সওজের জমিতে বিএনপি কর্মীর মাছের আড়ত

  প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া

১৯ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলাদিপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি দখল করে বিএনপির এক কর্মী অবৈধভাবে মাছের আড়ত স্থাপন করেছেন। গত ৪ আগস্ট ‘আল্লাহর দান’ নামের সেই আড়ত উদ্বোধন করেছেন শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক। ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি হয়ে সড়কের জমি দখল করে নির্মিত অবৈধ মাছের আড়ত উদ্বোধন করায় দলের অভ্যন্তরে সমালোচনার ঝড় বইছে। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না। এদিকে অবৈধ মাছের আড়তের কারণে পাঁচটি হাটের রাজস্ব আয় কমে গেছে। গত ২৯ অক্টোবর উপজেলার মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় ইউপি চেয়ারম্যানরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবৈধ আড়তটি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানালেও দীর্ঘ ২০ দিনেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে হাটের ইজারদারদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে আড়ৎ স্থাপনের ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বগুড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, খুব শিগগিরই অবৈধ আড়তটির বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের শিবগঞ্জ উপজেলার আলাদিপুর মাদ্রাসার পূর্ব পাশে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিএনপির সক্রিয় সদস্য ইসাহাক আলী (ইসা মেম্বর) গত ৪ আগস্ট ‘আল্লাহর দান’ নামে মৎস্য আড়তটি স্থাপন করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক এটি উদ্বোধন করেন।

অভিযোগ জানা গেছে, ইসা মেম্বর সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি দখল করে আড়তটি স্থাপন করেছেন। আড়তে ১৭টি শেডঘর (মাছ বিক্রির ছোট ঘর) করেছেন। সামনে সড়ক ও জনপথের পুরো জমি ব্যবহার করছেন তিনি। এই আড়তে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় থেকে আট লাখ টাকার মাছ পাইকারি বেচাকেনা হয়। আশপাশের প্রায় ২০টি এলাকা থেকে এ আড়তে শত শত মণ মাছ আসে। এ আড়ত থেকে যা আয় হয়, তা তিনি পুরোটাই নিয়ে নেন। আয়ের একটি অংশ স্থানীয় প্রভাশালীদের দেওয়া হয়।

মোকামতলা ও উথলী হাটের ইজারদার ওমর ফারুক জানান, ২ নভেম্বর বিষয়টি লিখিতভাবে ইউএনওকে জানানো হলেও তিনি ১৫ দিনেও কোনো ব্যবস্থা নেননি।

তিনি বলেন, অবৈধ ওই আড়তের জন্য তার ইজারা নেওয়া দুটি হাটে মাছের আমদানি নেই বললেই চলে। কোনো ক্রেতা এবং পাইকার আসছে না হাটে। অচিরেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তিনি আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ রিজু জানান, ২৯ অক্টোবর সমন্বয় কমিটির সভায় সব ইউপি চেয়ারম্যান একজোট হয়ে অবৈধ আড়তটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনও এবং সহকারী কমিশনারের (এসিল্যা-) কাছে দাবি জানানোর পরেও কেন আড়তটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা বোধগম্য হচ্ছে না।

অভিযোগ প্রসঙ্গে আড়তের স্বত্বাধিকারী ইসাহাক আলী মেম্বার সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে বলেন, মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নে আড়তটি লাগানো হয়েছে। এখানে কোনো চাঁদা বা জমা আদায় করা হয় না বলে দাবি করেন তিনি।

বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) তালিমুল হক জানান, বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আলমগীর কবির বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগুড়া জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক সুফিয়া নাজিম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই, তবে খোঁজ নিয়ে তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে