তিন দিনে আপিল ৫৪৩

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৮:৪৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল ও বৈধতার বিরুদ্ধে ৫৪৩টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। বাতিল হওয়া ৭৮৬ জনের মধ্যে ২৪৩ জনই আপিল করেননি।

আজ বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ৩ দিন আপিল আবেদনের ওপর শুনানি করা হবে। আপিল শুনানির পর পরই রায়ও জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রথম দিন সকাল ১০টায় ১ থেকে ১৬০ নম্বর আপিল আবেদনের শুনানি হবে। ৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিনে ১৬১ থেকে ৩১০, আর শেষ দিন ৮ ডিসেম্বর ৩১১ থেকে ৫৪৩ নম্বর আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করার সুযোগ ছিল তিন দিন। ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এসে এ আপিল করেন সংক্ষুব্ধরা। প্রথম দিন ৮৪ জন আপিল করেন। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ২৩৭ জন আপিল করেন, শেষ দিন বুধবার ২২২টি আপিল জমা পড়ে। সব মিলিয়ে আপিলকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪৩টি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এ আপিল শুনানিতে অংশ নেবেন। নির্বাচন ভবনের ১১ তলায় এ লক্ষ্যে এজলাস তৈরির কাজও শেষ হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনে লড়তে রেকর্ডসংখ্যক আপিল আবেদন জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা। তবে প্রথম দুই দিনের তুলনায় গতকাল শেষ দিনে মনোনয়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল আবেদন জমা পড়েছে বেশি। বিভিন্ন দলের প্রার্থীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এ দিন অন্তত ২০ প্রার্থী আপিল করেন। রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আপিল করে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের প্রার্থী সাব্বির আহমেদ। বিদেশে ব্যবসার তথ্য গোপন, কর ফাঁকি, মামলার তথ্য গোপনসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে এরশাদের বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি।

তিনটি আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থিতার বৈধতা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। বগুড়া-৭ আসনে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বগুড়া-৬ আসনে নওশাদ জমির ও ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল আবেদন জমা দেন কায়সার কামাল। এ সময় কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, কমিশন আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ থাকলে নির্বাচনে লড়তে পারবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। উচ্চ আদালতের আপিলের বিষয় আমলে নিয়ে নির্বাচন কমিশন খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিয়ে ন্যায়বিচার করবে বলেও প্রত্যাশা করেন তারা।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া, সাবেক মন্ত্রী মোর্শেদ খান, জাপার সদ্য পদচ্যুত মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, চলচ্চিত্র তারকা সোহেল রানা, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী মীর নাছির উদ্দিন, আমানউল্লাহ আমান, গোলাম মাওলা রনি, আফরোজা আব্বাস, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাকির হোসেন, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও আপিল করেছেন।

তাৎক্ষণিক রায় পাবেন প্রার্থীরা : নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, ৩-৫ ডিসেম্বর সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ৫৪৩টি আপিল আবেদন জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ভবনের ১১ তলায় এজলাস কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের উপস্থিতিতে এসব আপিলের নিষ্পত্তি হবে। ৩ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি সম্ভব বলে জানান তিনি। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে আপিল আবেদন। মধ্যাহ্ন বিরতি দিয়ে যতক্ষণ প্রয়োজন হয়, সে সময় পর্যন্ত আপিল শুনানি করা হবে। তাৎক্ষণিকভাবে আপিল নিষ্পত্তি শেষে জানিয়ে দেওয়া হবে রায়।

এদিকে, ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি শেষ করতে বিএনপির অনুরোধের বিষয়টি বিবেচনা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, ‘অনেক সংখ্যক আপিলের কারণে এটি সম্ভব নয়। তাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে।’ ইসি সচিব আরও বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে রায়, বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করতে লম্বা সময় প্রয়োজন। আপিল আবেদন নাকচ হয়ে গেলে কমিশনের সিদ্ধান্তের নকল কপি প্রার্থীকে কমিশন থেকে দিয়ে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আপিলের সংখ্যা গণনা হয়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতীক নিয়ে ভোট করতে কমিশনের কোনো আইনি বাধা নেই বলেও জানান তিনি।

৯ ডিসেম্বরের মধ্যে ‘মার্কা’ কে পাবে জানাতে হবে : বিভিন্ন আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর একাধিক প্রার্থীর মধ্যে যার নাম চূড়ান্ত মনোনয়নের জন্য রিটার্র্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে, তাই গ্রহণ করা হবে। ইসি সচিব বলেন, যেসব আসনে একাধিক প্রার্থী আছে, একজনকে চূড়ান্ত করে চিঠি দিলেই বাকি প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়নের অযোগ্য বিবেচিত হবেন। সরাসরি, বার্তাবাহক, অনলাইনে, মেইলে, ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দিলেই হবে।

এ ছাড়া আপিল শুনানির পর তড়িৎগতিতে, এমনকি প্রয়োজনে টেলিফোনে মনোনয়ন বৈধতার বিষয়ে স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেওয়া হবে। ইসি সচিব বলেন, প্রার্থী বা যে কোনো ব্যক্তি আগামী ৯ ডিসেম্বর তার পক্ষে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে পারবেন। দলীয় অফিস থেকে চিঠি দিয়ে জানালে বাকি প্রার্থীরা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাতিল হয়ে যাবেন। জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও নতুন দায়িত্ব পাওয় মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার স্বাক্ষরিত চিঠি পেয়েছে কমিশন। জাপা মহাসচিব বদলে প্রার্থিতায় কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে জানান ইসি সচিব।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে