রসিক নির্বাচন

ভোটের দুদিন আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নামানোর পরিকল্পনা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) নির্বাচন ২১ ডিসেম্বর। ভোটগ্রহণের দুই দিন আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাঠে নামাতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের আগে ও পরে চার দিন পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদের মাঠে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আজ রবিবার নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে ইসি সচিবালয় এ সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবে। ইসি সূত্র আমাদের সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ১৯ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। রসিকে দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো ভোট হওয়ায় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বেশিসংখ্যক পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসার, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হতে পারে।

ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্ম সচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, এ নির্বাচনে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ২২ জন ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২৪ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রাখা যেতে পারে। সর্বশেষ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত ছিল।

পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে মোবাইল ফোর্স এবং প্রতিটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। র‌্যাবের ৩৩টি টিম, বিজিবির ১৭ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হবে। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ভোটের দুই দিন আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরে একদিন সব মিলিয়ে চার দিন মাঠে থাকবে।

জানা গেছে, রসিক নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি তদারকির জন্য ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষে প্রচার শুরু হলেই প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী মাঠে নামার পর তাদের নেতৃত্বেও থাকবেন তারা। এ সময় ১১ জন বিচারিক হাকিমও নিয়োজিত করবে ইসি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাসহ রিটার্নিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন-পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ছক চূড়ান্ত করা হবে।

আজকের বৈঠকে মহাপুলিশ পরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক, জেলা প্রশাসক রংপুর, বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার, রংপুর পুলিশ সুপার, রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং র‌্যাব ১৩-এর অধিনায়কসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিত থাকতে গত ৯ নভেম্বর চিঠি দেয় ইসি।

২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো রসিকে নির্বাচন হয়। পাঁচ বছর আগে ভোটার ছিল ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪২ জন। বর্তমানে এই সিটিতে ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪২১ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ৩৩ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১১টি। ভোটকেন্দ্র ১৯৩টি।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে