ফেনী-৩ (দাগনভ‚ঞা-সোনাগাজী)

সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা মুখোমুখি হতে পারেন

  মুহাম্মদ আরিফুর রহমান, ফেনী

১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) নাসির উদ্দিন আহমেদ। দুজনই বিতরণের প্রথম দিনই দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

ফলে সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তার মনোনয়ন নেওয়ার বিষয়টি এখন ফেনীতে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার এই আসনেই মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বিএনপির আরেক হেভিওয়েট নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তাই ভেটারদের ধারণা, যদি দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে বিএনপি এই আসনে মনোনয়ন না দেয় তা হলে ওই দুই সেনা কর্মকর্তার মধ্যেই লড়াই হবে।

বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, আব্দুল আউয়াল মিন্টু ফেনী-৩ ছাড়াও ফেনী-১ আসেনেরও মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। ফেনী-১ বহুদিন ধরেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত। তবে কারাগারে থাকার কারণে খালেদা জিয়া যদি এবার নির্বাচন করতে না পারেন তা হলে মিন্টুকে হয়তো সেখানে মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে মিন্টু যদি কোনো কারণে ফেনী-৩ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান তা হলে তাকেই যে দল সেখানে মনোনয়ন দেবে তা এক প্রকার নিশ্চিত।

এর আগে ফেনী-৩ আসনের জন্য শনিবার দুপুরে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। বুধবার বিকালে জাতীয় পার্টি থেকেও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই সাঈদ এস্কান্দারের ভায়রা। ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের সময় আলোচনায় আসেন লে. জেনারেল (অব) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন ফরম নেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) নাসির উদ্দিন আহমেদ। সর্বশেষ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক পদে তিনি কর্মরত ছিলেন। ১৯৯২ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করব।

সরেজমিন ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেনী-৩ বরাবরই বিএনপির আসন হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ এই আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি মোশাররফ হোসেন। তিনি মারা গেলে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী শূন্য হয়ে পড়ে। তখন থেকে নিয়মিত এ আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও খোঁজখবর রাখছেন নাসির উদ্দিন আহমেদ। এবার এই আসনে বিএনপি থেকে ১১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

অন্যদিকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাজি রহিম উল্যাহ বিজয়ী হন। আওয়ামী লীগ দলীয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রহিম উল্যাহকে নিয়ে দলীয় গ্রুপিং তুঙ্গে ওঠে। ফেনীর তিনটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী এই আসনে। আওয়ামী লীগ থেকে ১৪ নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই ধারণা করছেন, প্রার্থীজট ও গ্রæপিং ঠেকাতে আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মনোনয়ন দিতে পারে। এতে দুই জোট থেকে মুখোমুখি হতে পারেন সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দিলে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করব। আশা করি জনসেবার সুযোগ পাব।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, সম্প্রতি তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে এরশাদ তাকে কী বলেছেন, তা জানা যায়নি। তবে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয়ের মধ্য দিয়ে তিনি যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান, তা খোলাসা হয়েছিল। এর পর বুধবার রাতে তাকে এরশাদের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়।

২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এক-এগারোর পরিবর্তনের পর গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে