মায়ের সামনে ছেলে ছেলের সামনে মারা গেলেন মা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:৩৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

একজন মায়ের কাছে সবচেয়ে বেদনাদায়ক হচ্ছে, চোখের সামনে সন্তানের মৃত্যু দেখা। দুঃসহ এ যন্ত্রণাই সইতে হচ্ছে মনোয়ারা বেগমকে। অন্যদিকে, পৃথিবীতে সবচেয়ে আপনজন যে মা, চোখের সামনে প্রিয় সেই মানুষটির মৃত্যু দেখতে হয়েছে গিয়াসউদ্দিনকে। মর্মান্তিক এ দুটো ঘটনার জন্যই দায়ী বেপরোয়া বাসচালক। গতকাল সোমবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এ দুটো ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে।

অসুস্থ মাকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন সেলিম মিয়া (২২)। যাত্রাবাড়ী এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দুটি বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে মারা যান সেলিম। গতকাল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসের ধাক্কায় জুয়েল (৩০) নামে অপর একজন আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। এদিকে এ ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর বিকালে যাত্রাবাড়ী সাদ্দাম মার্কেটের কাছে গিয়াসউদ্দিন নামে এক যুবকের সামনে বাসের ধাক্কায় নিহত হন তার মা মোর্শেদা বেগম (৫০)। এ ঘটনায় আহত হয়েছে গিয়াসউদ্দিনের ভাতিজি তাসফিয়া (৮)। ঘাতক বাসের চালককে ধরে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

নিহত সেলিমের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার আলেপুর গ্রামে। তার বাবার নাম ফজল হক। ডেমরা এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। সেলিমের মা মনোয়ারা বেগম জানান, তিনি হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন সেলিম। গতকাল দুপুর একটার দিকে তারা হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। যাত্রাবাড়ী মোড়ে পৌঁছে রাস্তা পারাপারের সময় দুটি বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে সেলিম গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে বেলা ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত জুয়েলও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী আমাদের সময়কে জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রান্স সিলভা পরিবহনের বাস দুটি জব্দ করা হয়। একটি বাসের চালক শাহীন কাজীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শাহীনের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অন্যদিকে নিহত মোর্শেদা বেগমের ছেলে গিয়াসউদ্দিন জানান, মাকে নিয়ে ১৫/১৬ দিন আগে গ্রামের বাড়ী কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সিদলাই থেকে ঢাকায় বাসরত বড় ভাই মহিউদ্দিনের বাসায় আসেন তিনি। বেড়ানো শেষে মা, ভাবী ফাতেমা, দুই ভাতিজি তাসফিয়া (৮) ও মুসাফিকাকে (৪) নিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। যাত্রাবাড়ী সাদ্দাম মার্কেটের সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের ধাক্কা দেয়। এতে তার বড় ভাতিজি তাসফিয়া ও মা মোর্শেদা বেগম আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোর্শেদাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আহত শিশু তাসফিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মোর্শেদাকে ধাক্কা দেওয়া ঘাতক বাসটির চালককে আটকের পর স্থানীয় জনতা মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত সেলিম মিয়া, জুয়েল ও মোর্শেদা বেগমের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে