‘খুবই সহজ-খুবই কঠিন’ খালেদা জিয়ার মুক্তি

  কবির হোসেন

০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১২:১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুরোনো ছবি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনুষ্ঠিত সংলাপকে কেন্দ্র করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

আইনজীবীদের একপক্ষ বলছে, কারামুক্তির বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এবং এটা খুবই সহজ কাজ। অন্যপক্ষ বলছে, এটা পুরোপুরি আদালতের ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষ বা সরকারের করণীয় কিছুই নেই। সে ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তির বিষয়টি ‘খুবই সহজ’ আবার ‘খুবই কঠিন’ এমন একটি অবস্থায় দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা হওয়ার পর থেকেই কারাবন্দি রয়েছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন মামলার বিচার শেষে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে হাইকোর্ট গত ৩০ অক্টোবর তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও প্রায় ৩৬-৩৭টি মামলা বিচারাধীন। বিএনপি নেতা ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার এসব মামলা রাজনৈতিক দাবি করে, নির্বাচনের আগেই আইনি প্রক্রিয়ায় তার কারামুক্তি চেয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার মধ্যেও এক দফা হচ্ছে খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।

এ অবস্থায় তার কারামুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, খালেদা জিয়ার আইনিভাবে মুক্তির বিষয়টি খুবই সোজা। ফৌজদারি মামলায় পক্ষ দুটির একটি রাষ্ট্র; অন্যটি আসামিপক্ষ। রাষ্ট্র প্রমাণ করার চেষ্টা করে আসামি দায়ী। সেই রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যদি জামিনের বিরোধিতা না করে সে ক্ষেত্রে জামিনের মাধ্যমে কারামুক্তি সম্ভব। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে জামিনের প্রার্থনা করলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অর্থাৎ মামলা সুপ্রিমকোর্টে হলে অ্যাটর্নি জেনারেল ও তার সহকর্মী এবং মামলা নিম্ন আদালতে হলে পাবলিক প্রসিকিউটর ও তার সহকর্মীরা জামিনের বিরোধিতা না করলে সাধারণত আদালত জামিনের প্রার্থনা মঞ্জুর করেন। বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষে তার কারামুক্তি দেওয়া একেবারেই সম্ভব নয়। সম্ভব হলো আইনের মাধ্যমে, আদালতের মাধ্যমে। কারণ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে তার সাজা হয়েছে। দীর্ঘদিন আদালতে শুনানি হয়েছে। তথ্য-প্রমাণ বিবেচনায় আদালত সাজা দিয়েছে। হাইকোর্ট আপিলে তার সাজা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছে। এগুলো সবই আদালতের ব্যাপার। আদালতের মাধ্যম ছাড়া তার মুক্তি সম্ভব নয়।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতা করা-না করাটা কোনো ব্যাপার না। হাইকোর্ট পাঁচ বছরের সাজাকে ১০ বছর করে রায় দিয়েছেন। সেখানে রাষ্ট্র কীভাবে বলবে, তার মুক্তি দিতে। এটা করলে অন্যসব মামলায়ও এর প্রভাব পড়বে। রাষ্ট্র বা দুদক সব ফৌজদারি মামলার বাদী। সে ক্ষেত্রে যারা অপরাধ করে তাদের আইনের আওতায় আনাই দুদক ও রাষ্ট্রের কাজ। এখানে ব্যক্তিগত কিছু না। তাই সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে তার মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বা সরকারের করণীয় কিছু নেই।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন বলেন, খালেদা জিয়া এখন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার কারামুক্তি আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সম্ভব নয়। আর এটা নির্ভর করছে আদালতের ওপর। প্যারোলে কারামুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, প্যারোলের বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন। প্যারোলে মুক্তি পেতে হলে, তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আবেদন করতে হবে। এ ধরনের মুক্তির ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কারও নিকটাত্মীয় মারা গেলে মানবিক কারণে প্যারোলে মুক্তি পেতে পারে। এ ছাড়া দেশে চিকিৎসা সম্ভব না হলে মেডিক্যাল বোর্ড যদি বিদেশে পাঠানোর সুপারিশ করে সে ক্ষেত্রে প্যারোল হতে পারে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সরকার বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। এর প্রমাণ হলো মানি লন্ডারিং মামলায় আদালত তারেক রহমানকে খালাস দিয়েছিল। সেই বিচারককে ধরার জন্য দুদক ও পুলিশ উঠে-পড়ে লাগে। বাধ্য হয়ে সেই বিচারক দেশত্যাগ করে। সরকারের কারণে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাও। এসব ঘটনা কারও অজানা নয়। তাই বলব, সরকার প্রভাব বিস্তার না করলে খালেদা জিয়া অনেক আগেই কারামুক্তি পেয়ে যেতেন। সরকার ইচ্ছে করলেই যে কোনো সময় খালেদা জিয়ার কারামুক্তি সম্ভব। তার কারামুক্তি সরকারের ওপর নির্ভর করছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে