sara

চট্টগ্রাম-১০ আসন

মুখোমুখি খসরু-নোমান

  মো. মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম

১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৪৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রির দ্বিতীয় দিনে গতকাল বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ১৬ আসনের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা তা সংগ্রহ করেছেন। যারা কারাগারে আছেন তাদের পক্ষে কর্মী-সমর্থকরা ফরম নিয়েছেন।

এদিন নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-পাহাড়তলী-খুলশী) আসন থেকে দুই শীর্ষ নেতা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ।

দলীয় সূত্র বলছে, আবদুল্লাহ আল নোমান অন্য আসন থেকে মনোনয়ন ফরম নেননি। তবে আমীর খসরু চট্টগ্রাম-১০ ছাড়াও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকেও মনোনয়ন নিয়েছেন। আবার চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তিও ফরম নিয়েছেন। তিনি আবদুল্লাহ আল নোমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ফলে এ নিয়ে শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা নেতাকর্মীর।

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত নগরীর কোতোয়ালি (চট্টগ্রাম-৯) আসন থেকে নির্বাচন করেছেন আবদুল্লাহ আল নোমান। আমীর খসরু করেছেন (বন্দর-পতেঙ্গা-হালিশহর) আসন থেকে। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন পুনর্গঠন করা হলে বন্দর-পতেঙ্গা নিয়ে চট্টগ্রাম-১১ এবং হালিশহর-পাহাড়তলী-খুলশী নিয়ে চট্টগ্রাম-১০ আসন গঠন হয়। তখন চট্টগ্রাম-১০ আসনে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের ডা. আফসারুল আমীনের কাছে পরাজিত হন নোমান। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১১ আসনে এমএ লতিফের কাছে পরাজিত হন আমীর খসরু।

ওই নির্বাচনে কোতোয়ালি আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল ব্যবসায়ী শামসুল আলমকে। তিনিও আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসির কাছে পরাজিত হন। গত সোমবার ওই আসন থেকেই আবারও মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন শামসুল আলম।

গতকাল আমীর খসরুর জন্য চট্টগ্রাম-১০ আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সহসভাপতি শামসুল আলম। তিনি বলেন, ওই আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাড়ি। ১৯৯১ সালের পর সেখানে তিনি তিনবার এমপি হয়েছেন। ফলে এলাকার মানুষের চাহিদার কারণে আমরা তার পক্ষে মনোনয়ন ফরম নিয়েছি।

অন্যদিকে সোমবার মনোনয়ন ফরম নেওয়া নোমানের ব্যক্তিগত সহকারী নুরুল আজিম হিরু বলেন, ২০০৮ সাল থেকে স্যার ওই আসনে নির্বাচনকেন্দ্রিক কাজ করে আসছেন। এলাকায় প্রার্থী হিসেবে নিজেকে তিনি নিয়োজিত করেছেন। এর পরও দল যদি মনোনয়ন না দেয়, তা হলে সেখানে নির্বাচন করবেন না।

এদিকে গতকাল চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসন থেকে কারাগারে থাকা নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ-বায়েজিদ) আসনের ফরম নিয়েছেন আবু সুফিয়ান। এ প্রসঙ্গে আবু সুফিয়ান বলেন, কয়েক দশক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কখনো নির্বাচনে অংশ নেইনি। এবার মনোনয়ন ফরম নিয়েছি। আশা করি দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে। ওই আসন থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী এম মোর্শেদ খানও। ১০ বছর ধরে দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং বয়সজনিত কারণে তাকে এবার দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

সূত্র জানায়, এবার চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে মনিরুল ইসলাম ইউছুপ, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকু-) আসনে কারান্তরীণ আসলাম চৌধুরী, নগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তি ও আহমেদুল আলম রাসেল গতকাল মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ছেলে মীর হেলাল, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে গাজী সিরাজ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও কামরুল ইসলাম হোসাইনি মনোনয়ন নিয়েছেন।

এর আগে সোমবার বিএনপির মনোনয়নপত্র বিক্রির প্রথম দিনে চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-খুলশী-পাঁচলাইশ) আসনে আবদুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যবসায়ী শামসুল আলম ও তার ছেলে শোয়েব রিয়াদ মনোনয়ন ফরম নেন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে সাবেক এমপি সরোয়ার জামাল নিজাম ফরম নেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে