জমে উঠছে বাণিজ্যমেলা

  গোলাম রাব্বানী

১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিবছরে মেলা শুরুর এক সপ্তাহ পর বাণিজ্যমেলা জমলেও এবার প্রথম দিন থেকেই উল্লেখযোগ্য ক্রেতা-দর্শনার্থীর আগমন হয়। মূলত নির্বাচন উপলক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে ৮ দিন পর মাসব্যাপী ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শুরু হওয়ায় রাজধানীবাসী আলাদাভাবে সময় পেয়েছে। এ ছাড়া অধিকাংশ চাকরিজীবীর বেতন-ভাতা হওয়ার পাশাপাশি স্কুল-কলেজে বার্ষিক ছুটির কারণে এখন বাণিজ্যমেলায় সবসময় ভিড় লেগে থাকে।

এবারের মেলায় সাড়ে পাঁচশ স্টল ও প্যাভিলিয়নের মধ্যে শুধু প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে প্রায় ৩০টি। এ ছাড়া অন্য বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে মেলায় তাদের পণ্য প্রদর্শন করছে। বরাবরের মতো এবারও মেলায় ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। কনকা প্যাভিলিয়নে এসি ৪২ হাজার থেকে ৯৯ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ওয়াশিং মেশিন পাওয়া যাবে ১১ হাজার ৯০০ থেকে ২৯ হাজার টাকায়, ফ্রিজ ২০ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকায়, টিভি পাওয়া যাবে ১১ হাজার ৯০০ থেকে ৪৬ হাজার টাকার মধ্যে। এ ছাড়া সার্প মেলা উপলক্ষে ২০০ পণ্য নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে ১১টি নতুন পণ্য। এখানে ওয়াশিং মেশিন পাওয়া যাবে ১৫ হাজার ৫০০ থেকে ৩৭ হাজার টাকায়, ফ্রিজ ১৬ হাজার ৯০০ থেকে ৪ লাখ টাকায়, টিভি পাওয়া যাবে ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকায়। মিনিস্টারের প্যাভিলিয়নে ফ্রিজ ১৮ হাজার ৯০০ থেকে ৮৫ হাজার টাকায়, এসি পাওয়া যাবে ৩৯ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকায়, টিভি পাওয়া যাবে ১২ হাজার ৯০০ থেকে ৯৯ হাজার টাকার মধ্যে।

এ ছাড়া মেলায় প্রায় ১ হাজার পণ্য প্রদর্শন করছে ওয়ালটন। মেলা উপলক্ষে দেশব্যাপী ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-৪ চালু করেছে ওয়ালটন। পণ্য কিনে রেজিস্ট্রেশন করলেই ক্রেতারা পাবেন সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার। পেতে পারেন কোটি কোটি টাকার ক্যাশ ভাউচারসহ নিশ্চিত ক্যাশব্যাকের সুবিধা। ওয়ালটন এনেছে ১৬৬টি ফ্রিজ, ১১৮ মডেলের টেলিভিশন, ৩৫ মডেলের মোবাইল। এ ছাড়া এনেছে রাইসকুকার, কিচেন কুকওয়্যার, আয়রন, অটো ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার, ব্লেন্ডার, ফ্যান, এলইডি বাল্ব, ওভেন, ইন্ডাকশন কুকার, হেয়ার ড্রায়ার, এয়ার কুলার, ওয়াশিং মেশিন, রিচার্জেবল ও পোর্টেবল ল্যাম্প, জুসার, মাল্টি কুকার, টোস্টার, গ্যাস স্টোভ ও ওয়াটার ডিসপেন্সার। আরও রয়েছে একটি করে মডেলের ওয়েট মেশিন, ইলেকট্রিক ওভেন, প্রেশার কুকার, ভেজিটেবল (সালাদ) মেকার, ফুড প্রসেসর, ক্লথ ড্রায়ার, স্যান্ডউইচ মেকার, মপ সেট (ফ্লোর ও গাড়ি পরিষ্কারের জন্য), রুম হিটার, স্ট্যান্ড মিক্সচার ও বিটারস, এয়ার ফ্রাইয়ার ইত্যাদি।

বাণিজ্যমেলায় স্যামসাং ক্রেতাদের জন্য দিয়েছে বিশেষ অফার। স্যামসাং পণ্য কিনে বিনামূল্যে রাইস কুকার, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার এবং নির্দিষ্ট মডেলের টিভি উপহার হিসেবে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেলায় সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ ছাড়ে স্যামসাংয়ের নির্দিষ্ট মডেলের মোবাইল ফোন কেনা যাবে। গ্যালাক্সি এএইট প্লাসসহ স্যামসাংয়ের অন্যান্য মডেলের হ্যান্ডসেটের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মিনিস্টারের প্যাভিলিয়ন ইনচার্জ তৈয়বুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, অতীতের যে কোনোবারের চেয়ে এবারের মেলা বিক্রি ভালো। পূর্বে প্রথম দিকে শুধু পণ্য দেখত; কিন্তু এখন প্রথম দিন থেকেই পণ্য কেনাবেচা শুরু হয়েছে। আশা করছি এবারের সবচেয়ে বেশি পণ্য বিক্রি হবে।

এ ছাড়া ফার্নিচারের মধ্যে নাদিয়া, রিগ্যাল, পারটেক্স, তানিন, ডেল্টা, হাতিল ইত্যাদি এসব প্যাভিলিয়নে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় লক্ষ করা যায়। হাতিল কোম্পানি তাদের বিভিন্ন ফার্নিচারে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ছাড় দিয়েছে।

ইপিবি ও বাণিজ্যমেলার পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান, বিভিন্ন কারণে মেলা বিলম্বিত হওয়ায় শুরুর দিন থেকেই ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। আমরা যথাযথ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মেলা শেষ করতে চাই। আশা করি অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের মেলা জমজমাট হবে।

বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের প্যাভিয়নে প্রসাধনী সামগ্রী, জুতা, অলঙ্কার, খাদ্যসামগ্রীসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শন হচ্ছে। থাইল্যান্ডের প্যাভিলিয়নগুলোয় ক্রেতারা প্রসাধনী সামগ্রী, জুতা, ফল বেশি কিনছেন বলে বিক্রেতারা জানান।

ইরানের প্যাভিলিয়নে জিরা, খেজুর, জাফরান, কিশমিশ, পোশাক সামগ্রী, অলঙ্কার, ঝাড়বাতিসহ নানা ধরনের পণ্য। এর মধ্যে ইরানি বোরকা চলছে বেশ। প্রতিপিস ২ থেকে ১২ হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। ইরানি হিজাবও বেশ বিক্রি হচ্ছে।

বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন, স্টল, গেট ইজারা, পার্কিং ইজারা ইত্যদি থেকে এবার প্রায় ৬০ কোটি টাকা আয় হবে। আর অবকাঠামো নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন, বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ মেলার কাজে নিয়োজিত ইত্যাদি কাজে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

এবারের মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা ও ১২ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ২০ টাকা টিকিট মূল্য রাখা হয়েছে। গাড়ি পার্কিংয়ের দায়িত্বে আছে ঢাকা মেট্রোপলিটন বিভাগ। পার্কিং খরচের মধ্যে রয়েছে প্রতিটি ৫ টন বা তার চেয়ে বেশি ওজনের পণ্য বহনকারী লরির জন্য ৬০ টাকা, প্রতিটি ৩ টন বা তার চেয়ে বেশি ওজনের পণ্য বহনকারী লরির ভাড়া ৪০ টাকা, প্রতিটি ৪ চাকাবিশিষ্ট অন্য যানবাহনের জন্য ২০ টাকা ও প্রতিটি ৩ ও ২ চাকার হালকা যানবাহনের জন্য ১০ টাকা হারে নির্ধারণ করা হয়েছে।

মেলায় ৫০০ জন করে ৩ শিফটে জনবল মোতায়েন করা আছে। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এখনো ঘটেনি। এ ছাড়া গতবারের তুলনায় ভোক্তাদের অভিযোগও কম রয়েছে বলে জানায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। প্রতিবছরে মেলার প্রথম দিন থেকে অভিযোগ এলেও এবারের তৃতীয় দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো ধরনের অভিযোগ আসেনি বলে জানান সংগঠনটির সহকারী পরিচালক মাসুম আরেফিন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে