পাইপলাইনের ৮০ শতাংশ পানিতে ডায়রিয়ার জীবাণু

বিশ্বব্যাংকের গবেষণা প্রতিবেদন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:১২ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের পাইপলাইনে সরবরাহ করা ৮০ শতাংশ পানিতে ই-কলাই ভাইরাস বা ডায়রিয়ার জীবাণু রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা পেলেও তার বেশিরভাগ অনিরাপদ। পাইপলাইনে সরবরাহকৃত পানির ৮০ শতাংশে এবং নলকূপ ও গভীর নলকূপ থেকে উত্তোলিত পানির ৪১ শতাংশে ডায়রিয়ার জীবাণুুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। জীবাণুর উপস্থিতির এ হার পল্লী অঞ্চলের পুকুরে ব্যাকটেরিয়া উপস্থিতির হারের প্রায় সমান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডায়রিয়ার জীবাণু ছাড়াও এ পানিতে ১৩ শতাংশে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেটে আর্সেনিকের প্রভাব বেশি। উপকূলের মানুষ সবচেয়ে বেশি নিরাপদ পানির ঝুঁঁকিতে রয়েছে। কারণ এ অঞ্চলের পানিতে লবণাক্ততার হার দ্রুত বাড়ছে। উচ্চ থেকে নিম্নবিত্তÑ সব পর্যায়ের মানুষ জীবাণুযুক্ত পানির কারণে পেটের পীড়া, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছে। এর মধ্যে দরিদ্ররা উচ্চবিত্তদের চেয়ে তিনগুণ বেশি পীড়ায়

ভুগছে বলে জানায় সংস্থাটি।

মূলত অপর্যাপ্ত পরিশোধন ও অনিয়মিত প্রবাহের কারণে বাংলাদেশের পানিতে ই-কোলাই জীবাণুর হার বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। এ ছাড়া পানির সরবরাহ লাইনে ত্রুটি ও ছিদ্রের কারণেও ঝুঁকি বাড়ছে। দেশের অধিকাংশ শিশুই ঝুঁঁকিতে রয়েছে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনটিতে। নাগরিকদের নিরাপদ ও কার্যকর পানি-স্যানিটেশন সেবা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিরিন জোমা, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের। অনুষ্ঠানে মূল প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জর্জ জোসেফ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরাঞ্চলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। পানি ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার ডেলটা প্ল্যান নিয়েছে। আগামী ১০০ বছরে পানি ব্যবস্থাপনায় কী কী করা হবে, তার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিরিন জোমা বলেন, বাংলাদেশ পানি সরবরাহে উন্নতি করেছে। এখন সময় এসেছে নিরাপদ পানি সরবরাহে মনোযোগ দেওয়ার। পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার গুণগত মান খারাপ হওয়ায় অনেক সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে। দেশের এক-তৃতীয়াংশ শিশু খর্বাকায় এবং তাদের শিক্ষার ধারণক্ষমতাও কম বলে জানান তিনি।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে