শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে ‘বিপজ্জনকদের’ তালিকা প্রস্তুত

  শাহজাহান আকন্দ শুভ

১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:২৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পাদনের ক্ষেত্রে যেসব ব্যক্তি বিপজ্জনক হতে পারে, তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছে পুলিশ। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ-বোমাবাজদের নাম এতে স্থান পেয়েছে।

এ ছাড়া যেসব ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাদেরও তালিকায় রাখা হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ। এর আগেই তালিকাভুক্তদের আইনের আওতায় আনতে চায় পুলিশ। ইতোমধ্যে তালিকাটি জেলায় জেলায় পৌঁছে গেছে।

শুরু হয়ে গেছে তালিকায় অন্তর্ভুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান। ২০ ডিসেম্বর থেকে এ অভিযান আরও জোরদার করতে মাঠ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে সদর দপ্তর। নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করতেই এ তালিকা এবং এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান, জানিয়েছেন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা।

সূত্রমতে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে দেশজুড়ে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, এবারের তালিকা প্রণয়নে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছে পুলিশ। তখন যারা গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং ভোটকেন্দ্রে হামলা-অগ্নিসংযোগে লিপ্ত ছিলেন, তাদের দিকে এবারও নজর রাখা হচ্ছে।

তাদেরও আসন্ন ভোটের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে দেখছে পুলিশ। ২০১৪ সালে নাশকতার মামলায় আসামিদের মধ্যে যারা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তাদের বেশিরভাগই পরবর্তী সময়ে জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান। তাদের মধ্যে বর্তমানে অনেকের বিরুদ্ধেই আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তারা গ্রেপ্তার এড়াতে গা ঢাকা দিয়ে আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশের একাধিক সূত্র।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা আমাদের সময়কে বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে যেমন দরকার, তেমন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যা কিছু প্রয়োজন, পুলিশ তা-ই করবে এবং তা অবশ্যই আইনের মধ্যে থেকে। যেখানেই আইনের ব্যত্যয় ঘটবে, সেখানেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে আসনভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে পুলিশ। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে ভোটের জন্য বিপজ্জনক ব্যক্তিদের তালিকা। তালিকায় যেন কোনো ধরনের নিরপরাধ ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত না হয়, এ জন্য একাধিক সোর্স থেকে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এ নিয়ে মাঠ পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ ছাড়া সারাদেশকে ৮ অঞ্চলে ভাগ করে যে ৮ পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারাও যোগাযোগ রাখছেন মাঠ পুলিশের সঙ্গে। ইতোমধ্যে আসনভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকাও প্রণয়ন করেছে পুলিশ। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তায় বাড়তি নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, হঠাৎ নির্বাচন বানচাল করতে দেশজুড়ে ব্যাপক নাশকতামূলক কর্মকা- চালানো হতে পারে। এ জন্য সারাদেশে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরের বৈঠক থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক নাশকতামূলক কর্মকা- ঘটে। এসব ঘটনায় সেই সময় নির্বাচন বয়কট করা বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীসহ অবৈধ অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী ও বোমাবাজদের বিরুদ্ধে সাড়ে ৬ হাজার মামলা করা হয়। এসব মামলার আসামিদের অধিকাংশই এখন জামিনে আছেন। কেউ কেউ জামিন না নিয়ে শুরু থেকেই পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে