sara

ব্যাংকাররাই ঋণখেলাপি বানায়

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণগ্রহীতাদের ঋণখেলাপি বানাতে ব্যাংকাররাই চেষ্টা করেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, এটা খুব ভালো কথা নয়, কিন্তু আমি সে কথাটি বলতে চাই। আমার ধারণা যখনই কোনো একটা প্রকল্প বা উদ্যোক্তাকে একটি ব্যাংক ঋণ দেবে বলে ঠিক করে, তখন তাকে ঋণের প্রথম কিস্তি হয়তো দিয়ে দেওয়া হলো। তার পর থেকেই ব্যাংকাররা চেষ্টা করেন যাতে ওই উদ্যোক্তা ঋণখেলাপি হতে পারেন। ব্যাংকাররাই এ অবস্থা তৈরি করেন।

গতকাল রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট মিলনায়তনে এক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় ঋণগ্রহীতাদের ঋণখেলাপি বানানোর এ প্রচেষ্টা ব্যাংকারদের একটা অস্ত্র, যেটা তারা ব্যবহার করেন এবং করতে চান। এটা অত্যন্ত খারাপ। ব্যাংকারদের উদ্দেশে মুহিত বলেন, আমার একটা উপদেশ হচ্ছে এ লক্ষ্য থেকে আপনারা বিরত থাকবেন। আল্লাহর ওয়াস্তে কিছু করুন এ ব্যাপারে। আপনাদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে অনেক অসুবিধা ও অক্ষমতার বিষয় রয়েছে। সব দেশেই এসব সমস্যা থাকে। সময়মতো সমস্যাগুলোকে ঠিক করে নেওয়াও সম্ভব। তবে ব্যাংকিং খাত অনেক দুর্বল হয়ে গেছে এ কথা একদমই সঠিক নয়।

তিনি বলেন, একটা সময় সোনালী ব্যাংক সবচেয়ে বড় ব্যাংক ছিল। সেই অবস্থান এখন নেই। অনেকই বলতে চান ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আরেকটি কথা বলা হয়, আমাদের এখানে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি।

এ ছাড়া সবচেয়ে বড় সমালোচনা আছে ঋণ নিয়ে। ১০টি সরকারি ব্যাংক নিয়ে এ সমস্যার কথা বলা হয়। আর বেসরকারি ব্যাংকের বিষয়ে বলা হয় ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকরা অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন। তিনি তার ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ নেন না। এ বিষয়টা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কষ্টকর। তবে এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আমাদের উপায় বের করতে হবে।

মুহিত বলেন, ব্যাংকের মার্জার ঠিক রাখতে আইন রয়েছে। কিন্তু সেটি দুর্বল। আইনে যা আছে, সেটি আমার কাছে উপযুক্ত বলে মনে হচ্ছে না। এটা ঠিক করতে ব্যাংকারদের কোনো পরামর্শ থাকলে আমাকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জানাবেন। আমি সংস্কার করার চেষ্টা করব।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে