ক্যাবের তথ্য

রাজধানীতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ ভাগ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:০৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

কর্মসংস্থান কিংবা ব্যবসাসংশ্লিষ্ট কাজে প্রতিনিয়ত শহরমুখী হচ্ছে মানুষ। শহরকেন্দ্রিক এ চিন্তার কারণে রাজধানীতেও বেড়ে চলেছে জনসংখ্যা। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চাহিদা ও জীবনযাত্রার ব্যয়। গত বছর রাজধানীতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ শতাংশ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এ তথ্য জানিয়েছে। একই সঙ্গে পণ্য ও সেবার মূল্য ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে জীবনযাত্রার ব্যয়ের এ হিসাব প্রকাশ করেন ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান। এ সময় ক্যাবের উপদেষ্টা এম শামসুল আলমসহ ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবার মধ্য থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী ও ১৪টি সেবার তথ্য পর্যালোচনা করে এ হিসাব দিয়েছে ক্যাব। তবে এ হিসাব শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রকৃত যাতায়াত ব্যয়বর্হিভূত।

ক্যাবের তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালে আগের বছরের তুলনায় সব ধরনের চালের গড় মূল্য বেড়েছে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। তবে গত বছর সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে প্রসাধনী পণ্য সাবানের। পণ্যটির দাম গড়ে ২০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে মাছের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, শাকসবজির গড়ে দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ ছাড়া তরল দুধে ১০ দশমিক ৩৩, মাংসে ৩ দশমিক ৩৭, ডিমে ৭ দশমিক ৭১ ও চা-পাতায় ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ দাম বেড়েছে। দুই কক্ষবিশিষ্ট বাড়িভাড়া ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। শাড়ি, কাপড়, নারিকেল তেল, ওয়াসার পানি প্রভৃতি জিনিসেরও দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে ২০১৮ সালে তার আগের বছরের তুলনায় ডাল, লবণ, মসলা, চিনি ইত্যাদি পণ্যের দাম কমেছে। দেশি মসুর ডালের দাম কমেছে ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ, আমদানিকৃত মসুর ডালে কমেছে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ, আস্ত ছোলায় দাম কমেছে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। দেশে উৎপাদিত রসুনের দাম কমেছে কেজিপ্রতি ২০ দশমিক ৫৩ শতাংশ আর আমদানিকৃত রসুনের দাম কমেছে ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশ, কাঁচামরিচের দাম কমেছে ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। চিনির দাম কমেছে ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, লবণের দাম কমেছে গড়ে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

বেশ কিছু শাকসবজির দামও নিম্নমুখী ছিল, যেমন-লালশাকের দাম কমেছে ১৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ, পটোলের দাম কমেছে ১০ দশমিক ১১ শতাংশ, ঝিঙার দাম কমেছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, আর ঢেঁড়সের দাম কমেছে ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিগত বছরগুলোতে চাল উৎপাদনে বাংলাদেশের স্বয়ংসম্পূর্ণতা ২০১৭ সালে বন্যা ও রোগবালাইয়ের কারণে ক্ষুণ্ন হয়। ফলে খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পায়। এ প্রেক্ষাপটে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার চালের আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ করে। সরকারি গুদামেও সন্তোষজনক মজুদ গড়ে তোলা হয়। চালের মূল্য, বিশেষ করে মোটা চালের দাম ২০১৮-এর শুরু থেকে ক্রমান্বয়ে সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে।

বিদ্যুৎ খাতে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে সাশ্রয়ী মূল্যে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহে নানা পরামর্শ তুলে ধরেন ক্যাব সভাপতি। পাশাপাশি কৃষকদের উৎসাহ দিতে প্রয়োজনীয় নীতি গ্রহণ করা ও আর্থিক খাতে দুর্নীতির মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আইনের সংস্কার আনার কথা বলেন তিনি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে