x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিপিএল এর পঞ্চম আসরের শিরোপা জিতল রংপুর রাইডার্স। মাশরাফির হাতে চতুর্থ ট্রফি

কেমিক্যালপল্লী স্থাপন ঝুলে আছে ৭ বছর

  গোলাম রাব্বানী

২০ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৭, ০১:১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিমতলী দুর্ঘটনার সাত বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো সুরাহা হয়নি পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন অন্যত্র স্থানান্তরের কাজ। ২০১৫ সালে কেরানীগঞ্জের সোনাবান্দায় ২০ একর জমিতে কেমিক্যালপল্লী গঠনের কথা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতিতে ওই জমি আইটি পার্কের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে আবার পিছিয়ে পড়ে কেমিক্যালপল্লী স্থানান্তরের প্রক্রিয়া। সর্বশেষ ১৩ নভেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিকের কর্মকর্তারা পরিকল্পনা কমিশনে দ্বিতীয় দফা বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি (ডিপিপি) করে জমা দেন। এ প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নে পরিকল্পনা কমিশন মৌখিকভাবে বলেছে। ডিপিপিতে নতুন এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৬ কোটি টাকা। প্রকল্পে আগের চেয়ে জমির পরিমাণ আড়াই গুণ বাড়িয়ে ৫০ একর করা হয়েছে। প্রকল্পে প্রায় ৯১৪টি প্লট বরাদ্দ করা হবে। ‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন’ সংগঠনের কর্মকর্তাদের মতে, পুরান ঢাকায় প্রায় ২৫ হাজার কেমিক্যাল গোডাউন আছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজারই আবাসিক ভবনে অবস্থিত। এগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) রাজস্ব বিভাগের ট্রেড লাইসেন্স শাখার তথ্যানুযায়ী, পুরান ঢাকায় মাত্র আড়াই হাজার কারখানার ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সাড়ে ২২ হাজার কারখানাই অবৈধ। এর ফলে মাত্র ৯১৪টি প্লট দিয়ে পুরান ঢাকার সব কেমিক্যাল গোডাউন স্থানান্তর করা যাবে কিনা সে বিষয়েও আশঙ্কা করছে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা একাধিক সংস্থা ও সংগঠন।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু জানান, কেমিক্যালপল্লী স্থাপনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আলোচনা করে কেমিক্যালপল্লী স্থাপনের জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুতই পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদাম ও কারখানা স্থানান্তর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে।

এফবিসিসিআই স্ট্যান্ডিং কমিটি অন কেমিক্যাল, পারফিউমারি অ্যান্ড অ্যাসিডের চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, কেমিক্যালপল্লী ছাড়া রাসায়নিক গুদাম স্থানান্তর সম্ভব নয়। শুরুতে শিল্প মন্ত্রণালয় বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে বিস্ফোরক এ পদার্থ রাখার প্রস্তাব দেয়; কিন্তু তাতে আরও বেশি দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে আলাদা প্লট চাওয়া হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় প্লট তৈরি করে বরাদ্দ দিলে ব্যবসায়ীরা দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণ করে স্থাপনা স্থানান্তর করবে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের পর কেমিক্যাল গোডাউন দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ২০১১ সালে উদ্যোগ গ্রহণের পর নানা কারণে কেমিক্যালপল্লী তৈরির কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। প্রথমে এই দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের থাকলেও জমি অধিগ্রহণের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা এ বিষয়ে অপারগতা জানায়। এরপর এ দায়িত্ব শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা বিসিককে দেওয়া হয়।

২০১১ সালের জুনে বিসিক চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে কেমিক্যালপল্লীর জন্য জায়গা নির্ধারণে কমিটি করা হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবকে সভাপতি করে টেকনিক্যাল কমিটিও গঠন করা হয়। অননুমোদিত কেমিক্যালের দোকান, গুদাম ও কারখানা অপসারণে কমিটির কার্যপরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমাত্রার দাহ্য পদার্থ শনাক্ত করতে করা হয় ৩টি সাব-কমিটি। ২০১২ সালে জায়গা নির্ধারণ কমিটি চারটি জায়গার প্রস্তাব দিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। তারপর কয়েক বছর কেমিক্যাল পল্লী নির্মাণের প্রক্রিয়া ঝুলে থাকে। এরপর বিসিক ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি (ডিপিপি) করে। সে লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জের সোনাকান্দা মৌজায় ২০ একর জমিতে ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কেমিক্যালপল্লী নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। এতে সাত তলাবিশিষ্ট ১৭টি সুপার স্ট্রাকচার ভবন তৈরি করে সেখানে কেমিক্যাল গুদাম ও দোকান সরানোর পরিকল্পনা ছিল। আর ওই প্রকল্পের ব্যয় ব্যবসায়ীদের বহন করার কথা। সেজন্য গতবছরের মাঝামাঝি প্রকল্প নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীরা তাতে আপত্তি তোলে। কারণ তারা অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে রাজি নয়। এছাড়া উঁচু ভবনে কেমিকেল রাখা ঝুঁকি বলে দাবি করে। পরে ব্যবসায়ীরা প্লট দাবি করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিসিকের ওই ডিপিপি বাতিল করে দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়। পরে নতুন করে কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও মৌজায় কেমিক্যালপল্লী স্থাপনের সম্ভব্যতা যাচাই করা হয়।

সূত্র জানায়, কেমিক্যাল পল্লীর প্রথম ডিপিপির চার হাজার ইউনিটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমানে ৯১৪টি প্লটে নিয়ে আসা হয়েছে।

এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিক কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, কেমিক্যাল সংশ্লিষ্ট তিনটি সংগঠনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়। বৈঠকে বিসিকের সব প্রস্তাবে সংগঠনগুলোর নেতারা সায় দিলেও পরে কোনো ধরনের সমঝোতা করতে রাজি হননি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে