প্রকাশিত বক্তব্য

আহমদ শফীর অস্বীকার উচ্চশিক্ষিত হোক নারীরা

  হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য অস্বীকার করেছেন হেফাজত আমির শাহ আহমদ শফী। গতকাল শনিবার হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপত্র মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক সরওয়ার কামাল স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আহমদ শফীর কথিত বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, মাহফিলে দেওয়া তার বক্তব্যের একটি খ-াংশ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে হেফাজত আমিরের কার্যালয় থেকে ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে আহমদ শফীর দেওয়া বক্তব্য উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘আপনাদের মেয়েদের স্কুল-কলেজে দেবেন না। বেশি হলে ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়াতে পারবেন।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে হেফাজত আমির বলেন, বক্তব্যে আমি মূলত বলতে চেয়েছি ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দার লঙ্ঘন হয়, এমন প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের পড়াশোনা করানো উচিত হবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এখানে শিক্ষা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ যাবতীয় সব কিছুই রয়েছে। ইসলামে নারীদের শিক্ষার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে। সবাই জানেন, উম্মুল মুমিনিন হজরত মা আয়িশা (রা.) ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস। তিনি শিক্ষাগ্রহণ না করলে উম্মত অনেক হাদিস থেকে মাহরুম হয়ে যেত। আমি আমার বক্তব্যে বলতে চেয়েছি, আমাদের দেশের বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষা কেন্দ্রগুলোয় সহশিক্ষা দেওয়া হয়, অর্থাৎ ছেলেমেয়ে একই সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। এতে পর্দার লঙ্ঘন হয়। আমি মূলত এই সহশিক্ষা গ্রহণেই মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমাকে নারীবিদ্বেষী ও নারীশিক্ষা বিদ্বেষী বলে প্রচার চালানো হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হচ্ছে। আমি কওমিপন্থি ছয় বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকারী হাইয়াতুল উলইয়ালিল জামিয়াতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আপনারা জানেন, ওই ছয় বোর্ডের অধীনে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সনদ গ্রহণ করে থাকেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দিয়েছেন। এতে লাখো মাদ্রাসা ছাত্র ও ছাত্রী দাওয়ারে হাদিস পাস করে মাস্টার্সের সমমান অর্জন করছেন। সেই বোর্ডের প্রধান হয়ে আমি কীভাবে নারী শিক্ষার বিরোধী হলাম তা বোধগম্য নয়।

হেফাজত আমির বলেন, নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, তবে নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয় আমরা আগেও সতর্ক করেছি, এখনো করছি। আমি চাই এ দেশের নারীরা শিক্ষিত হোক, কারণ মা শিক্ষিত হলেই সন্তান সঠিক শিক্ষা পাবে। নারীদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য পরিবেশ তৈরি করুন। যেখানে পরিচালক থেকে শুরু করে কর্মকর্তারা সবাই নারী থাকবেন। সে ধরনের শিক্ষা দানের ব্যবস্থা থাকলে তাতে উৎসাহিত করব।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে