কানাডার প্রস্তাবে নীরব বাংলাদেশ

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছয় মাস আগে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে চেয়েছিলেন

  আমাদের সময় ডেস্ক

১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ১১:১০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা যে দেশের জন্য বিরাট বড় বোঝা, তা অনেক আগেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন অনেকে। এর মধ্যেই গত মে মাসে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড তার বাংলাদেশ সফরের সময় মিয়ানমারে ধর্ষণের শিকার নারীসহ কিছু রোহিঙ্গাকে সে দেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর পর ছয় মাস কেটে গেলেও বাংলাদেশ এখনো কানাডার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় বিষয়টি ঝুলে আছে।

কানাডার শরণার্থীবিষয়ক এক কর্মকর্তা টমাস রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেছিলেন, কানাডা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি তখন বলেন, তার কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখবে। তার পর থেকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ নীরব ভূমিকা পালন করছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে প্রশ্ন করা হলে তারা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক মুখপাত্র শ্যানন কের বলেন, ২০০৬ সাল থেকে ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসিত করেছে কানাডা। তবে ২০১০ সাল থেকে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের অনুমতি দিচ্ছে না বাংলাদেশ। গত ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার রোহিঙ্গার পুনর্বাসনের জন্য কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ দিতে বাংলাদেশের অনুমতি চায় ইউএনএইচসিআর।

কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গিলাউমে বেরুবেও জানান, তারা বাংলাদেশ থেকে কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গাকে নিতে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, সে ব্যাপারে বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। তিনি একে ‘গোপনীয়’ বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে কাজ করা সাহায্য সংস্থাগুলো গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, আসন্ন প্রত্যাবাসন পরিকল্পকাকে ঘিরে রোহিঙ্গারা ভীত। এভাবে তাদের মিয়ানমারে পাঠানো হলে তা রোহিঙ্গাদের জন্য ‘বিপজ্জনক’ হতে পারে। এক খবরে এএফপি জানায়, গতকাল অক্সফাম, ওয়ার্ল্ড ভিসন, সেভ দ্য চিলড্রেনসহ ৪২টি সাহায্য প্রতিষ্ঠান ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে। বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছিল নিরাপত্তার জন্য। বাংলাদেশ সরকার তাদের সেই নিরাপত্তা ও আশ্রয় দেওয়ায় তারা এর জন্য কৃতজ্ঞ। তবে এখন যদি তাদের মিয়ানমারে আবার ফেরত পাঠানো হয়, তাদের সঙ্গে কী ঘটবে তা নিয়ে তারা আতঙ্কিত।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে