sara

হঠাৎ দৌড়ঝাঁপ কূটনীতিকদের

ব্রিটিশ হাইকমিশনার ড. কামালের ও ভারতীয় হাইকমিশনার বি. চৌধুরীর বাসায়

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

২০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:৫৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একই দিনে দুই জোটের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করলেন ঢাকায় নিযুক্ত দুই হাইকমিশনার। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের বাসায় যান ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক। একই দিন দুপুরে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায় বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। আজ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

এর আগে গত রবিবার দায়িত্বভার গ্রহণ করতে ঢাকায় এসেই নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার জানান, তিনি পূর্বসূরিদের দেখানো পথেই হাঁটতে চান। মিলারের পূর্বসূরি মার্সিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে সরব ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন এ নীতিতে নতুন রাষ্ট্রদূত কোনো পরিবর্তন আনবেন না।

গতকাল দুপুরে বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে তার বারিধারার বাসায় বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তার সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তা রাজেশ উইকি। বৈঠকে বি. চৌধুরী ছাড়াও বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, যুক্তফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি. চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে শ্রিংলা সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি বাংলাদেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলের বিষয়। তবে নির্বাচনের আগে তাদের (বিকল্পধারা) আদর্শ ও চিন্তা কেমন, তা জানতে চেয়েছি।

পরে বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। হাইকমিশনারের সঙ্গে আমরা অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেছি। নির্বাচনের বিষয়ে তারা বলেছেন, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

তবে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় যান অ্যালিসন ব্লেইক। ৬টা ২৩ মিনিটে তিনি বেরিয়ে যান।

পরে আলোচনার বিষয়ে ড. কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, তারা মাঝেমধ্যে দেখা করতে আসেন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে তারা জানতে চেয়েছেন। বিশেষ করে আগামী নির্বাচন আমরা কীভাবে দেখছি এবং কী ধরনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে, হাইকমিশনার তা জানতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি, আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। এখনো আমরা একই দাবি জানাচ্ছি। সেই লক্ষ্যে সাত দফাও দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আগে আমাদের নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিল। তার পর একটি জাজমেন্ট দিয়ে তা সরিয়ে দেওয়া হয়। এর পর থেকেই সমস্যা হচ্ছে।

হাইকমিশনারের কাছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৪ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে ড. কামাল বলেন, ৫ জানুয়ারির পর নির্বাচিত সরকার না থাকার কারণে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তারাই (বর্তমান সরকার) বলেছিল, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নির্বাচন দেওয়া হবে। সেই দ্রুততম সময় পাঁচ বছরে শেষ হয়েছে।

কামাল হোসেন আরও বলেন, নিরপেক্ষ সরকার মানেই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন না। প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী যদি রেফারির ভূমিকা পালন করেন, পুলিশ প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তা হলে ফেয়ার ইলেকশন হয় না।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে