‘সরকারের তিন বছরে উন্নয়নে আস্থা বেড়েছে’

আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:৫৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ১২ জানুয়ারি। ২০১৪ সালের এই দিনে দশম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল হিসেবে সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। সরকারের তিন বছরপূর্তি উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  
প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপরে অংশগ্রহণ ছাড়াই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে অনেকের মধ্যেই সন্দেহ ছিল। দেশে-বিদেশে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও ছিল দুশ্চিন্তা। সেই সঙ্গে টানা হরতাল ও ধ্বংসাত্মক অবরোধের রাজনীতির ছিল বড় বাধা। আন্দোলনের নামে নাশকতাও ভুগিয়েছে সরকারকে। তার পরও সব বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের ঝা-া উড়িয়েই গত তিন বছরে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছতে সম হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় নেতৃত্বে তিন বছরের শাসনামলে সাফল্যের পাল্লাই ভারী। তবে কিছু কিছু েেত্র দৃশ্যমান ব্যর্থতাও রয়েছে বলে দাবি ক্ষমতাসীনদের।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের দাবি, সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-, জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় কঠোরতাসহ রাষ্ট্র পরিচালনায় নানা সাফল্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিম-লে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমে বাড়িয়েছে। সরকার দেশকে উন্নয়নের যে মহাসড়কে নিতে সম হয়েছে, তাতে দেশের মানুষ ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো সরকারকে আস্থায় নিয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের আগ্রহ, পরিকল্পনা এখন ২০১৮ সালের শেষের দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে। সরকার ও আওয়ামী লীগ এখন শক্তিশালী অবস্থানে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি। দেশের মানুষ ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী আমাদের সঙ্গে। এ ধারাবাহিকতায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমরা জয়লাভ করব। 
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যুগান্তকারী উন্নয়ন, জঙ্গিবাদ মোকাবিলা, জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহতকরণসহ সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকা- তথা বহুমুখী জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কারণে সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। জাতীয় সংসদে বিদ্যমান বিরোধী দলের সরব উপস্থিতি ও আইন প্রণয়নসহ সংসদীয় কার্যাবলিতে তাদের নিয়মিত অংশগ্রহণ এ সংসদকে অর্থবহ করে তুলেছে। সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ায় কোনো সমালোচনা ধোপে টিকছে না। 
তিন বছরে সরকারের উল্লেখযোগ্য পদপেগুলোর মধ্যে ছিলÑ নিজ অর্থায়নে মেগাপ্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ, বিদ্যুতের লোডশেডিং প্রায় শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নানামুখী পদপে, খাদ্যশস্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হওয়া। এ ছাড়া কৃষিেেত্র অভাবনীয় অগ্রগতি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, বিশ্বব্যাংকের তালিকানুযায়ী নিম্নআয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া, শিার উন্নতিতে নানামুখী পদপে, শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি, উদ্যোক্তাদের উৎসাহী করতে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, নারীর মতায়নে পদপে ইত্যাদি। 
মেগা ছয় প্রকল্প : দেশের যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে আশার আলো জাগাচ্ছে মেগা ছয় প্রকল্প। এর মধ্যে স্বপ্নের পদ্মা সেতুসহ একাধিক প্রকল্পের অগ্রগতি সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক। যাতে বাড়বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি। প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে পদ্মা সেতু মেগাপ্রকল্পের। আবার এ বছর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। কাজ এগিয়ে নিতে ২০১৬ সালে আনুষঙ্গিক অনেক অগ্রগতি হয়েছে। 
গত বছরের ২৬ জুন যোগাযোগ খাতের দুটি বড় প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে একটি মেট্রোরেল, অন্যটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)। মেট্রোরেলে উত্তরা থেকে মতিঝিল ২০ কিলোমিটার পথে সময় লাগবে মাত্র ৩৮ মিনিট। ছয় ফেজের কাজের মধ্যে দুটির টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। কাজও শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে। আশা জেগেছে যানজট নিরসনের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প বাস্তবায়নের। বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অগ্রগতিও সন্তোষজনক। নির্মাণকাজের উদ্বোধনের অপো কর্ণফুলি টানেলের। ২০১৮ সালের মধ্যেই রাজধানীতে উড়ালসড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) দিয়ে গাড়ি চলতে পারবে, এমন আশা নিয়ে ২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের মহাসড়কের পাশে আরেকটি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই এক্সপ্রেসওয়েতে প্রতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চলবে। ফলে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছানো সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার : বর্তমান সরকারের গর্ব করার মতো সাফল্যের পুরোভাগে রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির রায় কার্যকর। ২০১৫ সালে দেশি-বিদেশি সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়ে সাকা চৌধুরী, কামারুজ্জামান ও মুজাহিদের মতো রাজাকার-আলবদর নেতাদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী ও ১১ মে মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসিও আলোচিত ছিল বছরজুড়েই। ফাঁসি ঠেকাতে সারাবিশ্বে লবিস্ট নিয়োগ করেছিলেন বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক মীর কাসেম আলী। তবে কোনো চেষ্টাই তাকে বাঁচাতে পারেনি। তবে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতকে এখনো নিষিদ্ধ করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জঙ্গি হামলা দমন : গত বছরের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা ছিল সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। অস্ত্রধারী জঙ্গিরা দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে ২০ জন হত্যা করে। পরে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডার বোল্টে’ জঙ্গিরা নিহত হয়। জঙ্গি হামলায় নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। এর কয়েক দিন পর কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদগাহ ময়দানে জঙ্গি হামলা চালানো হয়। এখানেও এক পুলিশ সদস্য মারা যান। ১ জুলাই হলি আর্টিজানে হামলার পর ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিংয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। এই প্রথম পুলিশি অ্যাকশনে নিহত হয় নতুন জেএমবি নেতারা। এর পর ২ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রূপনগরে মেজর জাহিদ নামে আরেক জঙ্গি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। ২৭ আগস্ট আবার নারায়ণগঞ্জে নিহত হয় তামিম চৌধুরীসহ তিনজন। গাজীপুরে ৮ অক্টোবর ও আশকোনায় ২৪ ডিসেম্বর আরও জঙ্গি নিহত হয়। চলতি বছরে রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড জঙ্গি মারজান ও তার সহযোগী সাদ্দাম। এ ছাড়া তিন বছরে অনেক জঙ্গি পরিকল্পনা ভ-ুল করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্সনীতির কারণে এসব সম্ভব হয়েছে। তবে বিগত বছরগুলোতে ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজার ও জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যার ঘটনা ছিল অস্বস্তির।
সুংসগঠিত দল : রাজপথে বিরোধী দলবিহীন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে স্বস্তিতে ছিল আওয়ামী লীগ। রাজপথে বিরোধী দলকে মোকাবিলা করতে হয়নি। ফলে সংগঠনমুখী ছিল কর্মকা-। বিগত তিন বছরের বিদায়ী বছরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বড় কৃতিত্ব জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে দলে নতুন প্রাণের সঞ্চার। এবারের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির আকার ৭৩ থেকে বৃদ্ধি করে ৮১ সদস্যের করা হয়। সাধারণ সম্পাদক পদসহ বেশ কিছু পদে এসেছে নতুন মুখ। তৃণমূল আওয়ামী লীগও এখন অনেক বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ। 
দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও ব্যবস্থা : কয়েকজন দলীয় নেতা ও এমপির দখল-বাণিজ্যসহ কয়েকটি ঘটনা বিতর্কের জš§ দেয়। এ েেত্র একাধিক মন্ত্রীর নামও আসে। ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় তার অফিসের একজন কর্মকর্তার ক ভাঙচুর করে আলোচনার শিরোনাম হয়েছেন। এমপি পিনু খানের ছেলে রনির বিরুদ্ধে দুজনকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য দ্রুততম সময়ে ওই জোড়া খুনের চার্জশিট দিয়ে প্রশংসিত হয়েছে সরকার। টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যায় জেলে যেতে হয় সরকারদলীয় এমপি আমানুর রহমান রানাকে। অবৈধ সম্পদ অর্জনের জন্য গত বছর জেলে যেতে হয়েছিল সরকারদলীয় এমপি আবদুর রহমান বদিকে। এ ছাড়া বিচার বিভাগ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য  দেওয়ায় আদালতের কাছে জরিমানা গুনতে হয়েছে সরকারের দুই মন্ত্রীকে। অন্যদিকে সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগরের দুই নেতার অস্ত্র কেলেঙ্কারির পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
রাজনীতির মাঠে ফিরেছে স্বস্তি : সাফল্য-ব্যর্থতার বিচারে টানা দ্বিতীয় মেয়াদের এই তিন বছর বেশি সময় না হলেও পার্থক্য হচ্ছেÑ অতীত কোনো সরকারকে মতা গ্রহণের পর এমন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করতে হয়নি। তবে সহিংস আন্দোলন মোকাবিলা করে মতায় এলেও সরকারের তৃতীয় বর্ষে এসে সফলতা-ব্যর্থতার খেরোখাতায় যে লাইনটি সবার আগে আলোচনায় তা হচ্ছেÑ দেশের রাজনীতিতে ফিরেছে স্বস্তি। গত বছরে ছিল না হরতাল বা অবরোধের রাজনীতি, বলা চলে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে। যদিও নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই পথ চলতে হয়েছে তাদের। তবে এই তিন বছরে সাফল্য-ব্যর্থতার পরিমাপে সরকারের ঝুলিতে সাফল্যের পরিমাণ যে কয়েক গুন বেশি, তা চরম সমালোচকও মানতে বাধ্য হচ্ছেন। এ সময়ে বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে স্থাপিত করেছে শেখ হাসিনার সরকার।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জয় ও সমালোচনা : দ্বিতীয় মেয়াদের তৃতীয় বছরেও রাজপথের বিরোধী দল বিএনপিকে মোকাবিলা, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে নিয়ন্ত্রণ ও ১৪ দলের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতে পারা এবং দলের দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারা সরকারের বড় সাফল্য। সরকার উৎখাতের মিশন থেকে সরে এসে এখন পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আলোচনার প্রস্তাব, দলীয় প্রতীকে ইউপি, পৌরসভা ও সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ সরকারের জন্য ইতিবাচক। এসব নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ও একটি মহলের সমালোচনা থাকলেও বেশিরভাগ স্থানেই জয় পেয়েছেন মতাসীনরা। 
আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব বেড়েছে বাংলাদেশের : গত তিন বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক তৎপরতায় একে একে ঢাকা সফর করেছেন হেভিওয়েট বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান-নেতারা। ঐতিহাসিক সফরে এসেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে গেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান এক নতুন মাইলফলক। এর মধ্য দিয়ে ৬৮ বছর পর ছিটমহল বিনিময়ে খুশির জোয়ার নামে। শেষ হয় দুই দেশের আবদ্ধ মানুষের দুঃসহ যন্ত্রণা। তবে তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কে বিষফোঁড়ার যন্ত্রণা থেকেই গেছে। অবশ্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সফরে তিস্তা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত প্রচেষ্টায় বহির্বিশ্বে এ বছর বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বেড়েছে। নির্বাচন, গণতন্ত্র ও সুশাসন নিয়ে মতভেদ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। সখ্যতা বেড়েছে ভারত ও চীনের সঙ্গে। সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক জোটে সমর্থন দেওয়ায় সৌদি আরবের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার হয়েছে।
অনন্য উচ্চতায় শেখ হাসিনা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নানামুখী কর্মকা- দিয়ে ইতোমধ্যেই নিজেকে বলিষ্ঠ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়ে দেশকে করেছেন সম্মানিত। ২০১৬ সালে তিনি পেয়েছেন ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘এজেন্ট অব চেইঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’। এর আগের বছর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নেতৃত্বের অবদানের জন্য জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনপি) সর্বোচ্চ পরিবেশবিষয়ক সম্মান ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) আইসিটি টেকসই উন্নয়ন’ পুরস্কার অর্জন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ওয়াশিংটনভিত্তিক সাময়িকী ফরেন পলিসির বিশ্বের একশ চিন্তাবিদের তালিকায় নাম আসে শেখ হাসিনার। তিনি ওই তালিকায় সিদ্ধান্তপ্রণেতা ক্যাটাগরিতে শীর্ষ ১৩ জনের তালিকায় ছিলেন।
সব মিলিয়ে নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে উন্নয়ন কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্নও দেখাচ্ছে তারা। 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে