sara

সংবাদ সম্মেলনে ২০ দল

নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ নেই ইসির

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০১:১৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুরোনো ছবি
চলমান পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব মন্তব্য করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট কারণ হিসেবে বলেছে, নির্বাচনের ওপর কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। গতকাল সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমদ উল্লিখিত বক্তব্য দেন।

অলি আহমদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব। কারণ নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এই নির্বাচনে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশ নেবে কিনাÑ এ বিষয়ে ২০ দল যথাসময়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগ মনোনীত সভাপতিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় কখনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে যত ধরনের অন্তরায় আছে, সেটা সরাতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

অলি আহমদ বলেন, সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলে; কিন্তু মাঠে-ময়দানে দেখি মন্ত্রী-এমপিরা এখনো পুলিশ পাহারায় চলেন। তা হলে বিএনপি, ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরও পুলিশের নিরাপত্তা দিতে হবে। না হলে এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে একসময় জনগণের কাছে জবাব দিতে

হবে। অলি আহমদ বলেন, গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন আইজিকে এক নির্দেশে বলেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কোনো মিছিল যেন না হয়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। পরদিন গত বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসা সারাদেশের লাখ নেতাকর্মীর ওপর পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। এতে নারী কর্মীসহ বিএনপির ৬০-৭০ জন মারাত্মক আহত হন। তিনি বলেন, ঘটনার পর বিএনপি কার্যালয় যখন জনশূন্য, তখন একদল হেলমেটধারী লোক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই হেলমেট বাহিনী নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী কিশোর ছাত্রছাত্রীদের ওপরও হামলা চালিয়েছিল। তখন কর্তব্যরত সাংবাদিকদের অত্যাচার করেছিল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, এলডিপির রেদওয়ান আহমেদ ও শাহাদত হোসেন সেলিম, জাগপার তাসমিয়া প্রধান, জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির ফরিদ্জ্জুামান ফরহাদ, বাংলাদেশ পিপলস পার্টির রিটা রহমান, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মÐল, খেলাফত মজলিসের ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি ওয়াক্কাস, নূর হোসাইন কাশেমী, জাতীয় দলের এহসানুল হুদা, কল্যাণ পার্টির এমএম আমিনুর রহমান প্রমুখ।

নয়াপল্টনের ঘটনা প্রসঙ্গে অলি আহমদ বলেন, গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর যে ছবি পাওয়া গেছে, সেই ছেলেটি ছাত্রলীগের কর্মী বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। মাত্র কয়েক দিন আগে ক্ষমতাসীন দল চার হাজারেরও বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে। তারা ঢাকঢোল বাজিয়ে মিছিল করেছে। নির্বাচন কমিশন তখন কোনো নির্দেশনা বা কোনো আদেশ জারি করেনি। প্রশাসন ও পুলিশ কোনো বাধা দেয়নি, কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অন্যদিকে বিএনপির জনসমাগম দেখে সরকার শঙ্কিত। সরকার মনে করল, এবার আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। গদি ছাড়তে হবে। এই ভয়ে তারা নিরপরাধ নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হলো। দুদিন আগে লাখ লাখ নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে এমন কী হলো যে বুধবার হামলা চালাতে হলো? আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজন মারা গেছে। তাতে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নির্বাচনে মাঠে থাকার বিষয়ে ২০-দলীয় জোটের সিনিয়র নেতা অলি আহমদ বলেন, কেউ যদি মনে করেন, আমরা মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যাবÑ এটা ভুল করবেন। মুক্তিযোদ্ধারা কখনো মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যায় না। যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে সরকারকে মোকাবিলা করব।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে