হজক্যাম্পে প্রধানমন্ত্রী

ইসলাম ধর্মকে উচ্চ আসনে রাখতে হবে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম ধর্মকে উচ্চ আসনে রাখতে হবে। আমাদের ধর্মকে অবমাননা করার অধিকার কারো নেই। এ ধর্ম সব সময় যেন উচ্চ আসনে থাকে, সেই ব্যবস্থাই করতে হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর আশকোনায় হজক্যাম্পে চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বি এইচ হারুন, ওই এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন, সৌদি দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আমির বিন ওমর বিন সালেম এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিছুর রহমান বক্তব্য রাখেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তিতে বিশ্বাস করে। ইসলাম ধর্মেই মানুষের অধিকারের কথা, মানুষের জীবন মান উন্নয়নের কথা বারবার বলা হয়েছে। মাঝে মাঝে অমরা যেটা দেখি, আমাদের ধর্মকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে কিছু কিছু মানুষ এই ধর্মের মান নিয়ে যখন কোনো সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে তখন সারা বিশ্বের কাছে আমাদের এই ধর্ম প্রশ্নবিদ্ধ হয়। শুধু প্রশ্নœবিদ্ধই হয় না আমরা মুসলমানরা বাইরে গেলে অনেক সময় অনেক সমস্যাও ভোগ করতে হয়। অথচ পবিত্র ইসলাম ধর্মই হচ্ছে সব থেকে শান্তিপূর্ণ ধর্ম। ইসলাম ধর্মেই আছে সকল ধর্মের মানুষ তার নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে স্বাধীনভাবে। তিনি জানান, প্রতিটি জেলা-উপজেলায় একটি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের উদ্দেশ বলেন, প্রতিবছর অপেক্ষায় থাকি; যারা হজে যাবেন, তাদের সঙ্গে দেখা হবে আর দোয়াও চাইব। আমার বাবা-মা; তাদের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাদের বেহেশত নসিব করেন।

আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, পিতা-মাতা, ভাই সব হারিয়েছি। জনগণের সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করছি। আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। হজযাত্রীদের কাছে দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দোয়া করবেন যেন আপনাদের খেদমত করতে পারি।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে হজ মৌসুমে হজের কার্যক্রম হজ অফিস, মক্কা থেকে পরিচালিত হয়। আমাদের এ সিদ্ধান্তের ফলে গত নয় বছরে হজ ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের সেবা প্রদান অনেক সহজতর ও উন্নততর হয়েছে এবং দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে।

হজযাত্রীদের সুবিধার্থে ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর ৪০ লাখ টাকায় জেদ্দা হজ টার্মিনালে প্লাজা ভাড়া, হজযাত্রীদের চিকিৎসা সেবাসহ নানা সেবা নিশ্চিত করতে জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় হজ প্রশাসনিক দল, চিকিৎসক দল, সহায়তাকারী দল এবং আইটি টিম থাকার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

১৪ জুলাই শুরু হয়ে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে হজ ফ্লাইট। বাংলাদেশ বিমান ১৮৭টি ফ্লাইটে ৬৪ হাজার ৯৬৭ জন এবং সাউদিয়া ১৮৮টি ফ্লাইটে ৬১ হাজার ৮৩১ হজযাত্রী পরিবহন করবে। ২৭ আগস্ট হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর তা শেষ হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে