আ.লীগের ঘাঁটিতে লড়বে বিএনপি

  মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ ও জাহিদুল ইসলাম খান, ভালুকা ষ

১২ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৭, ০০:২৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অন্তত ১৮ নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে মাঠে বেশি সক্রিয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা। ১৮ মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরই এক ডজন নেতা নানাভাবে নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। বিএনপি থেকে সক্রিয় আছেন চার নেতা। জাতীয় পার্টির দুই নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও মাঠে তেমন সক্রিয় নেই। মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্বও বেশি। সেদিক থেকে বিএনপি কিছুটা নির্ভার। এখানকার বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের। নির্বাচনী এলাকাও আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আগামী নির্বাচনে দলটির লক্ষ্য ঘাঁটি রক্ষা করা। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি চায় আসনটি আয়ত্বে নিতে। এসব বিবেচনায় নিয়েই দুই দলের নেতারা রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদানের নামে মূলত নির্বাচনী প্রচারণাই চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভালুকা ময়মনসিংহ বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। গত চারটি সংসদ নির্বাচনেই জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ। পঞ্চমবারের মতো এখানে জিততে চায় দলটি। অন্যদিকে বিএনপিও চায় ভোটের লড়াইয়ে জিতে আসন পুনরুদ্ধার করতে।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ভালুকায় মোট ভোটার ২ লাখ ৬২ হাজার ৫৫৭ জন।

সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রামাঞ্চলে চা-স্টলে সাধারণ মানুষের মাঝে বড় দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা-পর্যালোচনা। বিগত দিনে এলাকার উন্নয়নে কোন নেতা কতটা ভূমিকা রেখেছেন, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কার কতটা যোগাযোগ এবং কে কতটা যোগ্য, এসব নিয়েই আলোচনা হচ্ছে বেশি।

আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্লাহ। আগামী নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী। এ ছাড়া মাঠে সক্রিয় আছেন ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ গোলাম মোস্তফা, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজিমউদ্দিন আহমেদ ধনু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কেবিএম হাদিউজ্জামান সেলিম, কানাডা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ড. শফিউল আজম খোকা, শিল্পপতি ও পাপুয়া নিউগিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ এমএ ওয়াহেদ, ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম পিন্টু, জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরা সুলতানা মনি, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহসভাপতি আশরাফুল হক জর্জ, আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজি রফিকুল ইসলাম।

বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেনÑ উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. ফখরউদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু, শিল্পপতি ও ময়মনসিংহ জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম, অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল, জিয়া ব্রিগেডের বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবুল হোসেন।

জাতীয় পার্টি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি মেজর (অব.) আবদুল হামিদ ও জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন।

১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হাতে থাকা আসনটি পুনরুদ্ধার করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্লাহ। তিনি প্রায় ২৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিএনপির এমপি আমানউল্লাহ চৌধুরীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্লাহ। তিনি বিএনপির প্রার্থী ড. শাহ মোহাম্মদ ফারুককে প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান। নবম সংসদ নির্বাচনেও এমপি হন অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্লাহ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মো. ফখরউদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু। দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মাঠে না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন চৌধুরী মিন্টুকে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্লাহ। তবে চারবারের এমপি অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্লাহর বয়সের কারণে, বিশেষ করে নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ তুলনামূলক কম থাকায় এ আসনে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের গুঞ্জন আছে।

ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম পিন্টু বলেন, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখে রাজনীতি করে যাচ্ছি, জনপ্রিয়তা যাচাই করে দলীয় সভাপতি আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব। আর যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তা হলে তার পক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে যাব।

ভালুকা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফখরউদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু বলেন, আমি ১৯৮৪ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশ করি। দীর্ঘ ৩২ বছরের রাজনীতিতে কখনো সংগঠনের কাজ থেকে পিছপা হইনি। বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও ওয়ান-ইলেভেনবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বহু মামলার আসামি হয়েছি; তিনবার কারাবরণ করেছি। বহু মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। আমার বিশ্বাস ২০০৮ সালের নির্বাচনের মতো দলীয় হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবে। আমি ছাড়া অন্য কাউকে দল মনোনয়ন দিলে তার পক্ষে কাজ করে যাব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে