কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা হচ্ছে

  সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পর্যটন মৌসুম শুরুর দুই মাস পর ১৩ নভেম্বর চালু হলো সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচল। এর মধ্য দিয়ে পুরো কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল, বার্মিজ মার্কেট, নানা বিপণিবিতান, পরিবহন সেক্টরসহ সব পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। প্রথম দিনেই জাহাজে করে সেন্টমার্টিন গেছেন তিন শতাধিক পর্যটক। সেখানে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

কিয়ারী জাহাজের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার এস এম আবু নোমান জানান, প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অধিকাংশই ঘুরতে যান দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ মেন্টমার্টিনে। এ সময় প্রতিদিন ৫ হাজারেরও বেশি পর্যটক সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াত করে থাকে। মধ্য অক্টোবর থেকে এ রুটে চালু হয় পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। কিন্তু এ বছর গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারে সৃষ্ট সহিংসতার জেরে নিরাপত্তাজনিত কারণে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি না পাওয়ায় মৌসুম শুরু হলেও চালু করা সম্ভব হয়নি জাহাজ। তবে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি প্রদান করে। এর পর নানা আনুষ্ঠানিকতার পর ১৩ নভেম্বর থেকে এ রুটে শুরু হয় জাহাজ চলাচল। এতে খুশি এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। তারা বলছেন, জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কক্সবাজারের পুরো পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

ট্যুর অপারেটস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) আহ্বায়ক এম এ হাসিব বাদল জানান, অধিকাংশ পর্যটক বেড়াতে আসে সেন্টমার্টিনকে টার্গেট করে। কিন্তু পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল না হওয়ায় এবার কক্সবাজারে তেমন পর্যটক আসেনি। জাহাজ চলাচল শুরুর খবর প্রচার হওয়ার সঙ্গে পর্যটকদের আগমন বেড়েছে। প্রথম দিনেই তিন শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছেন। জেলার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকের আনাগোনা বেড়েছে।

হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু কাশেম সিকদার জানান, কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসা সম্পূর্ণ পর্যটকের ওপর নির্ভরশীল। এতদিন পর্যটক নানা আসায় ব্যবসা মারাত্মক মন্দা গেছে। জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় আশা করি পর্যটক আসা শুরু করবে। এরই মধ্যে উপস্থিতিও লক্ষ করা যাচ্ছে। তাই সব ধরনের পর্যটন ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা সচল করতে শুরু করেছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে।

সেন্টমার্টিনের হোটেল ব্যবসায়ী কেফায়েত খান জানান, সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ মানুষ পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। এতদিন তারা পর্যটকের জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় ছিলেন। জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় তাদের সেই অপেক্ষায় অবসান ঘটেছে। পর্যটক আসায় সেন্টমার্টিনে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টসহ দ্বীপের সব মানুষের মধ্যে আনন্দ ভাব বিরাজ করছে। প্রথম জাহাজে আসা তিন শতাধিক পর্যটককে ফুল দিয়ে বরণ নেওয়া হয়।

কক্সবাজার বৃহত্তর বীচ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান জানান, কক্সবাজার সৈকতের সব ধরনের ব্যবসাই পর্যটকনির্ভর। দুমাস আগে মৌসুম শুরু হলেও পর্যটক আসেনি। তাই এতদিন ব্যবসাও হয়নি। সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় এবার আশা করি পর্যটক আসবে। তাই ব্যবসাও সচল করছে সবাই।

কক্সাবজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাহিদুর রহমান বলেন, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে নাফ নদের বেশ কয়েকটি স্থানে ডুবন্ত চর জেগে ওঠায় জাহাজ চলাচলে বিঘœ ঘটে। এতে ওইসব স্থানে জাহাজগুলোকে নাফ নদীর শূন্যরেখা পেরিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তর দিয়ে চলাচল করতে হয়। বিগত বছরগুলোতে এ নিয়ে কোনো সমস্যা না হলেও এ বছর রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে সব প্রক্রিয়া শেষে ১৩ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় পুরো পর্যটন সেক্টর থমকে থাকে। এ পরিস্থিতিতে ট্যুর অপারেটস অব কক্সবাজারের (টুয়াক) পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে জাহাজ চলাচলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। এ আবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় কয়েকবার বৈঠকের পর জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে