‘জাতীয় ঐক্য’ জাতির জন্য হুমকি : ১৪ দল

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৩১ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নেতা ও এর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণাকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ১৪ দলের মতবিনিময়সভায় বক্তারা বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চিহ্নিত ব্যক্তিরা পরাজিত ও হতাশ রাজনীতিবিদদের নিয়ে চক্রন্তে লিপ্ত। যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের এই ঐক্য জাতির জন্য হুমকি।

তারা বলেন, আদর্শ ছাড়া কোনো ঐক্য হতে পারে না। এ সম্পর্কে জনগণকে জানাতে হবে। এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১৪ দলের উদ্যোগে যে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে বিএনপি-জামায়াত ও যুক্তফ্রন্টের নেতাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে বলেও জানান তারা।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভার বক্তব্যে আগামী নির্বাচনের করণীয় ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা উঠে আসে। এ সময় আগামী নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে জনবিচ্ছিন্ন এমপি-মন্ত্রী কিংবা প্রভাবশালী নেতাদের নৌকার মনোনয়ন না দেওয়ার পক্ষে মত দেন তারা।

সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা-ারী এমপি ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, জাসদের সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুর রহমান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসূফ হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চিহ্নিত ব্যক্তিরা পরাজিত ও হতাশ রাজনীতিবিদদের নিয়ে চক্রান্ত শুরু করেছে। এই চক্রান্ত প্রতিহতের কথা বলব না, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে লড়েই বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান দাবি করে নাসিম বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। বিএনপি-জামায়াতকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যে কোনো মূল্যে তাদের ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে।

সভায় রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় আমরা মাঠে নামতে পারিনি। তার পরও মাঠ ছাড়িনি। বিএনপি-জামায়াত গত দশ বছরে আন্দোলন করতে পারেনি। কারণ তারা কী নিয়ে আন্দোলন করবে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নয়।

হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও না নেওয়ার ওপর ১৪ দলের ঐক্য নির্ভর করছে না। যত দিন পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক অপশক্তি নির্মূল না হবে, তত দিন পর্যন্ত এ ঐক্য থাকবে। সংখ্যালঘু, সংস্কৃতিকর্মী ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ডিসেম্বর মাসের মহাপরীক্ষার নির্বাচনে বিজয়ী হতে হবে।

শাজাহান খান বলেন, যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের ঐক্য জাতির জন্য হুমকি। কারণ আদর্শ ছাড়া কোনো ঐক্য হতে পারে না। এ সম্পর্কে জনগণকে জানাতে হবে। তিনি বলেন, আগামী অক্টোবরের পর বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচাল করতে নাশকতার যে ষড়যন্ত্র করেছে, তা প্রতিহত করার জন্য পাল্টা পরিকল্পনা থাকতে হবে এবং সে অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

শাহরিয়ার কবির বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে নিয়ে কখনো ইনক্লুসিভ নির্বাচন হতে পারে না। কারণ জাতীয় ঐক্য হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধীদের কখনো ঐক্য হতে পারে না।

আগামী নির্বাচনে নৌকার জয় নিশ্চিত করতে বিতর্কিত ও জনবিচ্ছিন্ন এমপি-মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের মনোনয়ন না দিতে ১৪ দলের নেতাদের পরামর্শ দেন শাবান মাহমুদ। তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সব পেশার মানুষকে এক কাতারে আসতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সব ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে হবে।

ঢাকা দখলে রাখার ঘোষণা : এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নগর ১৪ দলের এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রাজধানীতে বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির সমাবেশের আগে ঢাকা দখলে রাখার ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট। জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চক্রান্তকারীরা মাঠে নামবে। আমরা দেখব, কারা মাঠে নামবে আর কে নামবে না। আগে থেকেই ঢাকা দখলে ছিল আমাদের, ইনশাআল্লাহ আগামীতেও ঢাকা আমাদের দখলে থাকবে। শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশ শেখ হাসিনার দখলে থাকবে।

জোটের নেতাকর্মীদের যে কোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা এলাকায় প্রস্তুত থাকবেন, যেন ওই অপশক্তি মাঠে নামতে না পারে। ওদের মাঠে প্রতিহত করবেন, রাস্তায় প্রতিহত করবেন। আগামী একটা মাস আপনাদের কোনো কাজ নেই। ১৪ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় আপনারা সজাগ থাকবেন।

গত সোমবার ১৪ দলের এক সভা শেষে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ২৯ সেপ্টেম্বর সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি তাদের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশের তারিখ ২ দিন পিছিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর করার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। বিএনপির সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়ায় পরেই এ মন্তব্য করেন মোহাম্মদ নাসিম।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে