রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে এনজিওর মদদ

  পলাশ বড়–য়া, উখিয়া

২০ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৭, ০১:১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জের ধরে ২৫ আগস্ট থেকে ব্যাপকভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হয় বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, এখন পর্যন্ত ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। আর এসব রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে দেশি-বিদেশি এনজিওর মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমারে সংঘাত সৃষ্টির আড়াই মাস পরও যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রতিদিন সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব সংস্থার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় রোহিঙ্গারা এখনো মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশমুখী হচ্ছে। বিশেষ করে ইতালিয়ান এনজিও মুয়াসসহ এমএসএফ, ইউএনএইচসিআরের মতো সংস্থা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা এনজিওগুলোর সহযোগিতায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে তাদের আত্মীয়স্বজনকে ডেকে আনছে বাংলাদেশে।

রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে ইন্ধন দেওয়ার ব্যাপারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। শুরু হয়েছে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা এনজিওগুলোর কার্যক্রম তদারকি।

এ ব্যাপারে দেশি-বিদেশি কয়েকটি এনজিওর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও কেউই কথা বলতে রাজি হননি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে মানবিক সহায়তা করা আমাদের দায়িত্ব। তবে এনজিও ব্যুরো থেকে অনুমোদন নিয়ে প্রায় ৭৮টি আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য, শেল্টার ও স্যানিটেশনে স্থানীয় কিছু এনজিও কাজ করছে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে সহায়তা করা হচ্ছেÑ কোনো এনজিওর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওগুলোর কার্যক্রম তদারক করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান রবিন চৌধুরী বলেছেন, এখনো পর্যন্ত নতুন করে রোহিঙ্গা আসার পেছনে বেশ কিছু এনজিও কাজ করছে বলে অভিযোগ আছে। আমরা সে ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি।

বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করছে আইওএম, ইউএনএইচসিআর, এসিএফ, সেভ দ্য চিলড্রেন, এমএসএফ হল্যান্ড, এমএসএফ হাঙ্গেরি, ডব্লিউএফপি, এসিএফ লাফা, শেড, ব্র্যাক, অক্সফাম, সিজেডএম, রেড ক্রিসেন্ট, টিকা, কোস্ট, পাল্স বিডি, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড, এনজিও ফোরাম, রিলিফ ইন্টারন্যাশাল, আল্লামা ফজলুল হক ফাউন্ডেশন, আহছানিয়া মিশন, কোডেক, মুক্তি, হেলপ কক্সবাজার, খ্রিস্টান এইড, ওয়াটার এইড ও কারিতাস, নাম না জানা আরও এনজিও।

জানা যায়, গত ৬ নভেম্বর রাতে কুতুপালং লম্বাশিয়া ও মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৫ বিদেশিসহ এনজিও কর্মী নামধারী ২৬ জনকে আটক করে। তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা উত্তরার মারকাজুল মাদ্রাসার শিক্ষক পরিচয়দাতা মৌলভী আবদুল্লাহ, শুক্কুর আলী, টঙ্গীর আল আমিন, নরসিংদীর মাওলানা ইউসুফ ও মনির হোসন। তারা কুতুপালং মধুরছড়া ও লম্বাশিয়া পাহাড়ি এলাকায় মদিনা পাহাড় নাম দিয়ে মাদ্রাসা ও মক্তব স্থাপন করছেন। তাদের অর্থের উৎস সম্পর্কে পুলিশকে কিছুই জানাতে পারেনি তারা। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ রোহিঙ্গা শিবিরে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ এনেছে। তাদের সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে।

৬ নভেম্বর রাতে আটককৃতদের মধ্যে ছিলেন কুতুপালং লম্বাশিয়া এলাকার একজন ইউপি সদস্যের ছেলে হেলালউদ্দিন (৩৫)। তার নেতৃত্বে ক্যাম্পে এনে রোহিঙ্গাদের সেবার নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ওই দিন প্রশাসনের যৌথ অভিযানকালে হেলালউদ্দিন পালিয়ে গেলেও মিয়ানমার থেকে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য এনজিওর মাধ্যমে তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

হেলালকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকায় নজরদারি করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, শুধু অনুমোদিত এনজিওগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করছে। তাদের আমরা নিয়মিত মনিটর করছি। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে সহায়তা করছে এমন কোনো এনজিওর তথ্য আমার হাতে নেই। তবে ক্যাম্পে শুধু মানবিক সহায়তায় কাজ করবে, এর বাইরে কোনো কাজ করতে পারবে না এনজিওগুলো।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে