উইন্ডিজ সমতা ফেরাল

  সুসান্ত উৎসব

১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জয়ের উল্লাসে এবার আর মেতে ওঠা হলো না। হোম ভেন্যুতে পরাজিত সৈনিকের বেশেই মাঠ ছাড়ল টাইগাররা। এরই মধ্য দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের অপেক্ষাও বাড়ল

মাশরাফি-সাকিবদের।

হোপ মানে আশা। উইন্ডিজদের আশার প্রদীপতো শাই হোপ-ই। সে আলোয় আলোকিত সফরকারীদের ড্রেসিংরুম। অন্ধকারে মিইয়ে যেতে থাকা পাওয়েল-হেটমায়ারদের মুখগুলো সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠতে থাকে হোপের নায়কোচিত ইনিংসের সুবাদে। তার সেঞ্চুরিতেই তো সিরিজ জিইয়ে রাখল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুক্রবার সিরিজের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সিলেটে। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচটি ৪ উইকেটে জিতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে দুদল এখন সমান বিন্দুতে (১-১) বিরাজমান। শেষ ম্যাচের জয়ী দলের হাতেই উঠবে ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা।

শাই হোপ একাই টেনেছেন দল। সঙ্গী হিসেবে কখনো পেয়েছেন ব্রাভো, স্যামুয়েলস, হেটমায়ার, পাওয়েলকে। বড় কোনো জুটি গড়ার পথে কখনো বা মোস্তাফিজ, রুবেল কিংবা মিরাজ-মাশরাফিরা দিয়েছেন হানা। অবশ্য তাতে ল-ভ- হয়নি ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ! দক্ষ নাবিকের মতো উত্তাল সাগরের বুক চিড়ে দলকে বরং একাই টেনে নিয়ে গেছেন শাই হোপ। বাংলাদেশের বিপক্ষেই খেললেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। ঠা-া মাথায় ব্যাটিং করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ১৪৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন উইন্ডিজ ওপেনার। হোপের ১৪৪ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১২ চার ও তিনটি ছক্কায়। পল তাকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন। জয়সূচক রানও এসেছে তার ব্যাট থেকে। ৩১ বলে ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন পল।

টস হারাটাই হয়তো বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল! তা না হলে ইনিংসের শুরুতেই কেন চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যেতে হবে লিটন দাসকে? অবশ্য বাংলাদেশের ফিল্ডিংও হয়েছে বাজে। তাইতো ২৫৫ রান করেও ম্যাচটি ২ বল বাকি থাকতে জিতে নিয়েছে উইন্ডিজ।

ব্যাটিং পজিশন নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই গেল। টিম ম্যানেজম্যান্ট যেন ঠিকই করতে পারছেন না কাকে কোন পজিশনে খেলাবে! ওয়ান ডাউনে সফল ছিলেন সাকিব আল হাসান। উইন্ডিজ সিরিজে তাকে খেলানো হচ্ছে পাঁচে। অবশ্য এখানেও আলো ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার। প্রথম ম্যাচে ৩০ রান করেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে এসে রীতিমতো ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়ালেন সাকিব। ৬৫ রানের দৃষ্টিনন্দন এক ইনিংস খেলেছেন। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ‘জীবন’ পান তিনি। এর পরই ব্যাট হাতে চড়াও হন। ৫৪ বলে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪০তম ফিফটি।

সাকিব ছাড়াও ব্যাটে অবদান রেখেছেন পঞ্চপা-বের আরও দুজনÑ তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। দুজনই ফিফটির দেখা পেয়েছেন। এশিয়া কাপে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া তামিম ফিরেছেন এ সিরিজে। প্রথম ম্যাচে অবশ্য হাসেনি তার ব্যাট। তবে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় ম্যাচেই ফিফটির স্বাদ পেয়েছেন। ৬৩ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলার পথে তামিম মেরেছেন চারটি চার ও এক ছক্কা।

মুশফিকুর রহিম ব্যাট হাতে প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রমাণ করেই চলেছেন। ৫৫* রান করেছিলেন প্রথম ম্যাচে। দ্বিতীয় ম্যাচে এসে ৬২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন। তামিমের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে গড়েন শতরানের (১১১*) জুটিও। আর তাতেই শুরুর চাপটা কাটিয়ে ওঠে বাংলাদেশ।

সিরিজ জয়ের ম্যাচ ছিল টাইগারদের। তাইতো উইনিং কম্বিনেশন ভাঙেনি টিম ম্যানেজম্যান্ট। প্রথম ম্যাচের একাদশই মাঠে নেমেছিল। তবে এই ম্যাচেও জ্বলে উঠতে পারেননি ইমরুল কায়েস। এ ছাড়া ইনিংসের শুরুতেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া লিটন দাস ও সৌম্য সরকারও নিজেদের ছায়া হয়েছিলেন। শেষের দিকে বেশ আঁটসাঁট বোলিং করেন সফরকারীরা। তাতেও প্রত্যাশিত রান ওঠেনি। তারপরও ২৫৫/৭ রান তুলে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল টাইগাররা। হোপের ব্যাটে সে চ্যালেঞ্জ বেশ ভালোভাবেই এ যাত্রায় উতরে গেলেন সফরকারীরা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে