বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া

এখনো সমঝোতা সম্ভব

  আরিফুজ্জামান মামুন

০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ১৪ দলের দ্বিতীয় দফা সংলাপও কার্যত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংবিধানের বাইরে ঐক্যফ্রন্টের কোনো দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করেছি। সংলাপকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছি। সরকার যদি সমাধানে না আসে তা হলে দায় সরকারের। দাবি না মানলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করব। এদিকে গতকালই সংলাপ শেষ হয়েছে।

আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংলাপের সার্বিক দিক জানাবেন। ফলে ঐক্যফ্রন্ট চাইলেও সংলাপের সুযোগ থাকছে না। এ ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতি উদ্দেশে আজ ভাষণ দেবেন। সেখানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

দুই দফা সংলাপে কোনো সমাধান না হলেও দুপক্ষ চাইলে এখনো সমঝোতা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। এর মাধ্যমে সংঘাতও পরিহার সম্ভব। তারা মনে করেন, আলোচনার মধ্য দিয়েই সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ জন্য ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। কার দাবি কতটুকু পূরণ হলো সেই চিন্তা করলে হবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, সংলাপ ব্যর্থ হয়ে ঐক্যফ্রন্ট যদি আন্দোলনে নামে আর সরকারি দল প্রতিহত করে তা হলে তো সংঘাত অনিবার্য। তাই সংঘাত পরিহারে সমাধানে আসতে হবে। সব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যই যেহেতু মানুষের কল্যাণ তাই সমঝোতার পথ বন্ধ হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এমাজউদ্দীন আহমদ আমাদের সময়কে বলেন, সরকার ও বিরোধী দল যদি সমঝোতায় না আসে তা হলে তো সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। আমি মনে করি এখনো সুযোগ আছে। দুপক্ষ যদি ছাড় দেয় তা হলে বর্তমান সরকারের অধীনেই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।

ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, এটা জনগণের মাঝে আশার আলো সৃষ্টি করেছে। এ সংলাপে যারা যোগ দিয়েছেন তারা খুবই দায়িত্ববান ব্যক্তিত্ব। এই আলোচনার লক্ষ্য হবে অবাধ, সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানের করণীয় নির্ধারণ। এই পরিস্থিতিতে সাজা মওকুফের বিষয়টিকে সংলাপের আলোচনায় না আনা বাঞ্ছনীয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের সবার লক্ষ্য ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি মানেনি সরকার। ফলে অনিবার্য সংঘাতের দিকে যাবে দেশ। যার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। এখনো সুযোগ আছে রাজনৈতিক দলগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হওয়ার।

জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংলাপ যে হয়েছে, এটাই অর্জন। এর চেয়ে বেশি আশা করলে হতাশ হতে হবে। এর চেয়ে বেশি আশা করিনি, তাই হতাশও হয়নি। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো যে যার অবস্থানে অনড় থাকবে এটি শুরু থেকেই মনে হচ্ছিল।

লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেছেন, বিরূপ রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে সংলাপের উদ্যোগ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য ছিল; কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের দুই দফা সংলাপে যে বিষয় দাঁড়াল তাতে করে মনে হলো সম্ভাবনার কাছাকাছি এসেও তাদের অবস্থানে ফিরে গেল। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ইতোমধ্যে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ তথা ১৪-দলীয় জোটের নেতারাও তাদের সিদ্ধান্তে অনড় আছে যে, সংবিধানের বাইরে কোনো বিষয় তারা মেনে নেবে না। এমন অবস্থায় আশানুরূপ কিছু দেখছি না। তবুও আমি আশা রাখতে চাই, দেশের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে পুনরায় আলোচনা করবেন। সুন্দর একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন। কারণ দেশের মানুষের ক্ষতি হোক, দেশে একটা সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হোক রাজনৈতিক দল হিসেবে এমন চাওয়া থাকা উচিত নয়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে