মির্জা ফখরুলের দাবি

ভয়াবহ মিথ্যাচার করছে সরকার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রের অর্থের অপব্যবহার করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে সরকার ‘মিথ্যা প্রচার’ চালাচ্ছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সুচিন্তিতভাবে একটা ভয়াবহ রকমের, জঘন্য রকমের অপপ্রচারে মেতে উঠেছে। এটা করতে গিয়ে তারা সরকারি অর্থ ব্যয় করে সোশ্যাল মিডিয়া, দেশের প্রিন্টিং মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমকে ব্যবহার করছে। সরকারি দল ও মন্ত্রীরা জঘন্য মিথ্যাচার শুরু করেছে। গতকাল

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গতকাল বিভিন্ন পত্রিকায় একটা সিন্ডিকেটেড নিউজ ছাপানো হয়েছে, পাকিস্তানের দূতাবাসের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি এবং তথাকথিত আইএসআইয়ের সঙ্গে লন্ডনে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বৈঠক করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এটা বলেছেন। ওবায়দুল কাদেরের মতো একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের মতো দলের সাধারণ সম্পাদকের মুখ দিয়ে এ ধরনের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন জঘন্য মিথ্যাচার হওয়াটা শুধু অপ্রত্যাশিত ও অনাকাক্সিক্ষতই নয়, এটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতিও জঘন্য আঘাত বলে মনে করি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও প্রতিবাদ করছি।

আমি খুব দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি, এ ধরনের কোনো বৈঠক কখনই অনুষ্ঠিত হয়নি এবং লন্ডনেও আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কোনো সংস্থার কোনো রকমের বৈঠক হয়নি। এটা শুধু বিএনপিকে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং জঘন্য মিথ্যাচার। আমরা এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হব।

প্রধানমন্ত্রীর তনয় সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক আইডিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেনের একটি কার্টুন দেখিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, কার্টুন দিতেই পারেন। সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক নেতাদের কার্টুন আসতেই পারে। যখন আওয়ামী লীগের নেতা, প্রধানমন্ত্রী অথবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কার্টুন দেওয়া হয় তখন তাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রামের মহিলা তাকেও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আমার একটা ছবি দেখেন। যখন আমি রাঙামাটি যাচ্ছিলাম, সেই পথে আমার ওপর আক্রমণ করা হয়, আমাদের গাড়ি ভেঙে দেয়, কাপড়-চোপড়গুলো ছিঁড়ে যায়, রক্তাক্ত হয়। তখন একটা ছবি আপনারা (সাংবাদিকরা) নিয়েছিলেন। এই ছবিটা নিয়েই গত পরশু আমাদের এখানে কিছু কিছু মনোনয়নপ্রত্যাশীর সমর্থকরা বিক্ষোভ করছিলেন। তাদের মধ্য দিয়ে আমি বেরিয়ে যাই। তখন ওই ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে সেদিন নাকি আমার এই অবস্থা হয়েছে (হাসতে থাকে)। এই যে চরিত্র হনন করা এসব তাদের স্বভাবজাত। এদের বিরুদ্ধে কিন্তু মামলা হয় না।

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপির কোনো নেতা পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক করেননি। শেখ হাসিনার উপদেষ্টা গওহর রিজভীই সাত দিন পাকিস্তানে কাটিয়ে এসেছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গতকাল রবিবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান ধানম-িতে দলের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, পাকিস্তান হাইকমিশনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাক্ষাৎ ও গোপন বৈঠক করেছেন। এটি ভিত্তিহীন জানিয়ে পাকিস্তান দূতাবাস প্রতিবাদ পাঠিয়েছে। পাকিস্তানের কোনো কূটনীতিকের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক হয়নি। এটি আওয়ামী লীগ ও তাদের দলীয় গণমাধ্যম প্রচার করছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে