x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিপিএল এর পঞ্চম আসরের শিরোপা জিতল রংপুর রাইডার্স। মাশরাফির হাতে চতুর্থ ট্রফি

তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে স্থায়ী সনদ

  এম এইচ রবিন

২৪ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ০০:২৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

উচ্চশিক্ষা পাঠদানে অস্থায়ী অনুমোদন নিয়ে চলছে দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদানের মানদ- আর প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোর শর্ত পূরণে ব্যর্থ। তার মধ্যে মাত্র তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে স্থায়ী সনদ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, সিটি ইউনিভার্সিটি এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি।

আইন অনুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার জন্য সাময়িক অনুমতি সনদের মেয়াদ ৭ বছর। স্থায়ী সনদের জন্য আইনের ধারা ৯-এর শর্ত পূরণ করতে হয়। এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সাময়িক সনদ নবায়ন করতে পারে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আবেদনের প্রয়োজনীয় তদন্তসাপেক্ষে অনধিক ৫ বছরের জন্য সনদ নবায়ন করতে পারে সরকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১২ বছর পার করার পরও যারা স্থায়ী সনদ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, এমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চলমান একাডেমিক কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ।

১২ বছর হয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি; ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, চট্টগ্রাম; ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি; ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি; আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম; আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি; আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ; ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি; ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক; গণবিশ্ববিদ্যালয়; দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ; ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি; ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি; মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি; বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি; লিডিং ইউনিভার্সিটি; বিজেসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম; সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি; ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ; প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি; সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি; স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি; স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ; ইবাইস ইউনিভার্সিটি; সিটি ইউনিভার্সিটি; প্রাইম ইউনিভার্সিটি; নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; গ্রীন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ; ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ; দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি; শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি; ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি; বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি; মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি; ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি; উত্তরা ইউনিভার্সিটি; ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ; ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া; প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি; রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা; ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ; অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

এদের মধ্যে ‘আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ স্থায়ী সনদ লাভ করেছে ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর। একই বছর ২৩ অক্টোবর স্থায়ী সনদ (শর্তসাপেক্ষ) নিয়েছে ‘সিটি ইউনিভার্সিটি’। এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ৮টি শর্ত পূরণ করে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি স্থায়ী সনদ লাভ করে ২৬ জানুয়ারি ২০১৬ সালে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, যারা আইন মানছেন না, তাদের ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ১ জানুয়ারি থেকে নতুন ভর্তি এবং সব ধরনের প্রোগ্রাম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস করা বেশ বড় বিনিয়োগের ব্যাপার। সবার তো সামর্থ্য নেই। আইন অমান্য করলে বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। একটা প্রতিষ্ঠান করতে যত সময় লাগে, বন্ধ করতে এক ঘোষণাই যথেষ্ট। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম, জমি কেনার জন্য ব্যাংক লোনের সুযোগ দিতে। সরকার বিভিন্ন খাতের জন্য জমি বরাদ্দ দিচ্ছে। এ রকম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি বরাদ্দ দিলে একদিকে সরকার উপকৃত হবে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান আমাদের সময়কে বলেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো আগ্রহ দেখা যায় না। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, একটি ভবন নির্মাণের জন্য সরকারের অন্তত দশ-বারোটি দপ্তরের অনুমোদন নিতে হয়। এতে অনেক সময় ক্ষেপণ হয়। কারো ভবন নির্মাণ হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে না। নিজস্ব জমির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ না থাকায় অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারছে নাÑ এ ধরনের নানাবিধ কারণে আইনের ব্যত্যয় ঘটে।

আবদুুল মান্নান আরও জানান, সর্বশেষ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শন করে একটি কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। কোনটির কী অবস্থায় আছে তার জন্য কী করণীয় কমিটি সুপারিশ করেছে। সেই অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও শিক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

সনদপত্রের শর্তপূরণে ব্যর্থতার ফল : আইনের ১২ ধারায় উল্লেখ রয়েছেÑ ১. কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক অনুমতিপত্রের মেয়াদের মধ্যে বা, ক্ষেত্র মতো, নবায়নকৃত সাময়িক অনুমতিপত্রের মেয়াদের মধ্যে সনদপত্রের জন্য আবেদন করতে ব্যর্থ হইলে, অথবা সনদপত্র প্রাপ্তির জন্য ধারা ৯-এর কোনো শর্ত পূরণে ব্যর্থ হইলে, উক্ত সাময়িক অনুমতিপত্র বা ক্ষেত্রমত, নবায়নকৃত সাময়িক অনুমতিপত্রের মেয়াদ অবসানের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও শিক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

তবে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান প্রোগ্রাম বা কোর্সের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ কার্যকর হওয়ার আগে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক অনুমতিপ্রাপ্ত, যারা ইতোমধ্যে স্থায়ী সনদ গ্রহণ করেননি, তাদের এই আইনের ধারা ৯-এর শর্ত পূরণ করে স্থায়ী সনদ গ্রহণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সনদপত্র গ্রহণ না করলে উক্ত সময়সীমার পর সরকার উক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক অনুমতিপত্র বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করতে পারবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে