পিছিয়ে যাচ্ছে ভোট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন # ৩০ ডিসেম্বর কিংবা ৩ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ হতে পারে

  আসাদুর রহমান

১২ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৪০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবি জানিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট, ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্ট। গতকাল রবিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর পৃথক চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। এ নিয়ে আজ সভায় বসবে কেএম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানিয়েছে, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে সবার দাবি বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে তফসিল না দিলেও ভোটগ্রহণ কয়েক দিন পেছানের কথা ভাবা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে পুনঃতফসিলে ৩০ ডিসেম্বর কিংবা ৩ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ হতে পারে।

এ বিষয়ে সিইসি কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, আমরা অবশ্যই চাই, সব দল নির্বাচনে আসুক। আমরা খবরটা (নির্বাচন পেছানোর আবেদন) পেয়েছি। আগামীকাল কমিশনারদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব। নির্বাচন এক মাস পেছানো সম্ভব কিনা, জানতে চাইলে সিইসি বলেন, যেহেতু এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি, বলতে পারব না।

সরকারি দলও নির্বাচন পেছানো যেতে পারে বলে জানিয়েছে, বিষয়টি সিইসির নজরে আনলে তিনি বলেন, এ খবর আমরা পাইনি। নির্বাচন পেছানো হবে কিনা, এটি আগামীকাল (সোমবার) জানা যাবে কিনা এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, হ্যাঁ।

এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল রবিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নির্বাচন পেছাবে কিনা, তা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। নির্বাচনের শিডিউল-সংক্রান্ত সব বিষয় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।

নির্বাচন পেছালে আওয়ামী লীগ বা ১৪ দল আপত্তি করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। কমিশন নির্বাচন পেছাতে চাইলে দলীয়ভাবে কোনো আপত্তি করব না।

গত ৮ নভেম্বর সিইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা এবং ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় রাখা হয়েছে। ভোটগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বর।

ইসির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানান, রাজনৈতিক দলগুলো একমত হলে নির্বাচনের তারিখ পেছাতে ইসির কোনো সমস্যা নেই। ক্ষমতাসীন দলও বলেছে নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে আপত্তি জানাবে না। সে ক্ষেত্রে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোটগ্রহণের তারিখ পেছানোর কথা ভাবছে কমিশন। তিনি বলেন, নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হবে না। ভোটগ্রহণ এক সপ্তাহ, বড়জোর ১০ দিন পেছানো হতে পারে। সে বিবেচনায় মনোনয়ন জমা ও প্রত্যাহারের সময়ও বাড়ানো হতে পারে।

গতকাল দুপুরে ভোটগ্রহণের তারিখসহ মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে সিইসি বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। চিঠিতে বলা হয়, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী স্বল্প সময়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, সাক্ষাৎকার গ্রহণ ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ কঠিন হবে।

তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ ১ সপ্তাহ পিছিয়ে ১৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৬ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৯ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ৫ ডিসেম্বর করার কথা বলেছেন। একইভাবে ভোটগ্রহণের তারিখ ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর করার প্রস্তাব করেন।

এর পর বিকালে বিএনপির দলীয় প্যাডে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল এক মাস পিছিয়ে দিতে সিইসি বরাবর চিঠি পাঠানো হয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি, বিএনপি, ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মত উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে কমিশনের তফসিল ঘোষণা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এত কম সময়ে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করা সম্ভব নয়, যা ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। অতএব সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনী শিডিউল এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে। কমপক্ষে এক সপ্তাহের জন্য হলেও নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। আজ সোমবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে একজন নির্বাচন কমিশনার আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো হলো আমাদের স্টেকহোল্ডার। তারা যদি চায়, কারও কোনো আপত্তি না থাকে, তা হলে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে ভোট পেছাতে কমিশনের তো কোনো আপত্তি নেই। তবে ২৮ জানুয়ারির আগেই করতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে আমরা কিছু কাজ করে থাকি। সে বিষয়টি অবহিত করতে সচিবের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমরা আমাদের কাজে কমিশনের সহযোগিতা চেয়েছি। সচিব বলেছেন, নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন পেছানো হবে কিনা, তা জানতে চেয়েছিলাম। তিনি বলেছেন, সব দল যদি চায় তখন কমিশন সেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।

আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে