সমঝোতার সুযোগ দুপক্ষেরই গ্রহণ করা উচিত

তফসিল ঘোষণার পর বিশ্লেষকরা

প্রকাশ | ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:২৬

সানাউল হক সানী
ছবি : স্টার মেইল

একাদশ জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যদিও তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা চলছিল। কারণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুই দফা ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তফসিল পেছানোর দাবি করেছিল। যদি ঐক্যফ্রন্টের দাবি উপেক্ষা করে তফসিল ঘোষণা করা হয়, তা হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে তাদের।

এ অবস্থায় একটি জটিল সমীকরণে আগামী দিনের রাজনীতি পা দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন একটি অর্থবহ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার জন্য সরকার ও বিরোধী দলের কাছে এখনো সুযোগ আছে। আলাপ-আলোচনা করে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা সম্ভব। সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সেই সুযোগ দুই পক্ষকেই গ্রহণ করা উচিত। নইলে অনিশ্চয়তার দিকে দেশ যাবে বলে মত তাদের।

সমাজবিশ্লেষক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম ফজলুল হক এ বিষয়ে বলেন, মতবিরোধের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু দল হয়তো তফসিলকে স্বাগত জানাবে। তবে কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিষয়টির বিরোধিতা করবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আসলে ভবিষ্যতে কী ঘটবে, তা বলা মুশকিল। তবে এখন যে পরিস্থিতিতে রয়েছে, এতে ঐক্যফ্রন্ট হয়তো নির্বাচনে অংশ নেবে না। তবে আলোচনা করা বা সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনের সুযোগ এখনো রয়েছে। দুই পক্ষকেই এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। সরকারপক্ষ যেহেতু অনেক বেশি শক্তিশালী তাই তাদেরই বেশি নমনীয় হওয়া উচিত। সংকট সমাধান করে নির্বাচন অনুষ্ঠানই ভালো হবে।

সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষক হুমায়ুন কবীর বলেন, আসলে আগামী দিনের ঘটনাপ্রবাহ কী হবে বলা মুশকিল। তবে আমি মনে করি সমঝোতার সব সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার যে উদ্যোগ নিয়েছিল এখনো সেটি সম্ভব। সবাই মিলে এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত। যাতে সব দল নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচন ঘিরে আমরা কোনো হানাহানি দেখতে চাই না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব) রেজাউল করিম বলেন, তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে অনেকটা তাচ্ছিল্য করা হলো। এখন যদি তারা হার্ডলাইনে যায় অথবা কোনো কঠোর কর্মসূচিতে যায়, তবে তা দেশের জন্য সুখকর হবে না। যদিও ঐক্যফ্রন্টের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, সামর্থ্য না থাকলেও ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলনে অন্য শক্তিগুলোও সুযোগ নিতে পারে। বিশেষ করে যারা তফসিল ঘোষণার বিরোধিতা করেছে তারা যদি এ আন্দোলনে যোগ দেয়, তবে তা খুব একটা ভালো হবে না; কিন্তু সরকার যদি ঐক্যফ্রন্টের কয়েকটি দাবি মেনে নিয়ে তফসিল ঘোষণা করত, তবে সরকারের আরও বেশি শক্ত অবস্থান থাকত, অনেক যুক্তি থাকত। এক্ষেত্রে সব দাবিই মানতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। সব দফা মানাও সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন যদি নির্দিষ্ট সময়ে হয়েও যায়, এরপরও সরকার বিব্রতকর অবস্থায় থাকবে।