কর্মশালায় বক্তারা

দেশে প্রতিদিন ২৮ আত্মহত্যা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:১০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে বছরে ১০ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন আত্মহত্যা করে। বিভিন্ন গবেষণার তথ্যমতে আত্মহত্যাকারীর মধ্যে ৫৮ থেকে ৭৩ শতাংশই নারী।

রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ‘গণমাধ্যমে আত্মহত্যাবিষয়ক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা’ শিরোনামে কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (এনআইএমএইচ) এই কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মোহিত কামাল বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে এ ধরনের সংবাদ কী ধরনের হওয়া উচিত, তার একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সব গণমাধ্যম এই গাইডলাইন মেনে চললে আত্মহত্যা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৬৫ লাখ মানুষ আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই অল্প বয়সী এবং ৮৯ শতাংশ নারী। বাংলাদেশে প্রতি লাখে আত্মহত্যার হার ৭ দশমিক ৮ জন। প্রতি লাখে পুরুষের হার ৬ দশমিক ৮ এবং নারীর হার ৮ দশমিক ৭ জন। ২০১২ সালে বাংলাদেশে ১০ হাজার ১৬৭ জন আত্মহত্যা করে। এর মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৩৯৪ এবং নারী ৫ হাজার ৭৭৩ জন। বিভিন্ন গবেষণার তথ্যমতে মোট আত্মহত্যার মধ্যে ৫৮ থেকে ৭৩ শতাংশ হচ্ছে নারী।

আত্মহত্যার কারণ ও ঝুঁকি সম্পর্কে ডা. হেলাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, মানসিক অসুস্থতা, যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন, দাম্পত্য কলহ, প্রেম ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, উত্যক্তকরণ, অনাকক্সিক্ষত গর্ভধারণ, লোকলজ্জার ভয়, দ্রুত নগরায়ণ ও পরিবারতন্ত্রের বিলুপ্তি, নৈতিক অবক্ষয় ও অপরাধ-পরবর্তী আত্মহত্যা, অপরকে অনুকরণ করে আত্মহত্যা।

সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আত্মহত্যার উপকরণের সহজপ্রাপ্তি হ্রাস, ঝুঁকি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ সহায়তা প্রদান, সামাজিক বন্ধন দৃঢ়করণ, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসন, মানসিক রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা, কুসংস্কার, নারীর ক্ষমতায়ন, সার্বক্ষণিক সহায়তা দিতে হেলপলাইন চালু করলে আত্মহত্যার প্রবণতা কমবে বলে তিনি মনে করেন।

ডা. হেলাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী আত্মহত্যার সংবাদটি প্রথম পৃষ্ঠায় বা অন্যত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রকাশ করা যাবে না। শিরোনামে এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়, যা পাঠককে উদ্দীপনার খোরাক জোগায়। শিরোনাম সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত। শিরোনামে যেন এমন বার্তা না থাকে, যাতে মনে হয় আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান। আত্মহত্যার বিবরণ না দেওয়া, কোনো ছবি বা ফুটেজ প্রকাশ না করা, আত্মহত্যার সুইসাইড নোট প্রকাশ না করা, সেলিব্রেটিদের আত্মহত্যার খবর দ্বিগুণ সতর্কতার সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে।

কর্মশালায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন নাহার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কান্ট্রি অফিস ঢাকার ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট হাসিনা মমতাজ বক্তব্য রাখেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে