চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে এসইউবিতে বিক্ষোভ

তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এসইউবি) কয়েক শিক্ষককে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজয় ক্যাম্পাসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে রাজধানীর কলাবাগানে এ বিক্ষোভের সময় চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের স্বপদে বহাল রাখা, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফারহানা শারমিনের পদত্যাগসহ ১১ দফা দাবি তোলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অযাচিত হস্তক্ষেপে অনেক শিক্ষকের চাকরি চলে গেছে। দাবি না মানা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে অবরুদ্ধ করে রাখবে বলে জানিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক মাসে বিভিন্ন বিভাগের ৭ শিক্ষককে নানা কারণ দেখিয়ে চাকরি ছাড়তে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা হলেনÑ এসইউবির উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক

এসএমএ ফায়েজ, ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক মহব্বত আলী, একই বিভাগের প্রভাষক এজাজ জামান, জাবের আল ইসলাম, প্রভাষক ও সহকারী প্রক্টর হাবিবা কিবরিয়া, স্থাপত্য বিভাগের প্রধান সাজ্জাদ কবির এবং স্থাপত্য বিভাগের প্রভাষক মিজান।

অধ্যাপক ফায়েজের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দেখাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থাপত্য বিভাগের প্রধান সাজ্জাদ কবির। সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে কিনাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে সাজ্জাদ কবির বলেন, তারা আমাদের রেজিগনেশন (পদত্যাগ) দিতে বলেন। সে মোতাবেক আমরা রেজিগনেশন লেটার সাবমিট করি। ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের উপদেষ্টা ড. মহব্বত আলী জানান, তাকে অপসারণ করা হয়েছেÑ এমন কোনো কিছু লিখিত দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর তাকে জানিয়েছেন, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রেসিডেন্ট চান না মহব্বত আলী থাকুক। পরে তিনি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে জানতে ম্যাসেজ পাঠালেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খরচ কমানোর জন্যও এমনটা করতে পারে বলে ধারণা করছেন এ অধ্যাপক।

এ ব্যাপারে এসইউবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একই বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফারহানা শারমিনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে ‘মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন রেখে দেন।

এদিকে সমস্যা সমাধানে বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা। বৈঠকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির অভিযোগের তদন্ত করে ৭ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থগিত করে শিক্ষার্থীরা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে