sara

বিচারককে খালেদা জিয়া

আদালতে ব্যস্ত রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না

  আদালত প্রতিবেদক

১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, আমাদের আদালতে ব্যস্ত রেখে; প্রতিদিন আদালতে দৌড়ঝাঁপ করিয়ে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না। একদল বছর ভরে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনী প্রচার করছে। আর আমাদের আদালতে ব্যস্ত রাখবেন! যদি আমাদের নির্বাচন করতে না দেন, তবে আদেশ দিয়ে বলে দিন, আমরা নির্বাচন করতে পারব না।

নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানির জন্য তার পক্ষে সময় চেয়ে করা আবেদনের বিরোধিতা করলে আদালতের উদ্দেশে এ কথা বলেন খালেদা জিয়া। গতকাল বুধবার বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে খালেদা জিয়াকে

ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে হুইল চেয়ারে করে হাজির করা হয়। আদালতে আসার পরও তিনি হুইল চেয়ারে বসে থাকেন। এ সময় তিনি আদালতের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে পুলিশ তার চারপাশ ঘিরে রাখার বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন

কাজলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন খালেদা জিয়া। এ সময় প্রসিকিউটর কাজল বলেন, এটা দেখার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের। তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না। তাদের কথার মধ্যেই দুপুর ১২টা ২ মিনিটে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ মাহামুদুল কবীর এজলাসে ওঠেন। তার কাছেও খালেদা জিয়া একই অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ সিকিউরিটির অর্থ কি আমাকে ঘিরে রাখবে? এভাবে থাকলে আমি আইনজীবীদের দেখতে পাই না, তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। তারা (পুলিশ) তো আদালতের বাইরে থাকবে! আমার কাছে কেন থাকবে? আর এই ছোট্ট পরিসরের আদালতে কীভাবে আপনি (বিচারক) এ মামলার বিচার করবেন? আগের আদালতে বিচার করুন। এর পর আদালতের নির্দেশে ডিসি প্রসিকিউশন আনিসুর রহমান এসে পুলিশকে খালেদা জিয়ার পাশ থেকে সরিয়ে নেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেনÑ মাননীয় আদালত, আমাদের যা খুশি সাজা দিন, ফাঁসি দিয়ে দিন; কিন্তু বিচারের পরিবেশে বিচার করে দিন। জেলখানার ভেতরে আদালত কখনো পাবলিক ট্রায়াল হতে পারে না। এর আগে আলিয়া মাদ্রসার আদালতে বিচার হয়েছে। সেখানে একটি পরিবেশ ছিল। বসার জায়গা ছিল। আমরা সেখানে আপত্তি করিনি। সেখানে বিচার করুন। এখানে সুস্থ মানুষও বেশি সময় থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়বে।

এর পর বিচারক বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আমি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারব না। তবে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলছি। এরপর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিজ্ঞ আদালত যেহেতু বিষয়টি উপলব্দি করতে পেরেছেন, তাই আজ মামলার কার্যক্রম মূলতবি করে দিন। আমাদের দলের নমিনেশন বিক্রি চলছে। আমি একজন প্রার্থী। এ ছাড়া আজ আমাকে ড. কামাল হোসেনদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে যেতে হবে। বিষয়টি নির্বাচনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) সঙ্গে দেখা করেছি, উনি বলেছেন নির্বাচন করতে। নির্বাচন না হলে আবার ২০১৪ সালের মতো অবস্থা হবে। তাই নির্বাচনের পর একটি তারিখ দিন।

এর পর সময় আবেদনের বিষয়ে প্রসিকিউটর কাজল বলেন, মনে হচ্ছে ওনারা মামলা করতে আসেননি, নির্বাচনের কথা বলতে এসেছেন। এ মামলার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। আজ মামলায় চার্জ শুনানির জন্য আছে। মওদুদ আহমদ সাহেবের শুনানি শেষ করার কথা। আশা করি উনি শুনানি শুরু করবেন।

দুদক প্রসিকিউটরের এ কথায় খালেদা জিয়া বলেন, রাজনীতির সঙ্গে এ মামলার সম্পর্ক আছে। আইনজীবীরা অনেকেই নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। অন্য আইনজীবীদেরও নির্বাচনী কাজে ব্যস্ততা থাকবে। তাই মামলার তারিখ পিছিয়ে নির্বাচনের পর দেওয়া হোক।

এ সময় বিচারক মওদুদ আহমদের উদ্দেশে বলেন, আপনি শুরু করুন। আদালতের নির্দেশে মওদুদ আহমদ আগের দিনের বক্তব্য পুনরুল্লেখ করেই দিনের কার্যক্রম শেষ করার আরজি জানালে আদালত বলেন, আপনি আজ বক্তব্য শেষ করবেন বলেছিলেন; কিন্তু এখন আদালতের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, আপনি শেষ করতে চান না। তাই আগামী ৩ ডিসেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করা হচ্ছে।

মওদুদ আহমদ ৩ জানুয়ারি তারিখ ধার্য করার আরজি জানান। তিনি বলেন, ‘৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই। তার পর তো আমরা ঢাকায়ই থাকব না।’ খালেদা জিয়াও নির্বাচনের পর তারিখ নির্ধারণের জন্য বলেন। এ নিয়ে কথাবার্তার মধ্যে বিশেষ আদালতে উপস্থিত হন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন। তারা দুজনই নির্বাচনের পর মামলার তারিখ নির্ধারণের জন্য আদালতে আরজি জানান। শেষ পর্যন্ত আদালত ৩ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

বেলা সোয়া ১টার দিকে বিচারক নেমে যাওয়ার পর খালেদা জিয়াকে আদালতকক্ষ থেকে বের করে পাশে একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদিন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আহমেদ আজম খান বেলা ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর খালেদা জিয়াকে আবার জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার পরিচারিকা ফাতেমা।

‘আমার জন্য দোয়া করবেন’ : আদালতের কার্যক্রম চলাকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার এক পর্যায়ে বলেন, প্রসিকিউটর কাজল সাহেব তো আওয়ামী লীগের নমিনেশন নিয়েছেন। আশা করি উনি পাস করে প্রতিমন্ত্রী হোন। ওনার জ্বালায় আমরা অস্থির। ওনার হাত থেকে বাঁচতে পারব। এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, না না, ওনাকে তো আওয়ামী লীগ ফুল মন্ত্রী করে দেবে। জবাবে প্রসিকিউটর কাজল বলেন, ম্যাডাম আমার জন্য দোয়া করবেন। দোয়া চাওয়ার জবাবে নিশ্চুপ থাকেন খালেদা জিয়া।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে