ঐক্যফ্রন্টের প্রচার শুরু

সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে নিতে হবে : ড. কামাল

  সজল ছত্রী, সিলেট

১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৩৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

আধ্যাত্মিক নগরী সিলেট থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গণসংযোগ শুরু করেছে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ৩৬০ আউয়ালিয়ার পুণ্যভূমিতে গিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা হাজার হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করেন।

সেখানেই ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করতে হবে। ভোট দিয়ে কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ড. কামাল হোসেনের এ আহ্বানের মধ্য দিয়ে মূলত ঐক্যফ্রন্টের

আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়। দুপুর থেকেই মাজার প্রাঙ্গণে হাজার হাজার নেতাকর্মী তাদের স্বাগত জানাতে জড়ো হন। মাজারের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। সেখানে পথসভার কথা থাকলেও পুলিশ তার আগেই মাইক ও অন্য সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যায়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের দুপুরে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরুর কথা থাকলেও তারা দেরিতে সিলেটে পৌঁছেন। নির্দিষ্ট সময়ের দুই ঘণ্টা পর ঢাকা ছাড়ে তাকে বহনকারী বিমান। মাজার জিয়ারত শেষে সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের পক্ষে প্রচারপত্র বিলি করে করেন ড. কামালসহ ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতারা।

জাতীয় ঐকফ্রন্টের শীর্ষনেতা, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, স্বাধীনতার লক্ষ্যই সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। কিন্তু প্রতিদিন আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আলামত নয়। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে জনগণের মালিকানা থাকে না। আর জনগণের মালিকানা না থাকলে স্বাধীনতা থাকে না। তিনি বলেন, আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকব। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর সকালে আপনারা ভোট দিয়ে কেন্দ্র পাহারা দিবেন। দুই নম্বরি করতে দিবেন না।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব হলো জনগণের অধিকার রক্ষা করা। সরকারের কোনো অসৎ উদ্দেশ্যকে সমর্থন না করা। তার বিরুদ্ধে আনা কর ফাঁকির অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. কামাল বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এজন্য মানহানি মামলা করব।

ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। প্রধানমন্ত্রী মুখে বললেও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না।

কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, আজ সারাদেশে অবরুদ্ধ অবস্থা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সারাদেশ ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থী নেই। ঐক্যফ্রন্টের একমাত্র প্রার্থী বেগম খালেদা জিয়া। বাকি সবাই তার প্রতীক। মাজার জিয়ারতের পর আ স ম আবদুুর রবের নেতৃত্বে অপর একটি দল সিলেটের জৈন্তাপুরের বটতলা এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করে।

বিকেল ৪টায় বিমানে সিলেট পৌঁছান ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

সন্ধ্যায় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি জনসভার উদ্দেশে রওনা দেন। এরমধ্যে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বে দক্ষিণ সুরমায় ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে জৈন্তাপুরের বটতলার সমাবেশের উদ্দেশে যান নেতারা। মোগলাবাজারের জনসভায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যান জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্ণধার ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী। জৈন্তাপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে যান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী।

সিলেট-৩ আসনের মোগলাবাজারে রাতে অনুষ্ঠিত পথসভায় সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ সুরমা বিএনপির সভাপতি শাহাব উদ্দিন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ড. কামাল হোসেন। বক্তব্য রাখেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, সিলেট-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, আলী আহমদ, আব্দুল আহাদ খান জামালসহ স্থানীয় নেতারা।

এদিকে, কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেট পৌঁছার আগে দুপুরে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে আনা মাইক ব্যবহারে বাধা দেয় পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টায় কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিয়া ওখানে গিয়ে বলেন, অনুমতি ছাড়া মাইক ব্যবহার করা যাবে না। পরে দরগাহ প্রাঙ্গণে মহিলা এবাদতখানা ও বিশ্রামাগারের সামনে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের জন্য রাখা একটি সোফা ও মাইক নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় ওসি বলেন, ঐক্যফ্রন্টকে রেজিস্ট্রারি মাঠে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, দরগাহে নয়। তারা কোনো অনুমতিও চাননি।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানান, চেয়ার, টেবিল, মাইক নিয়ে যাওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত কোনো সহযোগিতা লাগবে কি-না জানতে চায় পুলিশ। জবাবে আপাতত প্রয়োজন নেই বলে তাদের জানিয়েছি।

রেজিস্ট্রারি মাঠে সভা না করার কারণ বলতে গিয়ে মহানগর বিএনপি নেতা ও সিটি কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদি বলেন, সময় স্বল্পতা ও একাধিক কর্মসূচি থাকায় রেজিস্ট্রারি মাঠের সভা স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাজার জেয়ারতের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখার জন্য একটি ছোট মঞ্চ ও মাইক বসানো হয়েছিল। পুলিশ সবকিছু নিয়ে গেছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে