বিভক্ত আদেশে ঝুলে গেল খালেদার ভোট

আপিল বিভাগে টুকু ও দুলুর আবেদন শুনানি আজ # সাড়া পাননি হাওলাদারসহ ১০ জন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার দাবিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে হাইকোর্টে করা রিটে বিভক্ত আদেশ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া ওই আদেশে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে ইসিকে নির্দেশ দেন। মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রুলও জারি করেন এ বিচারপতি। অন্যদিকে বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি ইকবাল কবির জ্যেষ্ঠ বিচারপতির আদেশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করেন।

এ বিভক্ত আদেশের ফলে এখন নিয়ম অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি একটি নতুন বেঞ্চ (তৃতীয় বেঞ্চ) গঠন করে

দেবেন। সেখানেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে বলে বিভক্ত আদেশের ফাইলটি দুপুরেই প্রধান বিচারপতির দপ্তরে পৌঁছায়। তবে গতকাল কোনো বেঞ্চ গঠন হয়নি বলে জানা গেছে।

দুদকের মামলায় ১৭ বছরের দ-প্রাপ্ত কারাবন্দি খালেদা জিয়া ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। দ-ের কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্রগুলো বাতিল করে দেন। এর বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া আপিল করলে তাও ইসিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নাকচ হয়ে যায়। এর পর রবিবার হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সোমবার এ রিটের ওপর বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের বেঞ্চে শুনানি হয়। গতকাল সকালে দেওয়া আদেশে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রেফাত আহমেদ বলেন, ‘আমি রুল জারি করতে সম্মত হয়েছি। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে আবেদকারীর প্রার্থনা মঞ্জুর করে আদেশ দিচ্ছি। বেঞ্চের অন্য বিচারপতি ইকবাল কবির এ আদেশ প্রদানে দ্বিমত পোষণ করেছেন। এরূপ ভিন্ন মতের কারণে ফাইল প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর আদেশ দিচ্ছি।’

এ দিকে, ঋণখেলাপির অভিযোগে ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলী আজগরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে হাইকোর্টের আদেশ গতকাল বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তিনি আর নির্বাচন করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

টুকু, দুলুসহ পাঁচ জনের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং বগুড়ার তিনজন উপজেলা চেয়ারম্যানের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে নির্বাচনের সুযোগ দিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ আদালত। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ইসির করা আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী একদিনের জন্য এ স্থগিতাদেশ দেন। আবেদনগুলোর ওপর আজ বুধবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন তিনি। এ আদেশের ফলে তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আবারও আটকে গেল বলে জানিয়েছেন ইসির আইনজীবীরা।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দুদকের মামলায় ১৩ বছরের এবং দ-বিধির মামলায় দুলু সাত বছরের দ-প্রাপ্ত। এ কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং অফিসার ও ইসি। কিন্তু তাদের দ-ের কার্যকারিতা স্থগিত থাকায় সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের প্রার্থিতা বৈধ উল্লেখ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে ইসি গতকাল আপিল বিভাগে আবেদন জানায়।

এ ছাড়া, বগুড়ার আব্দুল মুহিত তালুকদার, সরকার বাদলসহ তিনজন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় রিটার্নিং অফিসার ও ইসি তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।

হাওলাদারসহ ১০ জন সাড়া পাননি

প্রার্থিতা ফিরে পেতে জাতীয় পার্টির সদ্য সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে মীর হেলাল উদ্দিন, মশিউর রহমানসহ অন্তত ১০ জন প্রার্থীর আবেদনে সাড়া দেননি হাইকোর্ট। বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর বেঞ্চ তাদের আবেদনগুলো শুনানি নিয়ে আউট অব লিস্ট (কার্যতালিকা থেকে বাদ) করেছেন। বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে