প্রার্থী হওয়া বা রাষ্ট্রীয় পদ পাওয়ার ইচ্ছা নেই

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:৪৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া বা কোনো পদ পাওয়ার ইচ্ছে নেই বলে জানিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন।তিনি বলেন, যারা ক্রমাগতভাবে আমার বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণ করে চলেছেন তাদের আমি বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতে চাই, একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুমাত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমি কাজ করে যাব। জামায়াত বা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। জামায়াত বা তারেক রহমানসহ অন্য কোনো বিশেষ নেতার প্রতি সমর্থন হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগকে দেখার সুযোগও নেই।

গতকাল সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

সংবিধানপ্রণেতা বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর প্রতি সংকল্পবদ্ধ। অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এ লক্ষ্যগুলো অর্জনে কাজ করে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত দলগুলোর মধ্যে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

সরকার দাবি না মানলে কোনো আন্দোলনে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা জনমত গঠনের মধ্য দিয়ে আন্দোলনে আছি। বিভাগীয়, জেলা পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করছি। এরপর দাবি না মানলে তা গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে। অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সংলাপ চেয়ে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সরকারকে চিঠি দেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার নিশ্চয়তার জন্য জনগণ ঐকমত্য। দেশের জনগণ এমন একটি নির্বাচন দেখতে চায়, যে নির্বাচনে তারা ভয়ভীতি ও প্রভাব ছাড়া তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে। একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

ড. কামাল বলেন, ‘জনগণের উদ্বেগ ও আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশের নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ৭টি দাবির ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। এই সাত দাবি হলো-বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়া, মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় নির্বাহী বিভাগ বা সরকার গঠন, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া, বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, জনগণের আস্থা আছে এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা।

তিনি বলেন, এই ৭ দফা দাবি প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জাতীয় পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মতৈক্যে পৌঁছেছি, যার ফলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে একটি উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের ঐক্য বজায় রাখার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কাজ করে যাবে, যেন রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে