৯৩% মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে

  বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক

১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রধান নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, জনগণকে বাদ দিয়ে কখনো কোনো দেশে দুর্নীতিকে রোধ করা যায় না। এ কারণে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের

টিএসসিতে ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবস ২০১৮’ উপলক্ষে টিআইবি আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বের ৬৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। আর বাংলাদেশের ৯৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছে। যারা উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতিবাজ তাদের বিরুদ্ধে দুদকের তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের দৃষ্টান্ত নেই। এ কারণে আমরা উদ্বিগ্ন। দুদক তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে দুর্নীতি অনেকাংশ রোধ করা সম্ভব হতো।

তিনি আরও বলেন, এশিয়ার মধ্যে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। আমাদের আগে রয়েছে শুধু আফগানিস্তান। এ ছাড়া দেশের প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। সরকারের কাছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৫৭ ধারা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি এসব কালো আইন বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) দুর্নীতি প্রতিরোধে ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হলোÑ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক গণতন্ত্র ও সুশাসনের বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে এবং কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও থাকতে হবে। নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব কমাতে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব পর্যবেক্ষণ করতে হবে, সরকারি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘সরকারি চাকরি আইন ২০১৮’-এর বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল করতে হবে। ঋণখেলাপিতে জর্জরিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে