেয়াদের কারাদন্ডে দণ্ডনীয় কোনো অপরাধের ষড়যন্ত্র করে থাকলে সেই ব্যক্তিও একই অপরাধে অভিযুক্ত হবেন।

অন্যদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৬ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি স্থান, অর্থ, পরামর্শ অথবা বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহ করে সহায়তা করে, তবে সেই ব্যক্তি একই অপরাধে অভিযুক্ত হবেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে