বছরের শুরুতেই অস্থিতিশীল চাল-আটার বাজার

বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই দাম কমবে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৪৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুরনো ছবি
বছরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই বেড়ে গেছে চাল, আটা ও ময়দার দাম। মানভেদে চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া আটা ও ময়দার দাম কেজিপ্রতি ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতা ও বিক্রেতারা মিল মালিকদের দোষারোপ করছেন। গত বুধবার থেকে চালের দাম বাড়তে শুরু করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, চালের দাম আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই কমে আসবে। গতকাল শুক্রবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিদপ্তরে খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে চাল ব্যবসায়ী সমিতি, আড়তদার ও অটো চাল মিল মালিকদের মতবিনিয়ময়সভায় চালের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই বলে জানান। প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি চাল ও খাদ্যশস্য মজুদ আছে। তার পরও চালের দাম বাড়বে কেন জানান তিনি।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ানবাজার, হাতিরপুল ও পলাশীবাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা ভালো

মানের মিনিকেট চালের কেজি ছিল ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা, নির্বাচনের আগে ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা। সে হিসাবে কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৬ টাকা। মাঝারি মানের চাল বিআর-২৮ ও লতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা কেজিতে, যা আগে ছিল ৩৮ থেকে ৪২ টাকা। কেজিতে দাম বেড়েছে ৬ টাকা। কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মোটা চাল, যা নির্বাচনের আগে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করছেন, মিল মালিকরা কারসাজি করে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। গম আমদানিকারক ও আটা বিপণনকারীদের দাবি, বিশ্ববাজারে গমের দাম বেশ বেড়েছে, সে অনুপাতে আটার দাম বাড়েনি।

ঢাকার পলাশীর চাল ব্যবসায়ী রহমত উল্লাহ বলেন, তিন-চার দিন থেকে চালের দাম বেড়েছে। নির্বাচনের আগে ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৬৫০ টাকায়। এখন সেই চাল বিক্রি করছি ২ হাজার ৭৫০ টাকায়। ১ হাজার ৯৫০ টাকা বিক্রি করা বিআর-২৮ চালের বস্তা এখন বিক্রি করছি ২ হাজার ২৫০ টাকায়।

তারা আরও বলেন, হঠাৎ কী কারণে চালের দাম এমন বাড়ল কিছুই বুঝতে পারছি না। মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এর আগে চালের দামের সবচেয়ে অস্বস্তিকর সময় ছিল ২০১৭ সালের সেপ্টে¤র ও অক্টোবরে। ওই সময় খুচরা বাজারে মোটা চালের দর কেজিপ্রতি ৫০ টাকায় উঠেছিল। আর সরু চাল ছিল কেজিপ্রতি ৬৫ টাকা।

কারওয়ানবাজারের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আটা ও ময়দার দাম কেজিপ্রতি ২ টাকা করে বেড়েছে। প্রতিকেজি আটা ৩৩ টাকার বিপরীতে এখন ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ৯০ টাকা দরের ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৯২ টাকায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের জন্য ২-৩ দিন যানবাহনের সমস্যা ছিল। এ কারণে চালের দাম বেড়েছে। বৃহস্পতিবার মিল মালিক, ধান ব্যবসায়ীসহ অন্যদের সঙ্গে বসেছিলাম। তারা কথা দিয়েছেন সপ্তাহখানেকের মধ্যে চালের দাম কমাবেন। তিনি বলেন, আমাদের গুদামগুলোয় প্রচুর পরিমাণে ধান-চাল মজুদ রয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে