sara

মহাজোটের আসনে বিএনপির চোখ

  হাসান শিপলু ও নজরুল ইসলাম

১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ১২:২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের জোট এবং অন্য মিত্রদের যে কয়টি আসনে ছাড় দেবে, সেসব আসনে ‘বিশেষ গুরুত্ব’ দিচ্ছে বিএনপি। আসনগুলোর রাজনৈতিক অবস্থা, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং এবার প্রার্থী কে হবেন সেদিকে খেয়াল রেখে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করছে দলটি।

জানা গেছে, কয়েক মাস আগে মহাজোটকে ছেড়ে দেওয়া আসনে জরিপ চালিয়েছেন তারেক রহমান। প্রার্থী জরিপের পাশাপাশি ওই এলাকার বর্তমান রাজনৈতিক চিত্র জেনেছেন তিনি।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের বিজয়ী হতে হলে কৌশলী হতে হবে। আসন এবং প্রার্থী দেখে নির্বাচনী ছক তৈরি করতে হবে। যেহেতু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করছে, তাই জোটকে ছেড়ে দেওয়া আসনে তাদের নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয় থাকতে পারেন। সে সুযোগ কাজে লাগাতে চায় তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আমাদের সময়কে বলেন, যেখানে আমাদের ভালো প্রার্থী আছে, সেখানে বিসর্জন দিতে চাইব না। একটা বিষয়ে সবাই একমত যে, আমাদের এমন প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া উচিত, যার জেতার সম্ভাবনা আছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি বলেছেন, ‘জোট শরিকদের ৬০-৬৫ আসন ছাড়বেন।’ তবে দলটির সূত্র বলছে, শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে ৭০-৮০ আসনে ছাড় দিতে হবে।

জানা গেছে, বিএনপি মনে করছে, আওয়ামী লীগের জোটকে ৮০ আসন ছাড়তে হবে। ওইসব আসন কোনটি হতে পারে, সে খোঁজও নিচ্ছেন তারা। দলের নেতারা বলছেন, ওই ৮০ আসনের ৭০টিতে বিএনপির পক্ষে বিজয়ী হওয়া সম্ভব।

দলটির নীতিনির্ধারকদের ধারণা, জোটকে ছেড়ে দেওয়া আসনে আওয়ামী লীগের অনেক যোগ্য প্রার্থী আছে। যেহেতু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, তাই তাদের অনেকে নির্বাচন করার মতো সামর্থ্য আছে। অনেক প্রার্থী ৫ বছর এলাকায় কাজও করেছেন। তাই জোট প্রার্থীদের সহজে ছাড় দেবে না। বিএনপি স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের এই কোন্দলকে কাজে লাগাতে চাইছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আমাদের সময়কে বলেন, তাদের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষ হয়েছে। এখন যারা জমা দিয়েছেন, তাদের সাক্ষাৎকার আগামী ১৮ নভেম্বর রবিবার থেকে সকাল ৯টায় শুরু হবে। প্রথম দিনে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থিতা চ‚ড়ান্ত করতে বেশ গোপনে কাজ করছেন। ২০০৮ সালে প্রার্থী হয়েছেন, এমন অনেককেই এবার প্রার্থী করা হবে না। অর্থাৎ যোগ্যতার বিচারে এবং এলাকায় অবস্থান থেকে তাদের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখা হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রার্থী তালিকা করতে গিয়ে নীতিনির্ধারকরা আওয়ামী লীগ জোটের আসনগুলো নিয়েই বেশি কাজ করছে। তাদের হিসাবে, আওয়ামী লীগ সারাদেশে ‘পেশিশক্তি’ ব্যবহার করার পরও অনেক আসনে বিএনপি জয় লাভ করবে। এর সঙ্গে মহাজোটকে ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোর অধিকাংশ যোগ হলে ক্ষমতায় যাওয়া সহজ হবে তাদের। এ জন্য বিএনপি এখন যে প্রার্থীতালিকা করা হয়েছে, তা পরিবর্তন হতে পারে।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের আসন বণ্টন নিয়ে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে কথা বলার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান। বিএনপির এ কমিটিকে ঐক্যফ্রন্টের আসন বণ্টন কমিটির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। ঐক্যফ্রন্টের আসন বণ্টন কমিটির অন্য নেতারা হলেন জেএসডির আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।

উভয় জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সবাই একমত হয়েছেন সংখ্যার ভিত্তিতে নয়, যে জয়লাভ করবে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। তারা যদি সমস্যায় পড়েন, তা জামায়াতকে নিয়ে। আসন ভাগাভাগির প্রশ্নে তারা বিভিন্ন দলের সঙ্গে কথা বলবেন। এর পর সে কমিটি একটি খসড়া তৈরি করে স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠাবে।

বিএনপি নেতারা বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে দুই ধরনের মতামত আছে। একটি অংশ মনে করছে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচন করলে কোনো ক্ষতি নেই। আরেকটি অংশ মনে করে, ধানের শীষ নিয়ে জামায়াত প্রার্থীদের নির্বাচন না করাই ভালো।

ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমঝোতা হলে আদর্শিক দ্ব›দ্ব থাকলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের অংশ হিসেবে জামায়াত যেখানে প্রার্থী দেবে সেখানে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী দেবে না। আবার ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী থাকলে জামায়াতও প্রার্থী দেবে না।

গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেখানে প্রার্থী দেবে, সেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ৩০০ আসনে সর্বসম্মতভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে।

অঙ্গীকারনামা : বিএনপি তাদের শরিকদের ৫০ থেকে ৬০ আসন ছেড়ে দিতে পারে। এ নিয়ে শরিকদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। জোট শরিকদের একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হবে। অঙ্গীকারনামায় তিনটি বিষয় থাকছে। সেগুলো হলো ক. আমি ২০-দলীয় জোটের আদর্শ ও রাজনীতির প্রতি সদাসর্বদা নিয়োজিত থাকব, কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বশক্তি নিয়োগ করব।

খ. আমি ২০-দলীয় জোটের সব সিদ্ধান্ত মেনে চলতে বাধ্য থাকব এবং জোট কর্তৃক নির্দেশপ্রাপ্ত হলে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার এবং সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য থাকব।

গ. জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে জোট পরিবর্তন কিংবা জোট নেতা-নেত্রীর সম্মতি বা সিদ্ধান্ত ছাড়া নির্দিষ্ট আসন পরিবর্তন বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে সংঘবদ্ধ, জোট গঠন, জোটে যোগদান বা কোয়ালিশনে যাব না বা ফ্লোর ক্রস করব না। এমন কিছু হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করছেন বলে বিবেচিত হবেন। আমি ঋণখেলাপি নই এবং বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের নাগরিক নই। আমি কোনো অবস্থায় অসত্য বা দুর্নীতির আশ্রয় নেব না।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে