দুই-তৃতীয়াংশ আসন আ.লীগের লক্ষ্য

‘নিজেদের’ মধ্যে লড়াই কমপক্ষে সাতটিতে

  আলী আসিফ শাওন

১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:৪৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যূনতম ২০১ আসনে বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। ৩শ আসনবিশিষ্ট জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয় নিশ্চিত করে পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে বেশ কিছু আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা ভোটে নিজেদেরই মুখোমুখি হলেও এ নিয়ে তেমন চিন্তিত নয় দলটি। আওয়ামী লীগের

 শীর্ষ নেতারা চাইছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয় নিশ্চিত করতে। অবশিষ্ট আসনগুলোয় যে দলের বা যে প্রার্থীই জয়ী হোক, স্বাগত জানাবে ক্ষমতাসীন দলটি। উল্লেখ্য, ১৫১ আসন পেলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠন করা গেলেও সংবিধান সংশোধন বা আইন পাসে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, আমাদের লক্ষ্য পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে সংসদে যাওয়া। সব আসনের মধ্যে অন্তত ৭টি আসনে শক্তিশালী বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। এসব আসনে মহাজোট মনোনীত প্রার্থীদের মুখোমুখি হবেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। জানা গেছে, ৩০০ আসনের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু কিছু আসনের প্রার্থীরা কেন্দ্রের অনুরোধ সত্ত্বেও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এসব আসনের প্রার্থীরা মহাজোট মনোনীত প্রার্থীদের ঘাম ঝরাবে বলে তারা ধারণা করছেন।

রংপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় কোনো প্রার্থী দেয়নি। মহাজোটের পক্ষ থেকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে। এ আসনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে ভোটের মাঠে নেমেছেন আসাদুজ্জামান বাবলু। উপজেলা চেয়ারম্যান পদেও তিনি দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তাই তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলের পদে না থাকলেও মোটরকার মার্কা নিয়ে তিনি আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নামায় ঘাম ঝরবে মহাজোট প্রার্থী মশিউর রহমান রাঙ্গার।

নেত্রকোনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মানু মজুমদার। এখানে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী আপেল মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। রুহী ও মানু দুজনই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন। এ আসনে বর্তমান এমপি ছবি বিশ্বাসের পরিবর্তে মানু মজুমদারকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখন দলের মনোনীত মানুকে লড়তে হবে মূলত নিজ দলেরই নেতা রুহীর সঙ্গে।

পিরোজপুর মঠবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ দলীয় কোনো প্রার্থী দেয়নি। মহাজোট প্রার্থী ডা. রুস্তম আলী ফরাজীকে আসনটি ছাড় দেওয়া হয়েছে। এখানে তার শক্ত প্রতিপক্ষ মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া আশরাফুর রহমান। আপেল প্রতীকে নির্বাচন করছেন ব্যাপক জনপ্রিয় এই চেয়ারম্যান।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে দলীয় কাউকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। মহাজোটের পক্ষে প্রার্থী হয়েছেন জেলা জাপা সভাপতি মো. নোমান। এ আসনে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে নামা কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল। কুয়েত প্রবাসী পাপুল গত কয়েকমাস এলাকায় বিপুল পরিমান অর্থ খরচ করেছেন। আওয়ামী লীগ তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীই তার মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন। নোমানের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আপেল প্রতীকের এ প্রার্থী লড়াইয়ে থাকছেন।

ফরিদপুর ৪-এ আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ। এ আসনে এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন বর্তমান সাংসদ নিক্সন চৌধুরী। জাফরউল্লার নৌকা প্রতীকের বিপরীতে সিংহ প্রতীক নিয়ে কঠিন লড়াই করবেন তিনি। গত নির্বাচনেও এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে ভোটযুদ্ধে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ। এ আসনটির আধিপত্য নিয়ে কাজী ও চৌধুরী পরিবারের দ্বন্দ্ব অনেকদিনের।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দলের কাউকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। জাপার বর্তমান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার জন্য মহাজোট থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে আসনটি। এখানে তার বিপরীতে রয়েছেন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত। তিনি এবার সিংহ প্রতীকে নির্বাচন করছেন খোকার লাঙলের বিপরীতে।

ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। আসনটি আওয়ামী লীগের কাছে চেয়েও পাননি বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তাই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নেমেছেন। এছাড়া জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদও আসনটি চেয়েছিলেন মহাজোট থেকে। কিন্তু তাকে শুধু রংপুর-৩ আসনটি দেওয়া হয়েছে। সাবেক এই রাষ্ট্রপতিও এ আসনে উন্মুক্ত প্রার্থী হিসেবে লড়বেন।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে