স্বর্ণ আত্মসাৎ ও ঘুষগ্রহণ

এনবিআরের ৩ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে তিন রাজস্ব কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে একজনের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুদাম থেকে স্বর্ণ আত্মসাৎ এবং বাকি দুজনের বিরুদ্ধে ফেনী কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে থাকা অবস্থায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

গতকাল বুধবার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ পাওয়া ওই তিন কর্মকর্তা হলেন রাজস্ব কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) গোলামুর রহমান, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান সরকার ও জিএম শাহজাহান।

আদেশে বলা হয়, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান সরকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গুদাম কর্মকর্তা থাকাবস্থায় গুদাম থেকে অবৈধভাবে স্বর্ণবার, চেইন ও অলঙ্কার সরিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। একই সঙ্গে ২০১০ সালের ৮ নভেম্বর তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়। ২০১১ সালের ২৪ জানুয়ারি তিনি লিখিত জবাব দেন। ২০১৩ সালের ৯ জুন তার ব্যক্তিগত শুনানি হয়।

 

 

২০১৩ সালের ১ জুলাই ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার কেএম অহিদুল আলম তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী বিধিমালা-১৯৮৫ অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানে সরকারি কর্মকমিশনে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুরোধ করা হয়। সরকারি কর্মকমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল ১১ জানুয়ারি এনবিআর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

রাজস্ব কর্মকর্তা গোলামুর রহমান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জিএম শাহজাহান ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের আওতাধীন ফেনী ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মরত ছিলেন।

ওই বছরের ২০ নভেম্বর ফেনী ভ্যাট কমিশনারেটে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় দুজনকে আটক করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ সময় গোলামুর রহমানের দেহতল্লাশি করে ১৬ হাজার ২০০ টাকা ও জিএম শাহজাহানের কাছ থেকে ৩১ হাজার ২০০ টাকা পাওয়া যায়। দুজনই এ টাকার কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

দুজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের যুগ্ম কমিশনার মো. সামছুল ইসলাম তদন্ত করে দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পান। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর সরকারি কর্মচারী বিধিমালা-১৯৮৫ অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার জন্য সরকারি কর্মকমিশনকে অনুরোধ করা হয়। সরকারি কর্মকমিশনের মতামত অনুযায়ী দুর্নীতির দায়ে ১১ জানুয়ারি বুধবার ওই দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করে এনবিআর।

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে