বিধি লঙ্ঘন করে পদায়ন চেষ্টার অভিযোগ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:৫২ | প্রিন্ট সংস্করণ

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলীকে পদায়নের আবেদনপ্রাপ্তির একদিনের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া শেষ করে এসএসবি ফাইল প্রস্তুত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অভিযোগ উঠেছে, দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কিছু কর্মকর্তা বিশেষ সুবিধা নিয়ে বিধিমালা ভঙ্গ করে ওই প্রকৌশলীকে পদায়নের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান আমাদের সময়কে বলেন, গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর এসএসবির ফাইলটি প্রক্রিয়াধীন। এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি। পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা খতিয়ে দেখব।

তড়িঘড়ি করে একই দিনে ফাইল প্রস্তুতের বিষয়ে সচিব বলেন, এটি তো ভালো কথা। সরকারি একটি দপ্তর দ্রুততার সঙ্গে কাজটি সম্পাদন করায় সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গতকাল রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সভায় ফাইলটি মন্ত্রীর টেবিলে তোলা হয়। ফাইলটি অনুমোদন করে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের জন্য তার দপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানা গেছে। ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থা/করপোরেশনের প্রধানের পদকে গ্রেড-১ এবং গ্রেড ২-এ উন্নীতকরণসংক্রান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত পদগুলোর মধ্যে ৩০টি পদকে গ্রেড-১ এবং ২০টি পদকে গ্রেড ২-এ উন্নীত করার কথা বলা হয়। গত ৭ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পদটিকে গ্রেড ১-এ উন্নীত করে পরিপত্র জারি করে। পরের দিনই সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম নিজের গ্রেড উন্নয়নের আবেদন করেন। একই দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানতে চায়, মাত্র আড়াই মাসের মাথায় তিনি কীভাবে এ আবেদন করলেন এবং এটি পাওয়ার কি যৌক্তিকতা আছে কিনা। একই সঙ্গে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-২) পদে চাকরির বয়স, তাকে গ্রেড ১-এ পদোন্নতি প্রদান করতে হলে ফেডার পদে (গ্রেড-২) চাকরির অভিজ্ঞতা পরিমার্জন করতে হবে কিনা, এসবও জানতে চাওয়া হয়। পাশপাশি প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) পদ উন্নীতকরণসংক্রান্ত প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের জিও এবং সংশোধিতব্য নিয়োগ বিধির কপি দাখিল করতে বলা হয়। জবাবে গত ১৩ নভেম্বর প্রধান প্রকৌশলীর পদটি গ্রেড ১-এ উন্নীত হয়েছে বিধায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে এই গ্রেডে পদোন্নতি করা যেতে পারে বলে জানায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কিন্তু জনপ্রশাসনের দাবি অন্য প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। এর পরও ১৩ নভেম্বর জবাবসহ সব ফাইল অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালীন গ্রেড ৩-এর কর্মকর্তা ছিলেন রফিকুল ইসলাম। প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর গত ৩১ জুলাই তিনি গ্রেড ২-এ উন্নীত হন। কারণ গ্রেড ১-এ পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলী পদে চাকরির আগের এক বছর এবং বর্তমান পদে চাকরির গত তিন মাসের এসিআর জমাদান বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে কিনা, তা জানাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হালনাগাদ প্রতিবেদন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার (এনএসআই), ডিজিএফআই/এসবির প্রতিবেদন থাকাটাও জরুরি। কিন্তু এসএসবিসংক্রান্ত আবেদনে এসব তথ্য নেই বলে জানা গেছে। এর পরও বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে পদোন্নতির এসএসবি ফাইলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের চেষ্টা চলছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে