অগ্রণী ব্যাংকের নিয়োগ প্রশ্ন ফাঁসে বিকালের পরীক্ষা স্থগিত

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ মে ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কয়েক বছর ধরে একের পর এক অভিযোগ উঠছে প্রশ্ন ফাঁসের। স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে মেডিক্যাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এখন নিয়মিত বিষয়। বাদ যায় না পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষাও। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায়ও হরহামেশা ঘটছে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা। সর্বশেষ গতকাল প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষার বিকাল অংশের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তবে ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই সকালের পর্বে পরীক্ষা নেওয়া হয় লাখো পরীর্ক্ষাীর।

অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষা ছিল গতকাল শুক্রবার। পরীক্ষার্থী ছিলেন দুই লাখ তিন হাজার। তাই পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা বিবেচনায় দুই ভাগে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ; কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকেই পরীক্ষার্থীদের হাতে হাতে পৌঁছে যায় পরীক্ষার প্রশ্ন। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগের মাধম্যে ব্যাপক সমালোচনার মাঝেও ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই সকালের অংশে পরীক্ষা দেন এক লাখ পরীক্ষার্থী। তবে বিকালের পর্বের পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত অংশের পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায় ফাঁস হওয়া প্রশ্ন। গণমাধ্যমে এ নিয়ে তথ্যপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন করলে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়ে যায় ফাঁস হওয়া প্রশ্ন। বিভিন্নজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন এসব যোগাযোগমাধ্যমে। ফলে এই পরিস্থিতিতে নিয়োগ পরীক্ষার সকালের অংশের পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর আয়োজক কর্তৃপক্ষ বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টায় নির্ধারিত দ্বিতীয় অংশের পরীক্ষা স্থগিত করে।

এ পরীক্ষা আয়োজনের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান আবু তালেব বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিকাল ভাগের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরে সুবিধাজনক সময়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর সকালে হয়ে যাওয়া পরীক্ষার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অভিযোগটি আমরা যাচাই করব।

জানা যায়, এবারের অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিলেন দুই লাখ তিন হাজার। তাই পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা বিবেচনায় শুক্রবার দুই ভাগে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সকাল অংশে পরীক্ষার্থী ছিলেন এক লাখ। বাকি চাকরিপ্রত্যাশীদের বিকাল অংশে পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।

রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে হয়। তাদের কাছ থেকে এবার পরীক্ষা নেওয়ার দরপত্র পায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগ। এর ফলে পুরো পরীক্ষাগ্রহণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বর্তায় এই বিভাগটির ওপর।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে এ প্রতিবেদকের কাছে বেশ কয়েক চাকরিপ্রত্যাশী প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ করেন। তবে ওই সময় পুরো প্রশ্ন দেখা যায়নি। প্রশ্নের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষার্থীদের হাতে হাতে দেখা যায়। তবে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পুরো প্রশ্ন আসে এ প্রতিবেদকের কাছে। পরে সকাল অংশের পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায় হুবহু মিল রয়েছে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের।

এ বিষয়ে এবিএইচ সৈকত নামে এক চাকরিপ্রত্যাশী আমাদের সময়কে বলেন, ভোর থেকেই সবার হাতে হাতে প্রশ্ন ছিল। এভাবে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। একটা জাতিকে ধ্বংশ ও মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র চলছে।

অন্য এক পরীক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইমন বলেন, সকালে কেন্দ্রে যাওয়ার পর দেখি অনেকেই প্রশ্ন দেখে উত্তর মুখস্ত করছেন। পরে পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে দেখি ওই প্রশ্নের হুবহু মিল। পরীক্ষা না দিয়েই বের হয়ে আসতে ইচ্ছে করছিল। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের মধ্যবিত্তের স্বপ্নগুলো শেষ করে দেওয়া হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে