মন্ত্রী-এমপিদের স্ত্রী-সন্তানের সম্পদ ও আয় বেশি

হলফনামা থেকে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৫৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইসিতে দাখিল করা মন্ত্রী-এমপিদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে তাদের চেয়ে স্ত্রী, সন্তানের সম্পদ ও আয়ের পরিমাণ বেশি। এমনকি স্ত্রী-সন্তানের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চলার কথাও উল্লেখ করেছেন অনেকে।

ঢাকা-৮ আসনে মহাজোটের প্রার্থী বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ গুণ বেশি। মেননের ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকার বিপরীতে তার স্ত্রীর নামে আছে ৫৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট আছে দেড় কোটি টাকার। মেননের নামে রয়েছে শুধু পূর্বাচলে ৩৭ লাখ ২০ হাজার টাকার জমি।

মেননের নগদ টাকার পরিমাণ ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, স্ত্রীর নগদ টাকার পরিমাণ ৮ লাখ। দশম সংসদ নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামায় ঢাকা-১৯ আসনের এমপি ড. এনামুর রহমানের চেয়ে তার স্ত্রীর আয় বেশি ছিল। অথচ পাঁচ বছরের ব্যবধানে দুজনের আয় গায়েব হয়ে গেছে। ২০১৩ সালে চিকিৎসা পেশা থেকে তিনি আয় করতেন বছরে ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা আর স্ত্রীর আয় ছিল ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তাও বর্তমান হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

তবে কোম্পানির পরিচালক হিসেবে ডা. এনামের চেয়ে স্ত্রীর আয় বেশি। পরিচালক হিসেবে ডা. এনাম পান ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী পান ১২ লাখ ৮৯ হাজার। পারিতোষিক ভাতা হিসেবে তিনি পান ১ লাখ ৮০ হাজার ও স্ত্রী পান ৭ লাখ ৩৬ হাজার। ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিমের চেয়ে ৯৬ গুণ বেশি নগদ অর্থ রয়েছে তার স্ত্রীর। হাজী সেলিমের কাছে নগদ ৩ লাখ টাকা থাকলেও তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ৫৭০ টাকা। এ ছাড়া হাজী সেলিমের ওপর নির্ভরশীলদেরই আয় রয়েছে ৫ কোটি টাকা।

ঢাকা-৫ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা তিন মেয়ের কাছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেন। ঢাকা-১১ আসনের এমপি একেএম রহমতউল্লাহ তার স্ত্রী, ছেলেমেয়ে এবং নিজের কোম্পানি থেকে ৪৩ কোটি ৬১ লাখ ১২ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। ঢাকা-৯ আসনে সাবের হোসেন চৌধুরীর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সাবের হোসেনের নিজের রয়েছে ১৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

কুষ্টিয়া-২ আসনে মহাজোট প্রার্থী তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর চেয়ে তার স্ত্রীর নগদ টাকা বেশি। ইনুর কাছে নগদ টাকার পরিমাণ ৫০ লাখ ৬৬ হাজার। স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা আছে ৬০ লাখের বেশি। সিরাজগঞ্জ-১ আসনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তার স্ত্রীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। হবিগঞ্জ-৪ আসনে এমপি মাহবুব আলীর ব্যাংক হিসাবে ৮০ লাখ টাকার বিপরীতে তার স্ত্রীর রয়েছে ১ কোটি টাকা। বরিশাল ২ আসনে শাহে আলমের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ তার থেকে প্রায় তিনগুণ। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার রয়েছে ২ কোটি ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ৫৯৬ টাকা ও স্ত্রীর রয়েছে ৬ কোটি ১৮ লাখ ১৩ হাজার ৭৩৯ টাকার সম্পদ।

বগুড়া-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার সম্পদের পরিমাণ ২৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আর তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ৪০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। মান্নার নগদ টাকা আছে প্রায় ৬ লাখ আর তার স্ত্রীর আছে প্রায় ২২ লাখ টাকা। ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী নবীউল্লাহর চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বেশি। নবীর কাছে নগদ ৩৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা থাকলেও আর স্ত্রীর আছে নগদ ৭২ লাখ টাকার বেশি।

বরিশাল-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুস সোবহানের স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬০ টাকার। কিন্তু স্ত্রীর রয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৪৭ টাকার সম্পদ। এমনকি তার নির্ভরশীলদের আয়ও বেশি। এই প্রার্থীর বছরে আয় ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৫৯৫ টাকা এবং তার ওপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় ৮ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৫ টাকা।  বরিশাল-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরফুদ্দিন সান্টুর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ ২১ হাজার ৭২৮ টাকার ও স্ত্রীর আছে ৪ কোটি ৫৭ লাখ ৫১ হাজার ৮৫ টাকার সম্পদ। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ শহিদুল হকের অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৬০১ টাকার। স্ত্রীর রয়েছে প্রায় ২ কেটি টাকার সম্পদ।

বরিশাল-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ খানের ৪ লাখ টাকার বাড়ির বিপরীতে স্ত্রীর নামে ৪৬ লাখ টাকার জমি রয়েছে। দালান এবং নির্ভরশীলদের নামে ৪০ হাজার টাকা দামের জমি রয়েছে। রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলনের স্থাবর সম্পদ ৭৫ লাখ ৮ হাজার ৬৭১ টাকা হলেও তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৫২ হাজার ৪৭৫ টাকার। তার নগদ ও ব্যাংকে ৫৮ লাখ ৮ হাজার ৯৪৭ টাকা রয়েছে। স্ত্রীর নামে দৈনিক বার্তা ভবনের শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে