টাইগারদের দাপুটে জয়ে শুরু

  এম.এম. মাসুক

২২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:৫১ | প্রিন্ট সংস্করণ

ম্যাচসেরার পুরস্কার নেওয়ার পর অনুমিতভাবেই সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন ইমরুল কায়েস। ১০ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরি পেয়েছেন। খেলেছেন ক্যারিয়ারসেরা ১৪৪ রানের ইনিংস। আগে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি সেঞ্চুরি পেলেও দল জেতেনি। এবারের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেছেন। তাই আনন্দের বাড়তি শিহরণ ইমরুল কায়েসের মধ্যে। ইমরুলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সুবাদে জিম্বাবুয়েকে ২৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ জয়ের নায়ক ইমরুল জানান, ক্যারিয়ারে এই সেঞ্চুরিকে আলাদাভাবেই রাখছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের পঞ্চপা-ব হলেন মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। এর মধ্যে ইনজুরি ছিটকে দিয়েছে সাকিব-তামিমকে। এই পঞ্চপা-বের বাইরে এবার ইমরুল ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। দলে ফিরে সাইফুদ্দিনও আলো কেড়েছেন। বোলিংয়ে তরুণ মিরাজ অবদান রেখেছেন। তারুণ্যের ঝলমলে পারফরম্যান্সে আলোকিত হয়েছে বাংলাদেশও।
শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের ৪৯ রান দরকার ছিল। মাহমুদউল্লাহর ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে বল ও রানের ব্যবধান কমিয়ে আনেন কাইল জার্ভিস। আবার বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে হয়নি। ব্যাটে বল চুমু খেয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকের হাতে জমা হয়। আউট হন জার্ভিস। শেষ ওভারে সমীকরণ আরও কঠিনতর হয়। ৬ বলে ৩৬ রান দরকার। অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করতে হবে। সেটি পারেনি জিম্বাবুয়ে। ২৮ রানের জয় পেয়ে বাংলাদেশ তিন ওয়ানডে ম্যাচ সিরিজে এখন ১-০ তে এগিয়ে। ওয়ানডে ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা ১১ ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। ঘরের মাটিতে আফ্রিকান দেশটির বিপক্ষে টানা ১৪ ম্যাচে অপরাজেয় টাইগাররা। আগামী ২৪ ও ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের বাকি দুটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে।
দুই বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে আবারও সেঞ্চুরি পূর্ণ করেই ব্যাট-দোলানো উদযাপন করেন ইমরুল কায়েস। কদিন আগেই সন্তানের বাবা হয়েছেন। বাবা হওয়ার পর সেঞ্চুরি পেলেন। ইমরুলের উদযাপন স্মরণ করিয়ে দিল ব্রাজিলের ফুটবলার বেবেতোর কথা। এই উদযাপনের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন এই ফুটবলার। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে গোল করে সন্তানকে উৎসর্গ করেছিলেন বেবেতো। ইমরুল সেঞ্চুরি করে সন্তানকে উৎসর্গ করলেন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা মুঠোফোনের ফ্লাশলাইটের আলো জ্বালিয়ে ইমরুলকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।
ইমরুলের সেঞ্চুরিতেই ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। মিরপুরের উইকেটে জয়ের জন্য এই রানের পুঁজি আদর্শ। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে জিম্বাবুয়ের সূচনাটা ভালোই হয়েছিল। মাশরাফি-মিরাজ মিলে প্রথম ৭ ওভার করেও উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে পারেননি। অষ্টম ওভারে বল হাতে নিয়েই জ্বলে ওঠেন মোস্তাফিজ। এই বাঁহাতি পেসারের প্রথম বলেই স্টাম্প ভেঙে যায় সেফাস ঝুয়াওর (৩৫)। এর পর নাজমুল ইসলাম অপুর ঘূর্ণিজাদুতে ব্রেন্ডন টেলর ও সিকান্দার রাজার উইকেট তুলে নেন। অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা রানআউট হলে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। এ বিপর্যয় কাটিয়ে না উঠতেই জিম্বাবুয়ে আরেকটি ধাক্কা খায় উইকেটে থিতু হওয়া ক্রেইগ আরভিন সাজঘরে ফেরায়। মিরাজের বলে বোল্ড হন আরভিন (২৪)। উইলিয়ামস লড়াই করেছেন। নবম উইকেটে জার্ভিসের সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি গড়ে হারের ব্যবধান কমিয়েছেন উইলিয়ামস। জার্ভিস ৩৭ রানে আউট হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন উইলিয়ামস। মিরাজ ৪৬ রানে ৩ উইকেট পান। নাজমুল পান ২ উইকেট।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল হতাশার। ষষ্ঠ ওভারের মধ্যে লিটন দাস ও অভিষিক্ত ফজলে মাহমুদ রাব্বির উইকেট হারায়। তৃতীয় উইকেটে ইমরুল-মুশফিক ৪৯ রান তোলে এ বিপর্যয় কিছুটা সামাল দেন। দলীয় ৬৬ রানে মুশফিককেও ড্রেসিংরুমে ফিরিয়ে দিয়ে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের বোলাররা। তবে চতুর্থ উইকেটে মিঠুনের সঙ্গে ৭১ ও সপ্তম উইকেটে সাইফুদ্দিনের সঙ্গে রেকর্ড ১২৭ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের দিয়ে নিয়ে যান ইমরুল। ৬৯ বল খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ফিফটি পান সাইফুদ্দিন। ৩৭ রান করেন মিঠুন। সপ্তম ব্যাটম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ইমরুল ১৪০ বলে ১৪৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ১৩টি চার ও ৬টি দর্শনীয় ছক্কার মার ছিল। জিম্বাবুয়ের জার্ভিস ৪ ও চাতারা ৩  উইকেট পান।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে