রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় দিনে হকার নয়

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:৫৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাপ্তাহিক কর্মদিবসে রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিলসহ ঢাকার ব্যস্ততম কোনো এলাকায় জনগণের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর অবস্থানভেদে হকাররা তাদের ব্যবসা করতে পারবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের হকার তালিকার মধ্যে যদি কেউ পেশা ছেড়ে চাকরি কিংবা বিদেশ যেতে আগ্রহী হন তারা সিটি করপোরেশনে আবেদন করলে তাদের চাকরি দিতে নগর কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করবে। ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন গতকাল বুধবার এসব কথা বলেন।

নগর ভবন সেমিনার কে হকার্স পুনর্বাসন ও হলিডে মার্কেট চালু প্রসঙ্গে হকারদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় মেয়র আরও বলেন, লাইনম্যান নামধারীরা আসলেই চাঁদাবাজ। হকার নেতাদের প্রদত্ত তালিকা অনুযায়ী করপোরেশনের প থেকে এই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, হকারদের আইডি কার্ডের প্রস্তাব এসেছে, আমরা সেটা চালু করতে পারি। আমরা সপ্তাহে একদিন হলিডে মার্কেট নির্ধারণ করেছি। একদিনের ব্যবসা দিয়ে হকারদের সাতদিন চলবে না। তাই আমরা শুক্রবারের পাশাপাশি শনিবারও হলিডে মার্কেট চালুর বিষয়ে বিবেচনা করছি। এেেত্র শনিবার যেসব এলাকায় অফিস-আদালত ছুটি সেসব এলাকায় আমরা হলিডে মার্কেট চালু করে দিতে পারি।

মেয়র খোকন বলেন, আপাতত সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে হকাররা ফুটপাতে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। কিন্তু সাপ্তাহিক কর্মদিবসে দিনের বেলায় ফুটপাত এবং রাস্তা জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। কর্মদিবসে দিনের বেলায় গুলিস্তান ও তার আশপাশের এলাকায় কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত। এটা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএসসিসিকে সহযোগিতা করবে।

সাঈদ খোকন বলেন, এ সিদ্ধান্ত আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে। যদি কোনো হকার এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে তা হলে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করবে। যারা তালিকাভুক্ত হকার, তারা যদি পেশা পরিবর্তন করে চাকরি বা বিদেশ যেতে চান আমাদের কাছে আবেদন করতে পারেন। আমরা সরকার বা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তাদের বিদেশ যাওয়া বা চাকরির জন্য সুপারিশ করব। যদি স্থানীয়ভাবে তাদের চাকরির জন্য কোনো সুযোগ থাকে তা হলে আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।

মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে বৈঠকে হকার নেতারা বলেন, সরকার বা সিটি করপোরেশন সপ্তাহে একদিন নির্দিষ্ট পাঁচটি স্থানে হলিডে মার্কেট চালু করেছে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। কিন্তু আমরা সপ্তাহের বাকি ছয়টি দিন কী করব? কী খাব? হকারদের তো পরিবার রয়েছে। এ জন্য তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। পুনর্বাসন করে বাকি পদপে নিন।

বাংলাদেশ জাতীয় হকার্স লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মহানগরে ৮ থেকে ৯ লাখ হকার রয়েছে। ডিএসসিসিতে ৫ থেকে ৬ লাখ হকার আছে। এখানে সবাই গরিব, নিরীহ। এদের সামান্য আয়।

তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই রাস্তায় হকার থাকবে না। কিন্তু রাস্তার যে জায়গাটা আছে, সেখানে কিছু স্থান দিতে হবে। কার্ডের মাধ্যমে হকার চিহ্নিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ হকারদের একটা স্থান নিতে হয় এক লাখ, দুই লাখ টাকায়। এটা কারা আদায় করে, এরা কারা? এদের চিহ্নিত করেন। হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। এরা কোথায় যাবে? এরাও তো মা-বাবা-ছেলে নিয়ে ঢাকায় থাকে।’

বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার্স লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন মজুমদার বলেন, ‘হকার পুর্বাসন একটা বিরাট কঠিন কাজ। আমরা বলেছি ঢাকাকে তিলোত্তমা শহর বানাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। রাস্তা দখলের জন্য হকাররা দায়ী নয়। এ জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি দিতে হবে। আগে হকার পুনর্বাসন করেন। এর পর উচ্ছেদ।’

জাতীয় হকার্স ফেড়ারেশনের সভাপতি আরীফ চৌধুরী বলেন, হকারদের পুনর্বাসন করতে হবে। হলিডে মার্কেট নিয়ে হকারদের মধ্যে একটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হকাররা হলিডে মার্কেটে গেলে ফুটপাতে বসতে পারবে কিনা?

তিনি বলেন, হকারদের পরিকল্পনামাফিক বসাতে হবে। হলিডে মার্কেটগুলো অন্যান্য ফুটপাতের মধ্যে চলে আসে কিনা?

বাংলাদেশ হকার্স ফেড়ারেশনের সভাপতি এমএ কাশেম বলেন, ‘প্রতিটি ফুটপাতে একজন করে লাইনম্যান নামধারী চাঁদাবাজ থাকেন। একটা ফুটপাতে ১০০ জন হকার থাকলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন এমন একজন লাইনম্যান। এই লাইনম্যানকে আবার নিয়ন্ত্রণ করেন প্রশাসনের কিছু অসাধু লোক। এই লাইনম্যানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি জানান, হকার ট্রাফিক পুলিশ গঠন করতে হবে। তাকে কার্ড দিতে হবে। তারা সিটি করপোরেশন থেকে কার্ড নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসবে। এ জন্য একটা আইন করতে হবে। যদি আইন তৈরি করা না যায় তা হলে দিনদিন হকার বাড়বে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুল ওহাব ভূইয়া, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহমেদ, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এমকে বখতিয়ার প্রমুখ।

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে