৫ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার রূপরেখা

বাজেটে প্রাধান্য পাবে গ্রাম

২০১৯-২০ অর্থবছর

  আবু আলী

১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৪১ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী ইশতেহারে গ্রামে গ্রামে শহরের মতো সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গ্রামকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির কেন্দ্রীয় দর্শন হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নেও এ লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এবার সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ১০ মেগা প্রকল্প ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ১০ উদ্যোগ বাস্তবায়নে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচি সামনে রেখে নতুন বাজেট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি গ্রামের রাস্তা পাকাকরণ, আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ এবং ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগসহ ১৫টি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে আগামী অর্থবছরের বাজেটের একটি রূপরেখা প্রাক্কলন করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, বাজেটের আকার হচ্ছে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকার; যা এ অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বা সাড়ে ১৩ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার। আগামী বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার প্রস্তাব করা হয়েছে এক লাখ ৯৮ হাজার ৪০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

জানা গেছে, স্বাধীন দেশে জাতির পিতা সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে নগর ও গ্রামের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করার উদ্দেশ্যে কৃষি বিপ্লব, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তর সাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে অঙ্গীকার যুক্ত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার প্রতিটি গ্রামে শহরের মতো সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে।

এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দুই বছরের মধ্যে রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নেও। এ সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য সম্পূর্ণ দূর করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে চায় সরকার।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে গ্রাম। গ্রামের সব স্কুল-কলেজ আধুনিকায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন, কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, কৃষিভর্তুকি বাড়ানো ও উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, ব্যাংকের শাখা গ্রামে বাধ্যতামূলক চালুকরণ, সহজশর্তে ব্যাংক হিসাব খোলা ও ঋণপ্রাপ্তি, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ, স্বল্প খরচে ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ, এলপি গ্যাস সহজলভ্য করা, ভূমিহীনকে খাসজমি বরাদ্দ, গৃহহীনকে ঘর দেওয়া, আধুনিক বাজারব্যবস্থা চালু, সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়িয়ে দারিদ্র্য সম্পূর্ণরূপে দূরীকরণ এবং ‘লাঙল যার জমি তার, জাল যার জলা তার’ নীতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে প্রতিটি গ্রামে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। এ জন্য গ্রামকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। গ্রামে সুবিধা না বাড়ালে মানুষের শহরে আসার প্রবণতাও কমবে না। এ ছাড়া এসডিজি বাস্তবায়নেও গ্রামের উন্নয়ন করতে হবে। উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরিতেও নজর দিতে হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে