আওয়ামী লীগ ভোটে, বিএনপি এখনো মাঠে

  হাসান শিপলু ও মুহম্মদ আকবর

১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৫৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে তফসিল ঘোষণার পর ভোটের কার্যক্রম শুরু করেছে ক্ষমতাসীন জোট। আর নিরপেক্ষ নির্বাচনসহ কয়েকটি দাবিতে এখনো আন্দোলনের মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল। নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়ে গতকালও রাজশাহীতে সমাবেশ করে বিএনপি; তবে নতুন কোনো কর্মসূচির ঘোষণা দেয়নি।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবে ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে তাদের কয়েক দিন সময় লাগবে।

তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ কার্যালয় ছিল উৎসবমুখর। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার মনোনয়ন ফরম বিক্রির মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীসহ সারাদেশে আনন্দ মিছিল করেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। ঠিক উল্টো অবস্থা ছিল বিএনপি কার্যালয়ের। নেই নেতাকর্মীর ভিড়। কর্মীরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন রিজভী আহমেদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সবাই নির্বাচনমুখী। কেউ এ পরিবেশ বানচাল করতে চাইলে জনগণ তাদের প্রতিহত করবে।

রাজশাহীর সমাবেশে জাতীয় ঐক্যের নেতাকর্মীদের কণ্ঠে ছিল প্রতিবাদের সুর। সংকটের সমাধান না করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় ইসির কঠোর সমালোচনা করে নেতারা তফসিল পেছানোর দাবি জানিয়েছেন।

আন্দোলনের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি আদায় করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনের তফসিল গ্রহণযোগ্য হবে না। এখন সংকট আরও কঠিন, আরও ভয়াবহ।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আমরা দাবি আদায় করে নির্বাচনে যাব। দাবি আদায়ে মাঠে আছি এখনো।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার আগেই দেশব্যাপী পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থেকে তৃণমূলের নেতারা যুক্ত আছেন। যুক্ত আছেন দলের অঙ্গ-সংগঠনের নেতারাও। সংলাপ চলাকলে ১৪-দলীয় জোট ও সম্ভাব্য মহাজোটের সঙ্গেও নির্বাচনকেন্দ্রিক আলোচনা করেছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলের ইশতেহারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ইশতেহারও চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। দলের সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমতি পেলেই তা প্রকাশ করা হবে। যদিও গত দুইটি সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহারের বিষয়ে কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে নিয়ে শত বছরের পরিকল্পনা, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন ও জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী পালনসহ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নানা পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের ওপর কয়েক স্তরের গোয়েন্দা প্রতিবেদন শেষে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকাও হয়েছে বলে ইতোমধ্যে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়ে দিয়েছেন। সত্তর জনের নাম ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে গণমাধ্যমে বলেছেন তিনি। এ ছাড়াও মনোনয়নের যোগ্য প্রার্থী কারা হবেন, এ বিষয়েও প্রতিনিয়ত বলছেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শেখ হাসিনার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রায় প্রতিটি সভা-সমাবেশেই দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন, জনবিচ্ছিন্ন কেউ মনোনয়ন পাবেন না।

এর আগে সারাদেশের বিভাগীয় পর্যায়ে জনসভা করে ভোট চেয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বছরখানেক আগে থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জনসংযোগের কাজে ব্যস্ত রেখেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, নির্বাচনী প্রচার তো আমরা ভেতরে ভেতরে অনেক আগেই শুরু করেছি। আজ অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আনন্দযাত্রা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। এই আনন্দযজ্ঞে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করতে চাই, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অংশ নিয়ে জনগণের রায়ের মাধ্যমে ফের ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণাই দেয়নি। কবে থেকে মনোনয়ন ফরম শুরু হবে, তা ঠিক হয়নি। দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে আজকালের মধ্যে দেখা করবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার পরই দলের সিদ্ধান্ত আসবে। অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অধিকাংশ সদস্য নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন। শীর্ষ দুই নেতা খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান নির্বাচনে যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দলকে। এখন চূড়ন্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তফসিল পেছানোর দাবিতে আরও কয়েক দিন আন্দোলনের মাঠে থাকবে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের দলগুলো এবং ২০ দলও। সাত দফার মূল দাবি থেকে সরে এ দুই দফায় তাদের আন্দোলন চলবে কয়েক দিন। আপাতত আন্দোলনের মাধ্যমে তফসিল পেছানোর দাবি মানতে বাধ্য করতে চাইছে বিএনপি।

দলের নেতারা বলছেন, সাত দফার মূল দাবি যেহেতু মানা হয়নি, তাই খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তফসিল পেছালে তাদের নির্বাচনের পথ খুলবে। গতকাল রাজশাহীর সমাবেশেও এই সুরে কথা বলেছেন নেতারা।

জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী ইশতেহার প্রায় চূড়ান্ত আছে। তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম মূলত শেষ হয়েছে। কয়েকটি জরিপও করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে খালেদা জিয়ার দেওয়া ভিশন ২০৩০-এর ওপর ভিত্তি করে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে।

গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। বেলা ১১টায় তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় দলের কয়েকজন নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক কম।

আমাদের সময়কে তিনি বলেন, নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবেন স্থায়ী কমিটির নেতারা। তবে আন্দোলনের মাঠ ছাড়তে চান বলে মত দেন তিনি।

সকালে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক সংকট সমাধান হওয়ার আগেই আকস্মিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানেরই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিয়ে দেশের সংকট সমাধান করুন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি মেনে নিন। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও প্রচারে সবার সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করুন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে